১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয় ॥ প্রধানমন্ত্রী


আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয় ॥ প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ ॥ বিদ্রোহের মতো আত্মঘাতী সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার সকালে পিলখানায় বাহিনীর সদর দফতরে বিজিবি দিবস-২০১৫ এর অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই পিলখানায় বিডিআর বাহিনীতে বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে। ওই বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন প্রাণ হারান।

রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর দায়ীদের শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি খোলনলচে বদলে দেয়া হয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে।

বাংলাদেশ রাইফেলস্ (বিডিআর) বাহিনীর নাম বদলে হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পোশাকও পরিবর্তিত হয়।

বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে বাহিনীর ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় সরকার গঠনের পর পরই বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আমাকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল। আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সেদিনের সঙ্কটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। আপনাদের কঠোর পরিশ্রমে এই বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সদা সতর্ক থাকবেন, ভবিষ্যতে কখনও এ ধরনের আত্মঘাতী সংঘাত যেন সৃষ্টি না হয়।’

সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার এবং মানুষের আস্থা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা স্বাধীনতাযুদ্ধে এই বাহিনীর ৮১৭ সদস্যের শহীদ হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাহিনীর ১২ হাজার বাঙালী সদস্যের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার কথাও বলেন তিনি।

একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তখনকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সারাদেশে প্রচারের কথাও স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজিবি আগের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা দেখিয়েছে। বিজিবির ‘কঠোর অবস্থানের’ ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদকপাচার, নারী-শিশু পাচার ‘বহুলাংশে’ হ্রাস পেয়েছে।

উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজিবিকে একটি দক্ষ, চৌকস, কৌশলী ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তিশালী করে বর্ডার সিকিউরিটি ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত ১৫টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৩টি স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পর ২২ হাজারেরও বেশি জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবির নিজস্ব এয়ার উইং সৃজনের কাজ পূর্ণগতিতে এগিয়ে চলছে।’

বিজিবিতে এ বছরই প্রথমবারের মতো ১০০ নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী সকালে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী এসে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫৬ জনকে পদক প্রদান করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের ট্রিক ড্রিল ও ডগ ড্রিল প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও ও খাগড়াছড়িতে নবনির্মিত তিনটি ৫০ শয্যার বর্ডার গার্ড হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সীমান্ত ব্যাংকের লোগো উন্মোচন করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান সীমান্ত ব্যাংকের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বিজিবি মহাপরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেন।

এরপর বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে দরবারে তাদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরলে সেগুলো শুনে প্রধানমন্ত্রী তা বিবেচনারও আশ্বাস দেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: