১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিরোপা জিতে ইতিহাসে বার্সিলোনা


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়েই জাপান মিশনে আসে বার্সিলোনা। অবশেষে প্রত্যাশিত সাফল্যই মিলেছে স্প্যানিশ পরাশক্তিদের। রবিবার ফাইনালে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ইউরোপিয়ান ও স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সিলোনা।

বার্সার হয়ে অনবদ্য নৈপুণ্যে প্রদর্শন করেন ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করা লুইস সুয়ারেজ ফাইনালেও করেছেন জোড়া গোল। শেষ চারে খেলতে না পারা দুই সুপারস্টার লিওনেল মেসি ও নেইমার ফাইনাল মঞ্চে খেলেছেন। দলের প্রথম গোলটিও করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মূলত মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ভর করে ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে তিনবার ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলল লুইস এনরিকের দল। এর আগে দুটি শিরোপা জিতে এতদিন রেকর্ডটি ভাগাভাগি করতে হচ্ছিল ব্রাজিলিয়ান ক্লাব করিন্থিয়ান্সের সঙ্গে। তবে এখন থেকে জ্বলজ্বল এককভাবে জ্বলবে বার্সার নাম। এই শিরোপা জিতে ২০১৫ সালটা স্বর্ণালী সাফল্য দিয়ে শেষ করল বার্সিলোনা। এই বছরে মোট পাঁচ শিরোপা শোকেসে ভরেছে তারা। স্প্যানিশ লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, স্প্যানিশ কোপা ডেল রে, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ। স্প্যানিশ সুপার কাপে না হারলে ২০০৯ সালে পেপ গার্ডিওলার পর আবারও এক বছরে ছয় শিরোপা জয়ের রেকর্ড হতো। তবে তা না হলেও যে সাফল্যে বছর শেষ হলো তাতেই মহাখুশি বার্সা। দলটির কোচ লুইস এনরিকে ম্যাচ শেষে বলেছেন, আমরা অসাধারণ একটা বছর শেষ করলাম। এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভাল করতে অনুপ্রাণিত করবে।

২০১১ সালে শেষবার বার্সিলোনা যখন ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল তখন মেসি আর নেইমার ছিলেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। মেসির বার্সা খেলেছিল নেইমারের সান্টোসের বিপক্ষে। এবার দুজনই লড়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সঙ্গে লুইস সুয়ারেজও জ্বলে উঠেছিলেন দারুণভাবে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বার্সার প্রথম গোল আসে মেসি-নেইমারের দারুণ সমন্বয়ের ফসল হিসেবে। নেইমারের হেড থেকে বল পেয়ে সেটা জালে জড়াতে কোন ভুল হয়নি আর্জেন্টাইন তারকার। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ৪৯ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন সুয়ারেজ। ৬৮ মিনিটে সুয়ারেজের দ্বিতীয় গোলের নেপথ্য কারিগরও নেইমার। তাঁর ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ। গোল না পেলেও ম্যাচে তাই অপ্রতিরোধ্য ছিলেন নেইমার।

গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পর এবারের মৌসুমের শুরুতেই বার্সা জিতেছিল উয়েফা সুপার কাপ। স্প্যানিশ সুপার কাপে এ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে না হারলে বছরটা আরও স্মরণীয় হতে পারত কাতালানদের। প্রথম দল হিসেবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের তৃতীয় শিরোপা জেতা বার্সা আগের দুটি ট্রফি জিতে ২০০৯ ও ২০১১ সালে। কুঁচকির চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমার ও অসুস্থতার কারণে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা মেসিকে ফিরে পেয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই আধিপত্য ধরে রাখে বার্সিলোনা। রিভার প্লেট মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠলেও সুবিধা করতে পারেনি। মাত্রই চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে ম্যাচের শেষ দিকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে। ৬১ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

অন্যদিকে চীনা ক্লাব গুয়াংজু এভারগ্র্যান্ডেকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয়েছে স্বাগতিক জাপানী ক্লাব সানফ্রান্সে হিরোশিমা। বিজয়ী দলের হয়ে দুটি গোলই করেন ডগলাস ম্যাচের ৭০ ও ৮৩ মিনিটে। গুয়াংজুর হয়ে পাউলিনহো একটি গোল পরিশোধ করেন।