২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মূল লড়াইয়ে আ’লীগ-বিএনপি


বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ পৌষের কনকনে শীতেও ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে সিরাজগঞ্জের ছয়টি পৌর নির্বাচনী এলাকা। মূল শহর এবং শহরতলিতে এখন সমানতালে চলছে প্রার্থী এবং প্রার্থীর সমর্থকদের সভা-সমাবেশ এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট চাওয়ার পালা। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী যত থাকুক না কেন মূলত সব ক’টি পৌরসভায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। কাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে পদত্যাগী নাসিম ভক্ত হিসেবে পরিচয়দানকারী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক প্রার্থী রয়েছেন, যারা দলীয় প্রতীক ছাপিয়ে ব্যক্তি ইমেজে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের পৌরসভায় দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তার পক্ষে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক অনেক নেতাকর্মী মাঠে নেমেছেন। তারা ভোট চেয়েছেন নৌকা মার্কার পক্ষে। এবারের নির্বাচনে প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- জামায়াত ২০ দলীয় জোটের। গত পৌরসভা নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ৬টি পৌরসভায় বেলকুচি পৌরসভা বাদে সব ক’টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেরেছিল। এবারে আওয়ামী লীগ তাদের সরকারের উন্নয়ন, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, চাল,ডাল,তেল আটাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পৌর নির্বাচনে ভোটারকে কাছে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অপরদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট জনপ্রিয়তা যাচাইসহ তাদের আসন সুরক্ষা করতে চায়।

তবে এখনও ভোটের মাঠে প্রচারে নৌকার যে জোয়ার উঠেছে, সে তুলনায় ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচার কম। ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য মেয়র পদপ্রার্থীরাও মাঠে নেমেছেন কোমর বেঁধে। বিএনপির জেলা পর্যায়ের একজন নেতার কাছে ভোটের সামগ্রিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি মুখে আঙ্গুল দিয়ে চুপ মেরে যাবার ঈঙ্গিত দিয়ে বললেন- আমি কিছু বলব না। তার মানে কী তারা ভোটের বাক্সে নীরব বিপ্লব ঘটাতে চান? আসলে কী সেই পরিস্থিতি তারা তৈরি করতে পেরেছেন। তাদের দলের নেতাকর্মীরা এখনও অনেকেই জেলে। অনেকের নামেই মামলা রযেছে। কেন্দ্রীয় নেতারা উল্লেখযোগ্য কেউ এখনও নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি। তারা কী নির্বাচনী মাঠে থেকে জনগণের ভোট তাদের বাক্সে নিতে পারবেন। এমনটাই প্রশ্ন সর্বত্রই। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে অনেক প্রার্থী পার পেয়ে যাবেন নির্বাচনী বৈতরণী। মন্ত্রী, এমপি সরাসরি ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের ইশারা ইঙ্গিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী মাঠে দাঁড়িয়ে সরকারের উন্নয়নের কথা বলছেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের বোমাবাজি, সন্ত্রাস এবং আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে খুনের কথা বলে ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সেই সঙ্গে তাদের যোগ্য প্রার্থীর কথাও বলছেন।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ॥ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীর সংখ্যা সাত। এরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা (নৌকা), বিএনপি জোটের এ্যাডভোকেট এম মোকাদ্দেস আলী (ধানের শীষ), জাসদ মনোনীত এ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম মুকুল (মশাল), জাতীয় পার্টি মনোনীত মির্জা ফারুক আহমেদ (লাঙ্গল),বাসদ মনোনীত নব কুমার কর্মকার (মই), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত সাইফুল ইসলাম (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী টি,আর,এম, নূর ই আলম হেলাল (মোবাইল ফোন)। জেলা সদরের এই পৌরসভায় ১৫ ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৯ শ’ ৩৩। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী।

কাজীপুর পৌরসভা ॥ মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা তিন। এরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নিজাম উদ্দিন (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মাসুদ রায়হান মুকুল (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম (নারিকেল গাছ), মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে।

রায়গঞ্জ পৌরসভা ॥ মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা তিন। এরা হচ্ছেন- মোশারফ হোসেন আকন্দ (মোবাইল ফোন), আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ পাঠান (নৌকা) এবং বিএনপির নূর সাঈদ সরকার (ধানের শীষ)। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে।

উল্লাপাড়া পৌরসভা ॥ মেয়র পদের প্রার্থীর সংখ্যা ২। এরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনী নজরুল ইসলাম (নৌকা) এবং বিএনপি মনোনীত বেলাল হোসেন (ধানের শীষ)।

বেলকুচি পৌরসভা ॥ মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা তিন। এরা হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত আমানুর বিশ্বাস (নৌকা) বিএনপি মনোনীত আল আমিন ভূইয়া (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম( হাতপাখা)। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে।

শাহজাদপুর পৌরসভা ॥ মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচ।

এরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত হালিমুল হক মিরু (নৌকা), বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত রফিকুল ইসলাম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নুরুল হক ((হাতপাখা) এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম (নারিকেল গাছ)।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। ৯ ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৫ হাজার ৮শ’ ৫৬।