২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চট্টগ্রামের পাঁচ সরকারী কলেজে পাঠদান চরম ব্যাহত


মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে সরকারী কলেজগুলোতে পড়ালেখার বালাই নেই। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে যতটুকু পড়ালেখা হচ্ছে তার এক-দশমাংশও হচ্ছে না ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর শ্রেণীতে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাশ প্রোগ্রামের দোহাই দিয়ে চট্টগ্রামের ৫টি সরকারী কলেজে পাঠদান প্রায় বন্ধের পথে। প্রতিটি বর্ষ সমাপনী পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষায়ও চলছে নানা টালবাহানা। শ্রেণী পাঠ্যক্রম সাসপেন্ড করে আকস্মিক নির্বাচনী পরীক্ষার রুটিন প্রদানের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনাকে দায়ী করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজগুলোর পাঠদানে নানা অনিয়ম বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করলেও সাড়া দিচ্ছে না সরকারী কলেজগুলো এমন অভিযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টরের।

অভিযোগ রয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে ¯œাতক (পাস ও সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাস শুরুর নির্ধারিত দিন ধার্য করে দেয়। কিন্তু সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে শ্রেণীর কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। আবার ক্রাশ প্রোগ্রামের যে সিডিউল তৈরি করা হয়েছে সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ বিভিন্ন শ্রেণী ও বর্ষের ক্লাস শুরু, ফরম পূরণ ও চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশের যেসব তারিখ প্রকাশ করেছে তার একাংশও কার্যকর হচ্ছে না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরীক্ষা পেছানোসহ শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার নোটিস প্রদান করছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। ক্রাশ প্রোগ্রামের রুটিন অনুযায়ী ২০১৪ সালের প্রথমবর্ষ ¯œাতক পাস কোর্সের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা পিছিয়ে ১৯ নবেম্বর থেকে পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে এই শিক্ষাবর্ষের। আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী রয়েছে বলে বিবিএস কোর্সের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে বিএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হতে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এদিকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শ্রেণী কার্যক্রম সরকারী কলেজগুলোতে নিয়মিত হলেও শিক্ষকরা কোচিং নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে কলেজ চলাকালে কলেজের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কটেজ ও ব্যাচেলর কোয়ার্টারে এমনকি এ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করেও কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন শিক্ষকরা। চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, সরকারী বাণিজ্য কলেজ, সরকারী সিটি কলেজ ও সরকারী মহিলা কলেজের আশপাশেই শিক্ষকরা চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং ব্যবসা।

চট্টগ্রাম নগরীর ৫টি সরকারী কলেজের দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে সরকারী কলেজগুলো ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ কখনও শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না পরীক্ষা ও রেজাল্টের বিষয়ে। পরীক্ষা কার্যক্রম বিশেষ করে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে নির্বাচনী পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতেই হয়ে থাকে। মাত্র এক সপ্তাহের নোটিসে নির্বাচনী পরীক্ষা নেয়ার ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ সালের ¯œাতক পাস কোর্সের শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজগুলোকে ক্লাস নেয়া ও বন্ধ করার কোন বর্ধিত সময় নিশ্চিত না করেই যে কোন মুহূর্তে চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচী দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষও অনন্যোপায় হয়ে আকস্মিক পরীক্ষা নেয়ার সময়সূচী দিতে বাধ্য হয়।

এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক ফয়জুল করিম জানিয়েছেন, সরকারী কলেজগুলো তাদের নিয়মনীতি মানতে চায় না। কোন বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও সেক্ষেত্রে পাত্তা দিতে চায় না সরকারী কলেজগুলো। বিভিন্ন সময়ে ভর্তি ও ফরম পূরণের অর্থ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সে অনুযায়ী কারণ দর্শাতে বলা হলেও কলেজগুলো সাড়া দেয় না।