১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জাতীয় নির্বাচনের আমেজ


দলীয় প্রতীকে জমে উঠেছে পৌরসভা নির্বাচন। দীর্ঘ ৭ বছর পর নৌকা ও ধানের শীষের ভোটযুদ্ধে বইছে যেন জাতীয় নির্বাচনের উৎসবের আমেজ। এর পাশাপাশি লাঙ্গল, মশাল, কাস্তে, হাতুড়িসহ নানা প্রতীকের ভোটযুদ্ধ। দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নানা কারণে আলোচনায় স্থান করে নিয়েছে। শুধু দলীয় প্রতীকই নয়, একই পদে স্বামী-স্ত্রীর লড়াই এমনকি কাউন্সিলর পদে এই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। হলফনামা অনুযায়ী মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থীদের বেশির ভাগই কোটিপতি। এদের মধ্যে ৩৩ জন সরকারী দল আওয়ামী লীগের এবং ৫৬ জন বিএনপির। কোন কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানান অভিযোগে মামলাও রয়েছে। কারও কারও কাছে নগদ টাকাই আছে কোটি টাকার বেশি। কিছু প্রার্থী আছেন যাদের সম্পদ, আয় ও ব্যাংকঋণের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এত অসঙ্গতির পরও নির্বাচন জমে উঠেছে। তবে প্রচারণার শুরু থেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো মন্ত্রী-এমপিদের বিধিলঙ্ঘন। এই ব্যাপারে নানা স্থানে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে কমিশন। আইনপ্রণেতারা যখন আইন লঙ্ঘন করেন তখন তা উদ্বেগজনক বৈকি। কারণ তাদের সৃষ্ট নেতিবাচক দৃষ্টান্ত বিধিলঙ্ঘনে প্রণোদিত করবে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদেরও। তবে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা যতটুকু না প্রশাসনের দায়িত্ব, তার চাইতে অনেক বেশি দায়িত্ব প্রার্থী কিংবা সমর্থকদের। এই ক্ষেত্রে প্রার্থীরা যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেকে ও কর্মী-সমর্থকদের এই আচরণবিধি লঙ্ঘন থেকে বিরত না রাখেন, তবে প্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা দুরূহ হয়ে যাবে।

জাতীয় নির্বাচনের মতোই রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিক পরিচিতি থাকলেও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কখনই ছিল না। প্রতীক ছাড়া নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি যুক্ত থাকত। এমনকি নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময়ও প্রার্থীদের দলীয় পরিচয়টি তুলে ধরা হতো। জানা গেছে, মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় উল্লেখিত পৌরসভার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কমিশন।

স্থানীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিরা দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। বিশ্বের বহু দেশেই দলীয় পরিচয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে স্থানীয় নির্বাচন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারবে। এ কথা সত্য, সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে স্থানীয় সরকারের ওপর। স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তাদের কাজে বাধা কম আসবে। কাজে গতি বাড়বে। তবে অনেক সময় স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নানা ধরনের অপরাধে জড়িত হন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে কমবেশি সহিংসতা হয়ে থাকে। নির্বাচন যাতে সহিংসতামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করা তথা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে সব প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবেন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দক্ষতার পরিচয় দেবে, নির্বাচন কমিশনও সব বিতর্কের উর্ধে উঠে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবে এমন প্রত্যাশা সবার।