২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রতীকী বিচার


‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’ শীর্ষক একটি সংগঠন গঠিত হয়েছে ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনার বিচারের জন্য। সংগঠনটি আগামী বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী সেনাদের প্রতীকী বিচারের আয়োজন করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ৫০১ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে আহ্বায়ক কমিটি। সংগঠনটি শুধু ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনার বিচারই করবে না, দেশটির কাছে বাংলাদেশের পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করবে, পাকিস্তান হাইকমিশনের ষড়যন্ত্রকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের কবর সরকারী জায়গা তথা সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ থেকে স্থানান্তর, সর্বোপরি জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমতও গঠন করবে। এ লক্ষ্যে ৩ ও ৬ জানুয়ারিকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচীসহ গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিককালে মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের ইস্যুতে পাকিস্তান সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তারা এর আগেও কাদের মোল্লা এবং কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এবারের প্রতিক্রিয়াটি ছিল খুবই তীব্র, বিদ্বেষপূর্ণ। সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে এক ধরনের অস্বীকার করার শামিল। পাকিস্তান ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় অস্বীকার করে। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার লিখিত প্রতিবাদ এবং ঢাকাস্থ পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে। দেশে জনমতও এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, যার রেশ এখনও অব্যাহত আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পর্কিত যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকন্তু বর্তমানে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের দু’জন কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গী নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ইস্যুতে দু’দেশের সম্পর্কে সৃষ্টি করেছে টালমাটাল পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে সিমলা চুক্তির আওতায় ক্ষমাপ্রাপ্ত ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিচার আজ সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, তৎকালে পাকিস্তান সরকার গঠিত হামুদুর রহমান কমিশনের প্রতিবেদনেও তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান কখনোই সেই অঙ্গীকার পূরণ করেনি।

১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক শহীদ জননী জাহানারা ইমামের গঠিত গণআদালতের আদলে অনুসরণ করা হবে বিচারপদ্ধতি। যেহেতু সরাসরি আদালত গঠনের এক্তিয়ার ও বিদেশী নাগরিকের বিচার করার অধিকার নেই সংগঠনটির, তবে ‘প্রতীকী বিচার’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিচারকদের সমন্বয়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনাদের পক্ষে আইনজীবীও থাকবে। প্রতীকী এই বিচারের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধীদের বিচারে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি।

বর্তমানে পাকিস্তানের অবস্থা এমনিতেই নাজুক। অব্যাহত জঙ্গী কার্যক্রম ও সন্ত্রাসী হামলায় পাকিস্তান এক রকম বিপর্যস্ত ও পতনোন্মুখ। সেনাবাহিনী ও আইএসআই নিয়ন্ত্রিত পাকিস্তানের সরকার ব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ও ভঙ্গুর। সে অবস্থায় এই রাষ্ট্রটির বোধোদয় যে আর কবে ঘটবে, কে জানে? আমরা ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার’ সংগঠনটির ১৯৫ যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সেনার প্রতীকী বিচারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।