১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফেসবুক কাহিনী


১ মিলিয়ন কোম্পানির প্রত্যেকের বার্ষিক উপার্জন যদি হয় ১ মিলিয়ন ডলার, তাহলে তা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। বর্তমান ব্যবসায় ‘এক মিলিয়ন’ কথাটার বিশেষ অর্থ রয়েছে- বিশেষ করে হাইটেক সমাজে। কোনও একটি ওয়েবসাইটের ভিজিটর ১ মিলিয়ন, কিংবা কোনও একটি স্টার্টআপের আয় ১ মিলিয়ন ডলার, নয়ত কোনও একটি প্রতিষ্ঠান ১ মিলিয়ন ডলার ভেঞ্চার ফান্ডিং পেয়েছে, কিংবা একটি স্কুল ১ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর লেখাপড়াকে উন্নত করে দিয়েছে- এগুলোর বিশেষ অর্থ বহন করে। তবে এই পৃথিবীতে ১ মিলিয়ন উদ্যোক্তা তৈরি করা, যাদের প্রত্যেকের উপার্জন বছরে অন্তত ১ মিলিয়ন ডলার হবে- এমন একটি স্বপ্ন নিঃসন্দেহে বিশাল একটি ব্যাপার। এর মাধ্যমে পুরো বিশ্বে ১ কোটি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০১০ সালে এই ভিশন নিয়ে ‘ওয়ান মিলিয়ন বাই ওয়ান মিলিয়ন’ নামের একটি ভার্চুয়াল ইনকুবেটর তৈরি করেন ভারতের মেয়ে স্রামানা মিত্র। আমেরিকার এমআইটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী শেষ করে ১৯৯৪ সাল থেকে সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ৩টি সফল স্টার্টআপ, স্ট্র্যাটেজি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন ৮০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে। ‘এন্টারপ্রেনর জার্নি’ নামের ১২ পর্বের একটি সিরিজ লিখেছেন এবং তার বিখ্যাত আরেকটি বই হলো ‘ভিশন ইন্ডিয়া ২০২০।’

স্রামানার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিলিকন ভ্যালির কালচার, নেটওয়ার্কিং, প্রসেস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গাইড করা হয়ে থাকে। প্রতি বৃহস্পতিবার অনলাইনে একটি রাউন্ডটেবিল আলোচনা হয়, যেখানে সারা পৃথিবীর উদ্যোক্তারা নিজেদের আইডিয়া এবং প্রতিষ্ঠান নিয়ে ফিডব্যাক নিতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে যে সকল উদ্যোক্তা স্টার্টআপের স্বপ্ন দেখছেন তারা এই প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে পারেন।

এই পৃথিবীতে ১ মিলিয়ন উদ্যোক্তা তৈরি করা কঠিন একটি কাজ। আবার এই ১ মিলিয়ন উদ্যোক্তা যেন এমন সফল হতে পারেন তাদের উপার্জন ১ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে বর্তমানে স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। পাশাপাশি আমার তৈরি একটি প্রতিষ্ঠান প্রিয়.কম-এ সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ করার পর থেকে আমার কাছেও অনেকে এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করেন। অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম, একটি কমন উত্তর লিখব। এই সপ্তাহেই স্রামানের একটি ব্লগ পড়ছিলাম, যেখানে তিনি ফেসবুকের কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রাথমিকভাবে, সেই তথ্যগুলো পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করা যেতে পারে। পরবর্তীতে আরও লেখার আগ্রহ রয়েছে।

দুই.

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নিয়ে বাংলাদেশের অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটা হয়ত এক ধরনের ঋণ, নয়ত দান করা (ডোনেশন) টাকা। আসলে বিষয়টি দুটোর একটিও নয়। এটা হলো এক ধরনের সরাসরি বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আপনার প্রতিষ্ঠানটির কিছু শেয়ার কিনে নেবে। সেই শেয়ারের মূল্য বাড়লে তার মুনাফা হবে, এটাই মূলত আশা। তবে সবসময় যে আশা পূরণ হয়, তা নয়।

সিলিকন ভ্যালিতে প্রতি ১০টি প্রতিষ্ঠানের ভেতর গড়ে ১টি প্রতিষ্ঠান খুব ভাল করে। তাই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে থাকে। তারা এমনভাবেই বিনিয়োগ করে যেন, ৯টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ নষ্ট হলেও ১টি সফল হলে যেন তা দিয়ে পুষিয়ে যায়। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। তবে, যত বেশি ঝুঁকি, তত বেশি উপার্জন করার সম্ভাবনা।

বাংলাদেশে সবেমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আসতে শুরু করেছে। দেশের নিজস্ব কোন ফ্রেমওয়ার্ক এতদিন ছিল না। স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠানকে তাই এই খাতে দেখা যায়নি। একটি দু’টি প্রতিষ্ঠান যদিও নিজেদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বলে থাকে, তবে তারা মোটেও সে রকম নয়। ওগুলো মূলত ঋণ টাইপের বিনিয়োগ। ঋণ নিয়ে স্টার্টআপ হয় না। ফলে, তারা তেমন কোন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে পারেনি। তাদের জিজ্ঞেস করলে বলেন, বিনিয়োগ করার মতো ভাল কোন প্রতিষ্ঠান নেই; আর উদ্যোক্তাদের জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসে, বিনিয়োগ তো নেই। এটা অনেকটা ডিম আগে না মুরগি আগে অবস্থা। তারপরেও খুব ধীর গতিতে হলেও বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিকাশ করতে যাচ্ছে। সরকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নীতিমালা চূড়ান্ত করে এনেছে এবং আমি মোটামুটি নিশ্চিত আগামী বছর থেকেই এটা নতুন মোড় নিতে শুরু করবে। ২০১৬ সালটি হবে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির খুব ভাল একটি সময়।

তিন.

বাংলাদেশের মানুষ এমনিতেও একটু হুজুগপ্রবণ। কেউ কিছু একটা করছে, সবাই বুঝে হোক আর না বুঝেই হোক ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শেয়ার মার্কেটে ধরা খেয়েও আমাদের অনেকের শিক্ষা হয়নি; তারপর বিনিয়োগ করেছে হাউজিং মার্কেটে। এখন তো এই শিল্পটিরও অবস্থা ভয়াবহ খারাপ এবং এই শিল্পটির অদূর ভবিষ্যতে আর মাথা তুলে দাঁড়াবার কোন সম্ভাবনা আছে বলে কেউ মনে করে না। এই দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোরদার হলে দেখা যাবে, সবাই এটার পেছনেও ছুটছে। পাশাপাশি সিরিয়াস উদ্যোক্তারা থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। তাদের জন্য ফেসবুকের গল্পটি কাজে লাগতে পারে।

স্রামানের দেখা মতে, কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তাদের পণ্য বা সেবার প্রতি মানুষের সত্যি আগ্রহ রয়েছে এবং এক্সিকিউশনে ভাল দক্ষতা দেখাতে পারেন তাহলে সেই উদ্যোক্তারা নিজেদের জন্য ভাল শেয়ার রাখতে পারেন। নইলে, শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ নিতে নিতে দেখা যায় যে, বেশিরভাগ শেয়ারই চলে যায় বিনিয়োগকারীদের হাতে; আর আসল উদ্যোক্তাদের কাছে থাকে খুব কম শেয়ার। ফলশ্রুতিতে, অনেক কষ্ট করে একটি স্টার্টআপকে সঠিক জায়গায় নিয়ে এলেও, অনেক উদ্যোক্তা তেমন একটা টাকা বানাতে পারেন না।

সিলিকন ভ্যালিতে অনেক ইনকুবেটর রয়েছে যারা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করে থাকে। খুব কম করে হলে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের শতকরা ১০ ভাগ শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ২৫,০০০ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে সবার প্রজেক্ট হয়ত ততটা সফলতা পায় না। ২৫,০০০ ডলার দিয়ে খুব প্রাথমিক স্তরে ১০ ভাগ শেয়ার কিনে নেয়াটা খুবই কমন একটি ব্যাপার। ফেসবুকের জন্য শুরুটা ছিল বেশ ভাল। মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুকের ১০.২ ভাগ শেয়ার বিক্রি করতে পেরেছিলেন ৫ লাখ ডলারে (অর্ধ মিলিয়ন)। পিটার থিল নামের একজন বিনিয়োগকারী ফেসবুকের শুরুটা ভাল করে দেন।

জার্মানির উদ্যোক্তা পিটার থিল ছিলেন পেপলের কো-ফাউন্ডার এবং সিইও। ২০০৪ সালে ফেসবুক যখন বিনিয়োগ খুঁজছিল, তখন তারা লিংকড-ইনের সিইও রিড হফম্যানকে বিনিয়োগ করার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু একই ধরনের সামাজিক মাধ্যমে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হতে পারে বিধায়, রিড হফম্যান আর ফেসবুকে বিনিয়োগ করতে রাজি হন না। কিন্তু তিনি পিটারকে ফেসবুকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পিটার ২০০৪ সালে ফেসবুককে শর্তসাপেক্ষে ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। শর্তটি ছিল, ২০০৪ সালের মধ্যেই ফেসবুকের ব্যবহারকারী ১৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে হবে। ফেসবুক খুব সামান্য সংখ্যায় সেই টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হয়। পিটার তবুও বিনিয়োগ তুলে নেন না। ২০১২ সালে মাত্র ৮ বছরের মাথায় ফেসবুক যখন আইপিওতে যায়, তখন ফেসবুকের মূল্য ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রথম ধাপেই পিটার তার কিছু শেয়ার ৬৩৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন। ২০১২ সালের শেষ দিকে তিনি বাকি শেয়ারও বিক্রি করে দিয়ে মোট ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেন। তার কাছে এখনও ৫ মিলিয়ন শেয়ার রয়ে গেছে এবং তিনি ফেসবুকের বোর্ডে বসেন।

৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে মাত্র ৮ বছরের মাথায় ১ বিলিয়ন ডলার আয়! এই হলো ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মুনাফা। তবে পিটার যদি তখন মার্ক জাকারবার্গকে ৫ লাখ ডলার না দিতেন, ফেসবুকের ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো।

চার.

২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের মূল্য ছিল মাত্র ৫ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই ২০০৫ সালের মে মাসে ফেসবুকের নতুন বিনিয়োগ দরকার পড়ে এবং তখন এক্সেল পার্টনার্স নামের একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ফেসবুকের মূল্য নির্ধারণ করে ১০০ মিলিয়ন ডলার। তারা ১২.৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। তখন ফেসবুকের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার। এই সময় ফেসবুকের গ্রাহক সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়তে থাকে। ফেসবুকে বিনিয়োগ করার জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। সেই সময়ের কথা আমার এখনও মনে আছে। বন্ধুদের আড্ডায় সবার মুখে মুখে ছিল ফেসবুক এবং মার্ক জাকারবার্গকে বলা হতো পরবর্তী বিল গেটস।

ঠিক এক বছর পর, ২০০৬ সালের মে মাসে ফেসবুক নতুন করে আরও ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নেয়। কিন্তু তখন প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়ে হয়ে গেছে ৫২৫ মিলিয়ন ডলার। মাত্র এক বছরের মধ্যেই পাঁচগুণ। তখন তাদের আয় ছিল বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার। গ্রাহক সংখ্যা পাগলের মতো বাড়তে শুরু করে। এমন সুযোগ কয়েক দশকে একবার আসে। সকল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাথা খারাপের মতো অবস্থা।

২০০৭ সালে ফেসবুকে নতুন মাত্রা যোগ করে মাইক্রোসফট। এরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পাগলের মতো ফেসবুকে বিনিয়োগ করে। অক্টোবর মাসে মাইক্রোসফট ২৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এবং ফেসবুকের মূল্য ধরা হয় ১ বিলিয়ন ডলার। এর বিনিময়ে ফেসবুকের মাত্র ১.৬ শতাংশ শেয়ার পায়।

তারপর ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১১ সালেও ফেসবুক বিনিয়োগ নিয়েছে এবং সবসময়ই মার্ক জাকারবার্গ খুব ভাল শর্তে বিনিয়োগ পেয়েছেন। তার মূল কারণটি ছিল, তার প্রতিষ্ঠান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং একই সঙ্গে আয়ও বাড়ছিল। যারা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে বিনিয়োগ নেবেন, তারা ফেসবুকের এই পথচলাকে মাথায় রাখতে পারেন।

পাঁচ.

বাংলাদেশে হাইটেক কোম্পানি তৈরি করা এবং সেটাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার মতো পরিবেশ আসতে এখনও অনেক বাকি। বাংলাদেশ সরকার যেমন একদিক দিয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নীতিমালা ঠিক করছে, অন্যদিকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইপিওতে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে (যেভাবে ফেসবুক, পেপাল, টুইটার, গুগল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান আইপিওতে গিয়েছে।) বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মে আইপিও করতে হলে হাইটেক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনই পেরে উঠবে না। আবার নিয়ম কিছুটা শিথিল করলে অনেক ফটকা প্রতিষ্ঠান টাকা বানিয়ে মার্কেট থেকে সটকে পড়বে। যেহেতু এই দেশে শেয়ারবাজারে নিয়ম নীতিগুলো খুব একটা কার্যকর নয়। যদি সত্যিকার অর্থেই এই শিল্পকে গড়তে হয়, তাহলে এই ইকো-সিস্টেমটুকু তৈরি করতে হবে। নইলে শুধু শুধু স্টার্টআপ বলে চিৎকার করে, কিংবা ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দিব’ সেøাগান দিয়ে পরবর্তীতে হতাশাই বাড়বে।

আর যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করবেন, তাদেরও একটি বিষয় বুঝতে হবে। এই শিল্পটা কিন্তু অন্যান্য প্রথাগত শিল্পের মতো নয়। এখানে কাঁচামাল দেখা যায় না এবং যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করেন, তারা পুরোটাই মালিকানা নিয়ে নিতে চান। ফলে যে মানুষটি কিংবা মানুষগুলো ওই প্রতিষ্ঠানটি তৈরির পেছনে কাজ করেন, তাদের কোন মূল্য থাকে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। বিগত দুই দশকে এই দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে অনেক কথা হলেও, খুব একটা পাওয়া যাবে না যারা সত্যিকার অর্থেই ভাল করেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান আলোর ঝিলিক দিয়েই তারপর হারিয়ে গেছে। সেই হিসেবে এটা এখনও কোন শিল্পই নয়। যদি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা না যায়, তাহলে এই শিল্পটা কখনই নিজের পায়ে দাঁড়াবে না।

তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশে এখন অনেক স্রামানা মিত্র আছেন যারা ইনকুবেটর হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি অনেক মার্ক জাকারবার্গের মতো মানুষও তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে যারা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে এবং নতুন স্টার্টআপ তৈরি করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশে পিটার থিলের মতো মানুষ নেই, যারা একটি প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে চালিত করতে এবং বিনিয়োগ তুলতে সহায়তা করতে পারে। স্রামানা আর জাকারবার্গের পাশাপাশি আমাদের অনেক পিটার লাগবে। তখনই আমরা দেখতে পাব নতুন নতুন সেবা এবং উদ্যোক্তা।

২০ ডিসেম্বর ২০১৫

লেখক : তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সম্পাদক, প্রিয়.কম

ুং@ঢ়ৎরুড়.পড়স