মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আইজিসিসিতে গানে গানে বুলবুল মহলানবিশ

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫
আইজিসিসিতে গানে গানে বুলবুল মহলানবিশ

গৌতম পাণ্ডে ॥ ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারা মন’ গানটির সুর ধ্বনিত হচ্ছে মিলনায়তনজুড়ে। পিন পতন নীরবতায় দর্শক উপভোগ করছে সুরাশ্রিত গানের মর্মবাণী। শিল্পী বুলবুল মহলানবিশ মনের মাধুরী মিশিয়ে গানটি গাইছেন। দেশাত্মবোধক গানের প্রাণ সঞ্চারী রূপ তিনি সাবলীলভাবেই উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। এটাই স্বাভাবিক, কারণ তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন সাহসী কণ্ঠযোদ্ধা। একাত্তরে যে ক’জন কণ্ঠযোদ্ধা গান গেয়ে উজ্জীবিত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের, সাহস যুগিয়েছিলেন সকল শরণার্থীসহ মুক্তিকামী মানুষদের, তিনি তাদের মধ্যে একজন। শুধু গান গেয়েই তিনি মানুষকে সাহস যুগিয়েছিলেন তা নয়, তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল এমএ মজিদের বিখ্যাত নাটক ‘জল্লাদের দরবার’র ডায়ালগ। দেশপ্রেম তাই তার গানে এক বিশেষ আবহ তৈরি করেছিল শনিবার সন্ধ্যায়। গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে বোদ্ধা শ্রোতার উপস্থিতি সব সময়ই বেশি থাকে। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দর্শক সারিতে দেখা যায় অপলক গানটি শুনছেন, আর যেন ফিরে যেতে চেষ্টা করছেন অতীত স্মৃতিতে। শিল্পীর পরের পরিবেশনাটি ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’ গানটি। এ গানটি পরিবেশনার পর শিল্পী বলেন, এমন বৈঠকী অনুষ্ঠানে অনেক দিন গান গাওয়া হয় না। আজ আমি কালজয়ী কবিদের কয়েকটি গান পরিবেশন করব। তিনি পর পর দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান পরিবেশন করেন। এগুলো হচ্ছে ‘আমি হৃদয়েতে পথ কেটেছি হেথায় চরণ পড়ে তোমার’ ও ‘তোমায় গান শোনাব।’ পরে অতুল প্রসাদ সেনের ‘কে আবার বাজায় বাঁশি এ ভাঙা কুঞ্জবনে’ ও ‘কে তুমি বসি নদীকূলে একেলা’ গান দুটি পরিবেশন করেণ বুলবুল মহলানবিশ। পরের গানটি ছিল রজনী কান্তের ‘তুমি নির্মল কর মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে।’ একের পর এক গানের ফাঁকে আসতে থাকে অনুরোধ। তিনি কাউকে নিরাশ করেননি। গানের ফাঁকে নিজের অনুভূতিকে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা ছিল শিল্পীর। পরিচিত এসব হৃদয়গ্রাহী গানের সঙ্গে কোন কোন দর্শককে গলা মেলাতে শোনা যায়। শিল্পী আবার ফিরে আসেন নজরুলের গানে। তিনি পরিবেশন করেন গজল আঙ্গিকের ‘খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুশ হয়ে রই পড়ে’ গানটি। গানের বৈচিত্র্য ঘটাতে পরিবেশন করেন নজরুলের শ্যামা সঙ্গীত। গানটির শিরোনাম ছিল ‘আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন।’ দর্শকের অনুরোধে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘জল্লাদের দরবার’ নাটকের একটি অংশ অভিনয় করেন। তিনি বলেন, তখন আমি বয়সে তরুণী। সচেতন মানুষের পাশাপাশি আমার কণ্ঠ নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। জল্লাদের দরবার নাটকে আমি কেল্লা ফতেহ আলী খানের স্ত্রী বেগমের চরিত্রে অভিনয় করি। ফতেহ আলী খানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা রাজু আহমেদ। নাটকে কোন এক অংশে আমি যখন ফতেহ আলী খানের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখন রাজু ভাই সত্যি সত্যি আমাকে চড় মেরে বসলেন। এ স্মৃতিও আমাকে বার বার তাড়া করে ফেরে। তিনি এরপর পরিবেশন করেন ভাটিয়ালী গান। গানের শিরোনাম ‘নদীর কূল নাই কিনার নাইরে।’ লালনের গানও তার পরিবেশনা থেকে বাদ যায়নি। তিনি পরিবেশন করেন ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।’ এরপর একে একে পরিবেশিত গান হলো ‘লোকে বলে বলেরে’, ‘প্রাণ সখীরে’, ‘স্বাধীন স্বাধীন’, ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা’, ‘শক্ত হাতে ধর পতাকা’ ও ‘শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল পরা ছল।’

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫

২১/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: