২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

অনিয়মে পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে পিপলস লিজিং ও বিআএফসি’র


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশে কার্যরত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিউপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান নিজে, স্ত্রী, কন্যা ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিনীধিদের মাধ্যমে ৭শ কোটি টাকা অনিয়ম করে উত্তোলন করার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে পর্ষদ গঠন করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)’র পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি প্রতিষ্ঠানের (নাম উল্লেখ না করে) পর্ষদ ভেঙে দেয়ার কথা জানান। গবর্নর অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটি সম্মন্ধে বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসনের সার্বিক উন্নয়ন ঘটলেও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিদর্শন চালিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুতর অনিয়মের তথ্য উদঘাটন করেছে, যা আর্থিক খাতের সুশাসনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নিজ নামে এবং স্ত্রী, কন্যা, তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। যার বর্তমান স্থিতি সাতশ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কতিপয় ঋণ হিসাবকে সিএল বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত না করা, বিরূপ শ্রেণীকৃত ঋণকে অশ্রেণীকৃত হিসেবে দেখানো, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অনেক ঋণ হিসাবকে সিআইবিতে রিপোর্ট না করা, বিভিন্ন গ্রাহকের অগোচরে তাদের ঋণ হিসাবের বিপরীতে শ্যাডো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পরিচালকগণ কর্তৃক অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের মতো গুরুতর অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নিজস্ব প্রভাব খাটানোর স্বার্থে ঐ ব্যক্তি কর্তৃক তার মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট লোকজনের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও প্রমাণিত হয়েছে। এসব অনিয়ম উদ্ঘাটিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে সুশাসন আনয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই আমরা অভিযুক্ত পরিচালকদের অপসারণ করেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পিউপলস লিজিংয়ে ইতোমধ্যে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। আর সুশাসনের অভাবে বাংলাদেশ ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানী লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমরা দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদে দু’জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। তিনি প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করে বলেন, আজকের সভার মাধ্যমে আমি আপনাদের সতর্ক করে দিতে চাই, অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে আপনাদেরই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমি জানি আপনাদের ওপরও অনেক চাপ আসে। সেই চাপ যখন আপনারা মোকাবেলা করতে না পরবেন তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেবেন।

ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে জনগণের আমানত ঝুঁকিমুক্ত রাখার স্বার্থে পর্ষদ, প্রধান নির্বাহী এবং অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে মোটেও পিছপা হবে না বলেও জানান গভর্নর।

অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের পাশাপাশি অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জিএম শাহ আলম সহ আরো অনেকে।