১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আগামীকাল নাটোর হানাদার মুক্ত দিবস


নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর ॥ আগামীকাল নাটোর হানাদারমুক্ত দিবস। ১৬ডিসেম্বর সারা দেশে পাক-সেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হলেও নাটোরে প্রকৃত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ২১ডিসেম্বর। একাত্তরে নাটোর ছিল পাক-সেনাদের ২নং সামরিক হেড-কোয়ার্টার। তৎকালীন সিও অফিসে (বর্তমানের ইউএনও অফিস) পাক-সেনাদের সামরিক হেড-কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পাক-সেনারা ১৬ ডিসেম্বর থেকে নাটোরে এসে জড়ো হতে থাকে। নাটোর পিটিআই স্কুল, আনসার হল, রিক্রিয়েশন ক্লাব, এনএস কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি, দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি চত্বরের (উত্তরা গণভবন) ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেয়া পাক-সেনারা মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেও নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি চত্বরে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় ২১ ডিসেম্বর। পাক সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ মিত্র-বাহিনীর ১৬৫ মাউনটেন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেন।

এদিন পাকিস্তানী বাহিনীর ১৫১ অফিসার, ১৯৮ জন জেসিও, ৫৫০০ জন সেনা, ১৮৫৬ জন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ৯টি ট্যাঙ্ক, ২৫ টি কামান ও ১০ হাজার ৭৭৩ টি ছোট অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নাটোরে বড় ধরনের কোনো লড়াই সংঘটিত না হলেও একাধিকস্থানে বর্বর গণহত্যা চালানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাক হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর আলসামসরা নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী, দত্তপাড়া, মোহনপুর, লালবাজার, শুকলপট্টি, মল্লিকহাটি, বড়াইগ্রামের বনপাড়া ক্যাথলিক মিশন, গুরুদাসপুরের নাড়িবাড়ি, সিংড়ার হাতিয়ানদহ, কলম এবং লালপুর উপজেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চত্বরে নির্বিচারে বর্বোরিচিত গণহত্যা চালায়। ৭১’র ৩ জুন নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী গ্রামের গণহত্যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব স্থানে স্থানীয়ভাবে শহীদদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ৪৩ বছরেও সরকারী স্বীকৃতি মেলেনি। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং অযতœ ও অবহেলায় ৭১’এর গণকবরগুলো নষ্ট হচ্ছে।

স্বাধীনতার পরে দীর্ঘ ৪৩ বছর পার হয়ে গেলেও নাটোরের গণকবরগুলোকে সরকারীভাবে স্বীকৃতি প্রদানের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এমনকি নির্মাণ করা হয়নি কোনো স্মৃতিসৌধ। কোনো কোনো গণকবরে স্থানীয়ভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও অনেক গণকবর থেকে গেছে অরক্ষিত। এছাড়া ২১ ডিসেম্বর নাটোর মুক্ত দিবস পালনে তেমন কোনো সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: