২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খয়ের বাগানে ভাগ্য পরিবর্তন


বিশ্বজিৎ মনি

নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলার ৫০ হেক্টর পতিত জমিতে সামাজিক বন বিভাগ কর্তৃক প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া খয়ের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত সফলভাবে গড়ে তোলা এই বাগানে লাখ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখছেন প্রায় ৪৫৫ জন উপকারভোগী নারী-পুরুষ। ধামইরহাটের মতো সারাদেশে খয়ের বাগান সম্প্রসারিত করা গেলে বিদেশ থেকে আর আমদানি করতে হবে না। এতে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এলাকাবাসীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে, অন্যদিকে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বৃক্ষ রোপণে চারবার প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পুরস্কার পাওয়া বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক তার অফিসে বিশেষ পদ্ধিতে ২০০৯-১০ সালের অর্থবছরে প্রায় ৫০ হাজার বিলুপ্ত প্রায় খয়ের গাছের চারা তৈরি করেন। তাঁর পরামর্শে উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের বৈদ্যবাটি মৌজায় বৈদ্যবাটি গ্রামের ৪৫৫ জন সাধারণ ও আদিবাসী নারী-পুরুষদের নিয়ে কয়েকটি উপকারভোগী সমিতি গঠন করেন। একটি খয়ের বাগান থেকে উপকারভোগীরা অর্থ পেতে ১৫-২০ বছর সময় লাগে। তাই অল্পসময়ের মধ্যে উপকারভোগীরা অর্থ পেতে ওই বাগানের মধ্যে বাঁশ (কঞ্চি কলম) চারা রোপণ করেন। বাঁশ ৩-৪ বছরের মধ্যে সুফল পাবে উপকারভোগীরা। একটা কঞ্চি কলম থেকে প্রায় ১৫-৩০টি করে বাঁশ হয়েছে।

উপকারভোগী বাবুল হোসেন জানান, নিয়মিত খয়ের ও বাঁশ বাগান পরিচর্যা ও যতœ করায় কয়েক বছরের মধ্যে এটি একটি সফল খয়ের বাগান পরিণত হয়েছে। উপকারভোগীরা এখান থেকে মোটা অঙ্কের একটা আয় করতে পারবেন। খয়ের গাছের ডাল ও বাঁশের পাতা জ্বালানির কাজে ব্যবহার করায় বাজার থেকে জ্বালানি কিনতে হয় না তাদের।

লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক জানান, উপকারভোগীরা খুব ভালোভাবে বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। এটি সফল বাগানে পরিণত হয়েছে। এই বাগান থেকে যে আয় হবে উপকারীভোগী পাবেন ৪৫ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ বাগান পরিচর্যার কাজে খরচ করা হবে। এই রকম আরো বাগান গড়ে তোলা গেলে সরকারের বিদেশ থেকে আর খয়ের আমদানি করতে হবে না। দেশের চাহিদা মিটবে, রাজস্ব আয়ও হবে।