মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দল থেকে বহিষ্কৃতদের আর ফিরিয়ে নেবে না আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫
  • বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নিলেও শাস্তি ॥ হানিফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দল থেকে বহিষ্কৃত মেয়র প্রার্থীদের আর ফিরিয়ে নেবে না আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নিলে তিনি যত বড় নেতা, এমপি বা মন্ত্রী হোন না কেন প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দলটি। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী পদ ফিরে পেতে আবেদন করলে তা বিবেচনা করবে ক্ষমতাসীন দলটি। শনিবার বিকেলে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনেও বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের পক্ষ নেয়া মন্ত্রী-নেতা-এমপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে হানিফ বলেন, দল থেকে যাদের (বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী) বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার নৌকার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করতে পারে এমন জনপ্রিয় কেউ হয়ে ওঠেনি। তাই দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা (বিদ্রোহী) নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তাদের বলব, তারা নির্বাচন থেকে সরে এসে দলীয় পদ ফিরে পেতে আবেদন করতে পারে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের (বিদ্রোহী প্রার্থী) যারা সহযোগিতা করবে, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য-প্রমাণ পেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নিয়ে মাঠে থাকা বেশ কয়েকজন এমপি-নেতার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও সে ব্যাপারে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে দলটির একাধিক সূত্রই বলছে, সারা দেশে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নেয়া তৃণমূল নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রথমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষ নেয়া স্থানীয় এমপি-নেতাদের কেন্দ্র থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। এতেও কাজ না হলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এমপি-নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলেই আভাস দিয়েছেন সূত্রগুলো।

এর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বৈঠক করে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কোথায় কী অবস্থা তা জানাতে সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ রবিবার দলটির কেন্দ্রীয় তদারক কমিটির বৈঠকে ওই প্রতিবেদনগুলো উপস্থাপন হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই কয়েকটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিদ্রোহী প্রার্থীরা যেন দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ না হয়, সেভাবে করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করে সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।

নির্বাচনকে বিতর্কিত করে ইস্যু করতে চায় বিএনপি- হানিফ ॥ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মাহবুবুল আলম হানিফ অভিযোগ করেন, উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করাই যেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মূল লক্ষ্য।

বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলনে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জানিয়ে হানিফ বলেন, তাদের অভিযোগগুলো সত্যিই হাস্যকর। দেশের জনগণ কী কারণে বিএনপিকে ভোট দেবে? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশকে অন্ধকারের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিরোধী দলে থাকতে সন্ত্রাসী কর্মকা- করেছেন, কিছুদিন আগে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। মানুষ আপনাদের (বিএনপি) সন্ত্রাসী কমকা-কে সমর্থন করার জন্য কী ভোট দেবে? তিনি বলেন, মানুষ বিএনপিকে চায় না বলেই আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। ভবিষ্যতেও যে কোন নির্বাচনে বিএনপিকে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। কারণ জনগণ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষে আছে। জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে, বিএনপির পক্ষে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি নেতারা পৌর নির্বাচনে পথসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকার ও সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অশালীন বক্তব্যে দিয়েছেন। যা নির্বাচনের আচরণ বিধির পরিপন্থী। আমরা নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাব এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। পাশাপাশি বিএনপি নেতাদেরও বলব, উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না।

চট্টগ্রাম নৌ-ঘাঁটির মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, চোরাগোপ্তা হামলা কারা করছে এটা এখন পরিষ্কার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের বিচার বন্ধ করতেই এই সকল হামলা পরিচালিত হচ্ছে। সকল হামলার পেছনেই একটাই শক্তি। সেটা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, রাজনীতির নামে যারা জ্বালাও-পোড়াও ও সন্ত্রাস-সহিংসতা চালিয়েছে তাদের বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে সন্ত্রাসীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না। সকল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য দাবি করে হানিফ বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই মিথ্যাচার করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়। তাদের প্রতিদিনের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে আসলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করে আগামী দিনে যাতে আন্দোলনের ইস্যু তৈরি করতে পারে, সেটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই কোন কারণ ছাড়াই প্রতিদিন দুই দফা করে কখনও বিএনপির এক মাঝারি নেতা, কখনও কোন সিনিয়র নেতা ব্রিফিংয়ের নামে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু এসব হাস্যকর, উদ্ভট কথাবার্তা বলে জাতিকে বোকা বানানোর সময় আর নেই। এদেশের জনগণ অনেক সচেতন। জনগণই তাদের সন্ত্রাসী-জঙ্গী কর্মকা-ের জবাব দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫

২০/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: