১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৭ ফাল্গুন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

বাংলাদেশের ৪ জেলায় লুকিয়ে আছে এক শ’ সশস্ত্র জেএমবি

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্ট

শংকর কুমার দে ॥ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এক গোয়েন্দা রিপোর্টে ১শ’ জেএমবি জঙ্গীর তালিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে, যার মধ্যে ৪০ জন জেএমবির সুরা সদস্য। বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের চক্রান্ত করছে তারা। এসব জঙ্গী বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় লুকিয়ে আছে, যারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করার জন্য সশস্ত্র বিদ্রোহ, নাশকতা ও চক্রান্তে লিপ্ত। ‘চূড়ান্ত গোপনীয়’ সিলমোহর লাগানো একটি খামে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এই গোয়েন্দা রিপোর্টটি পাঠানো হয়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো গোয়েন্দা রিপোর্টে জেএমবির শতাধিক জঙ্গীর তালিকা দিয়ে তাদের নাশকতার ছক সম্পর্কে তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গোয়েন্দা রিপোর্টটি পাঠানো হয় সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারপর রিপোর্টটি পাঠানো হয় ঢাকায়। ‘চূড়ান্ত গোপনীয় সীলমোহর লাগানো গোয়েন্দা রিপোর্টটিতে জেএমবির ১শ’ জঙ্গীর তালিকা দেয়া হয়। এই ১শ’ জঙ্গী বাংলাদেশের রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়ায় লুকিয়ে আছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার কলকাতা সংস্করণে লিড প্রতিবেদনে গোয়েন্দা রিপোর্টে এ ধরনের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের বরাতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান খাগড়াগড়ের বোমা বিস্ফোরণের যে ঘটনাটি ঘটেছে তা ছিল বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তের বহির্প্রকাশ। সেই চক্রান্তে যারা জড়িত তারাই এখন চক্রান্তের জাল বুনছে।

গোয়েন্দা রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে পারস্পরিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা চুক্তি হয়। এই চুক্তির পরই বাংলাদেশ থেকে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতে হস্তান্তর এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে সাত খুনের আসামি নূর হোসেনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতবিরোধী চক্রান্ত এবং ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্ত চালাচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা। এরই বিরুদ্ধে পারস্পরিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী যে চুক্তি হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা গোয়েন্দা রিপোর্টটি হস্তান্তর করেছে ঢাকায়। গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্ধমান খাগড়াগড় বিস্ফোরণে পলাতক কাওসার, সাদিক, হাতকাটা নসরুল্লাহ, কদর গাজির নামও রয়েছে তালিকায়। এছাড়াও রয়েছে সোহেল মাহমুজ, বোমা মিজান, তারিক শেখ, সালাউদ্দিনসহ যারা বোমা বিস্ফোরণের পর গা ঢাকা দেয়। গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করার জন্য গভীর চক্রান্ত চলছে, এই চক্রান্ত চলছে জেএমবির ছত্রছায়ায়। চক্রান্তকারীরা পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, যার মোবাইল ফোনের কললিস্টে হদিস পাওয়া যায়।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, জঙ্গী সংগঠন জেএমবির যে ১শ’ জনের তালিকা দেয়া হয়, তার মধ্যে ৪০ জেএমবির মজলিশে সুরার সদস্য। রিপোর্টে জেএমবির নেতৃত্বে জঙ্গী তৎপরতা চালানোর ধরনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ছোট ছোট মডিউলগুলোকে সক্রিয় করে নাশকতা চালানোর চক্রান্ত রয়েছে জেএমবির। গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও বাংলাদেশে অভ্যুত্থান করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশ সরকার বানচাল করে দেয়। এমনকি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটি জেএমবির প্ররোচনায় করা হয়, যা বাংলাদেশ সরকার দমন করে দেয়।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫

২০/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: