২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গীবাদ নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে


প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গীবাদ নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

বিডিনিউজ ॥ বর্তমান বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পারস্পরিক সংযোগ দৃঢ় করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে প্রতিকূল পরিবেশও তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও এএফডি কোর্সের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা একটি সর্বজনীন ও বহুকেন্দ্রিক বিশ্বে বসবাস করছি। যেখানে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পারস্পরিক সংযোগকে সুদৃঢ় করছে, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের পথ দেখাচ্ছে, আবার মাঝেমধ্যে প্রতিকূল পরিবেশও তৈরি করছে। বিশেষ করে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ নানা ধরনের ঘটনা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমি আশা করি, এই প্রশিক্ষণ আপনারা কাজে লাগাবেন, স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাবেন, যে কোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আপনারা অনেক বেশি সক্ষম হবেন।

বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জঙ্গীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে এসেছে। এজন্য সম্প্রতি ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কয়েকটি যোগাযোগ মাধ্যম কিছু দিনের জন্য বন্ধও রাখে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ যে একটি উন্নততর ও পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিশ্বে বসবাস করছি, সেই বিশ্বও বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত কারণে সুরক্ষিত নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর উন্নত বিশ্বের অনেক নিয়মনীতি প্রভাব ফেলে; যার ফলে উন্নত দেশের অনেক অভিঘাতের প্রতিই তারা থাকে সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে বহুমুখী ও শক্তিশালী করার জন্য নিজেদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী নিরাপত্তাজনিত অনেক সমস্যার সমাধানে সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে রাজনীতি, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৯৬ সালের পূর্বে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ ও মধ্যপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। আপনাদের উচ্চশিক্ষার কথা বিবেচনা করে আমাদের পূর্ববর্তী মেয়াদকালে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি এনডিসি, যা বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জনগণের পাশে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই অংশীদারিত্ব সময়ের পরিক্রমায় আরও শক্তি সঞ্চয় করবে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী তার উদ্যোগ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে চলবে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান রাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং সংহতি উন্নয়নে বাংলাদেশের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সফলতার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ থেকেই যায়। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের সদ্যসমাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে আপনারা চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় অনেক বেশি প্রস্তুত।

চলতি বছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে (এনডিসি) এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়্যার কোর্সে (এডব্লিউএফ) ১১৩জন অংশ নিয়েছিলেন।

এনডিসিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের ৫১ এবং চীন, ভারত, মিসর, মিয়ানমার, ওমান, মালয়েশিয়া, নাইজিরিয়া, দক্ষিণ সুদান, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, তাঞ্জানিয়া ও যুক্তরাজ্যের ২৫ জন অংশ নেন।

অন্যদিকে এডব্লিউএফ কোর্সে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৩৭ সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি ‘স্ট্রাটেজিক ইনস্টিটিউশন’ হিসেবে এনডিসিকে গড়ে তোলার পাশাপাশি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যেই ১৩২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সে বেসামরিক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর নির্দেশ দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক উন্নয়নে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে হোসেন তৌফিক ইমাম, মসিউর রহমান ও গওহর রিজভী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়াসহ তিন বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসারসহ উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: