১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউরোপে চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানিতে নতুন সম্ভাবনা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্যের ওপর আরোপিত সব ধরনের শর্ত তুলে নিয়েছে সম্প্রতি ইইউ পার্লামেন্ট। এসব শর্তের মধ্যে ছিল রফতানি পণ্যের ৩৫ ধরনের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা। যা বেশ ব্যয়বহুল ছিল। এখন থেকে এ ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানির সুযোগকে রফতানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই ইউর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের রফতানির জন্য এক নবদিগন্তের সূচনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ইউরোপে রফতানি করা চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্যের প্রতি চালানের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মান পরীক্ষার সনদ দিতে হতো। এসব পণ্য ইউরোপে পৌঁছানোর পর ২০ শতাংশ চালান পুনরায় পরীক্ষা করা হতো।

চিংড়িতে এ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ, ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান পাওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সাল থেকে প্রতি চালানের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফিস ইন্সপেকশন এ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল’ সনদ দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

গত ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফুড এ্যান্ড ভেটেরিনারি অফিসের (এফভিও) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি দেশের চিংড়ি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ঘুরে দেখে। সফর শেষে তারা বাংলাদেশের চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্যের মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রতিবেদন দেয়। তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের ওপর থেকে সবধরনের শর্ত তুলে নেয় ইউরোপের পার্লামেন্ট। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে ইইউ। মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগী দেশ পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড। তাদের কেউই এখন পর্যন্ত এই স্বীকৃতি পায়নি। তাই এদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কোন ধরনের শর্ত ছাড়াই ইউরোপের বাজারে চিংড়ি রফতানি করতে পারবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোটার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, এটা বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য বড় অর্জন। যা রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। এতে করে আমরা ‘সমন্বিত সুবিধা’ পাব। এর সুফল ভোগ করবে উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে রফতানিকারক পর্যন্ত সকলেই। তিনি বলেন, একদিকে ইউরোপের ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। অন্যদিকে আমরাও সেখানাকার বাজারে তুলনামূলক ভাল মূল্য পাব। ইউরোপ ছাড়াও অন্যান্য যে দেশে আমরা চিংড়ি ও হিমায়িত পণ্য রফতানি করে থাকি সেসব দেশেও আমাদের পণ্যের ইমেজ বাড়বে। এটা দেশের সুনাম বাড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো তথ্য মতে, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫৬ দশমিক ৮ কোটি ডলার বা চার হাজার কোটি টাকার চিংড়ি রফতানি করে। এর মধ্যে ইউরোপের বাজারে রফতানি হয় প্রায় ৩২শ’ কোটি টাকার পণ্য।