২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানকে আমিরের প্রতিশ্রুতি


পাকিস্তানকে আমিরের প্রতিশ্রুতি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ডাক পাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশটির আলোচিত পেসার মোহাম্মদ আমির। একই সঙ্গে গর্বের জার্সির সম্মান অক্ষুণœ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পিসিবি ঘোষিত ২৬ জনের ফিটনেস ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী তুখোড় এই ক্রিকেটার। এখান থেকেই নিউজিল্যান্ড সফর এবং আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপের দল নির্বাচন করবে পাকিস্তান। নির্বাচকদের বেছে নেয়া প্রাথমিক দলকে এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান। পাশাপাশি পাকিস্তান ‘এ’ দলে অন্তর্ভুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন আমির।

নির্বাচক ও বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় সংবাদ ম্যাধ্যমকে আমির বলেন, ‘আমাকে ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করায় নির্বাচক ও ক্রিকেট বোর্ডের সবাইকে ধন্যবাদ। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে তাতের মান রাখার চেষ্টা করব। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে পাকিস্তানের জার্সির সম্মান বজায় রাখতে চাইব। এটা আমার জন্য দ্বিতীয় জন্ম। এ জন্য সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী এবং ভক্তরা সমর্থন দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি জানি মাঠ ও মাঠের বাইরে আমাকে অনেক কিছুই প্রমাণ করতে হবে। আল্লার ইচ্ছায় সেটি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ ক্যাম্পে ডাক পাওয়ায় ‘পরিবর্তিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণে সবকিছুই করবেন’ বলে অঙ্গীকার করেন আমির। তিনি আরও যোগ করেন, ‘কথা দিচ্ছি পাকিস্তানের জার্সির মর্যাদা রক্ষায় আমি সবকিছুই করব।’

বিতর্কিত আমিরের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে পাকিস্তানে অবশ্য দুই ধরনের মত রয়েছে। টি২০ অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি, সিনিয়র মোহাম্মদ হাফিজ তাকে ফেরানোর পক্ষে নন। আমির ফিরলে ড্রেসিং রুমের পরিবেশ নষ্ট হবে বলে মনে করেন তারা। তবে প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনুস, পিসিবি বস শাহরিয়ার, এমনকি তারকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের মতো অনেকেই চাইছেন কৃতকর্ম ভোগ করার পর আমির ফিরে আসুক। বল হাতে ফেরার জোরালো সম্ভাবনাটা তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। স্পট ফিক্সিংয়ের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়ার পর দেশে কায়েদ-ই আজম ট্রফিতে ৩৪ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ভাল ব্যাটিংও করেছেন। ১৪ শিকারে সে ধারা অব্যাহত ছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগেও (বিপিএল)। বিপিএলে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ, টি-২০ অধিনায়ক আফ্রিদি এবং তারকা অলরাউন্ডার হাফিজের উইকেট শিকার করেছেন আমির। ভাল বোলিং করে নজর কাড়ছেন তিনি। যার ফলও পেলেন।

পিসিবির পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেও বল হাতে এমন দুর্দান্ত নৈপুণ্যে এ মাসের শুরুর দিকে পিসিবি বস শাহরিয়ারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন কোচ ওয়াকার। দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়ার পক্ষে মত দেন তারা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে আলোচিত সেই স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ে তৎকালীন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান বাট, দুই পেসার মোহাম্মদ আসিফ ও আমির। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন।

সোনালি ব্যাটের গেইল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘অভিনব’ সোনার ব্যাট নিয়ে মাঠে নামলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ‘সোনার ছেলে’ ক্রিস গেইল! মাঠ ও মাঠের বাইরে তার জীবনযাপনটাই তো সোনালী মুহূর্ত। না সত্যিকারের সোনার ব্যাট দিয়ে খেলার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে সোনালি রংয়ের কাঠের ব্যাট দিয়ে খেললেন জ্যামাইকান উইলোবাজ। যদিও ব্যাট হাতে করতে পেরেছেন মোটে ২৩ রান, তার দল মেলবোর্ন রেনেগেডস জিতেছে সহজেই। গেইলের হাতে সোনালি রংয়ের ব্যাটটি তুলে দিয়েছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্পার্টান। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পার্থ টেস্টে এ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট নিয়ে মাঠে নেমে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ডেনিস লিলি। গেইলের এই ব্যাট নিয়ে স্পার্টান প্রধানের বক্তব্য, ‘ব্যাটটিতে সোনালি রং ব্যবহার করা হলেও কোন ধাতু দেয়া হয়নি। ক্রিকেট ব্যাট তৈরির সময় কি ব্যবহার করা যাবে আর কি যাবে না তাতে বিধিনিষেধ আছে। অবশ্যই ব্যাটে ধাতু ব্যবহার করা যাবে না। তাই আমরা কেবল সোনালি রং দিয়ে স্প্রে করেছি। মজার বিষয় অতীতে ক্রিকেট এমনটা দেখেনি।’ তবে এমন আলোচিত ব্যাট নিয়ে মাঠে নিজের স্টাইলে রং ছড়াতে পরেননি গেইল। ১৬ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় আউট হন ২৩ রানে। দুই লোকাল তারকা এ্যারন ফিঞ্চ (৪৫ বলে ৬৫) ও ক্যামেরন হোয়াইটের (৪১ বলে ৫৫) ৭ উইকেটের সহজ জয় পায় রেনেগেডস।