২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

সিরিয়া যুদ্ধ অবসানে ॥ জাতিসংঘ শান্তি পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫
  • গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্ব শক্তিগুলো একমত হলো

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার সিরীয় শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা অনুমোদন কওে প্রস্তাব পাস করেছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ প্রথম বিশ্ব শক্তিগুলো ওই পরিকল্পনা নিয়ে একমত হলো। পরিকল্পনাটি ইতোপূর্বে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় তৈরি করা হয়েছিল। এতে অস্ত্রবিরতি, সিরীয় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা এবং প্রায় দু’বছরের মধ্যে এক ঐক্যের সরকার গঠন ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো হয়। সিরীয় গৃহযুদ্ধে প্রায় আড়াই লাখ লোকের মৃত্যু হয়। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও ইয়াহু নিউজের।

নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবে এক অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে সিরীয় সরকার এবং এর বিরোধীদের মধ্যে জানুয়ারির প্রথম দিকে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানানো হয়। তবে জানুয়ারির মধ্যে থেকে শেষ ভাগের ভেতর এ আলোচনা শুরু হওয়ার বেশি সম্ভাবনা বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জানান। এ অন্তর্বর্তী সরকার এক নতুন সংবিধান রচনা এবং নির্বাচনের আয়োজন করবে। এসব কিছুই রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করার ১৮ মাসের মধ্যে অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে পরিচালনার দায়িত্ব জাতিসংঘকে দেয়া হয়। প্রস্তাবে এক মাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষক করার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করতে যুদ্ধ অব্যাহত রাখাও অনুমোদন করা হয়। আইএস জঙ্গীরা সিরিয়া ও প্রতিবেশী ইরাকের বিরাট ভূখ-ও দখল করে রয়েছে। কিন্তু সিরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথে দুলঙ্ঘ্য বাধা বিদ্যমান। কারণ সংঘাতে জড়িত কোনপক্ষই স্পষ্টত সামরিক বিজয় অর্জন করতে পারেনি। বড় বড় শক্তির মতৈক্য সত্ত্বেও কে কে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভাগ্যে কি ঘটবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে তিক্ত মতবিরোধ রয়েছে। চুক্তিতে তার ভবিষ্যত নিয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইচ্ছা তার ওপর বা বিদ্রোহী বাহিনীর ওপর কতখানি চাপিয়ে দেয়া যাবে, তাও স্পষ্ট নয়। বিশেষত আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে, যা অবশ্যই নিরসন করতে হবে। বাস্তবে পরিকল্পনার অর্থ কি হবে তা নিয়ে বিরাট অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি পরিষদে বলেন, এ পরিষদ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যে এ স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে যে, সিরিয়ায় হত্যাকা- বন্ধ করা এবং ওই বিধ্বস্ত ভূখ-ের দীর্ঘক্লিষ্ট জনগণ সমর্থন করতে পারে এমন এক সরকারের ভিত্তি স্থাপন করার এখনই সময়। মস্কো ও ওয়াশিংটন এক খসড়া নিয়ে একমত হওয়ার পর প্রস্তাবটি পাস হয়। সিরিয়াতে কি ঘটে। উচিত তা নিয়ে দুটি শক্তির ব্যবধান যা খুবই ভিন্ন। ইসলামিক স্টেট জঙ্গীরা সিরিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে রয়েছে। জঙ্গীরা পশ্চিমা দেশগুলোতে ও রাশিয়ার ওপর হামলা চালাতে সিরীয় ভূখ-কে ব্যবহার করছে বলে পশ্চিম সরকারগুলোর সন্দেহ। কেরি স্পষ্ট করে দেন যে, আসাদের ভবিষ্যত নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। আসাদ রাশিয়া ও ইরাকের মিত্র, কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো চায় তিনি পদত্যাগ করুন। সিরীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে কোন্্ কোন্্ বিরোধী দল আসন পাবে, সেই প্রশ্নেও মতপার্থক্য হয়েছে।

প্রস্তাবে আসাদের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়নি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রস্তাবটি সম্পর্কে বলেন, এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কিত ইস্যুসহ যে কোন ইস্যুতে সিরীয়দের ওপর বাইরে থেকে কোন সমাধান চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার এক স্পষ্ট জবাব। নিউইয়র্কের প্যালেস হোটেলে তথাকথিত ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপের এক বৈঠকের পর এক প্রস্তাব নিয়ে মতৈক্য হয়। ১৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই বৈঠকে যোগ দেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন লাভরভ, কেরি এবং ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের মন্ত্রীরা, সেই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা। যাই হোক, প্রস্তাবটি ১৫-০ ভোটে পাস হওয়ায় সিরীয় সঙ্কটের এক সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দেয়া হলো। এতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক মতপার্থক্য হ্রাস পাওয়ার আভাস মিললেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রধানত সৌদি আরব ও ইরানের উত্তেজনা শান্ত হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

প্রকাশিত : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫

২০/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: