১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নাকের বদলে নরুন পেলাম


প্যারিস সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রকাশিত (২২ নবেম্বর, ২০১৫) ‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু’ শীর্ষক উপসম্পাদকীয়তে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এর সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে। আশঙ্কার পরিমাণই অবশ্য বেশি ছিল। এখন যখন দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়ে গেছে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিশ্বব্যাপী এর সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে, তখন মনে প্রশ্ন জাগে, মানুষ কি সত্যিই ধরিত্রীকে রক্ষা করতে প্রস্তুত? সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এর উত্তর নঞর্থক হতে বাধ্য।

তবে সে বিষয়ে যাওয়ার আগে আসুন দেখে নেই জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের সারসংক্ষেপ কি পেলাম এবং এ সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দইবা কি বলেন?

১৯৫টি দেশ স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যা আছে, মোটা দাগে তা হলো : ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বা তাপমাত্রা ২ ডিগ্রীর নিচে রাখা। তবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের প্রবল আপত্তি ও চাপের কারণে তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। অর্থায়নের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ধনী দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ দেবে। ২০২৫ সালের পর অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হবে। কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে নেতৃত্ব দেবে উন্নত দেশগুলো। উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করবে। ২০৫০ সালের মধ্যে অতি দ্রুত গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। দায়িত্ব বণ্টন সম্পর্কে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ সহায়তা দেবে উন্নত দেশগুলো। অন্যান্য দেশ অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশ কাজ করবে স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর পর্যালোচনা করা হবে সার্বিক পরিস্থিতি। প্রথম পর্যালোচনা ২০২৩ সালে। জলবায়ু পরিবর্তনে অনুন্নত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণে বৈশ্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখন দেখা যাক জলবায়ু চুক্তিতে কয়েকজন বিশ্বনেতার প্রতিক্রিয়া। স্বাগতিক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, কপ’২১ ‘মানবতার অধিকার’ রক্ষার সম্মেলন। জার্মানির এ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেন, বৈশ্বিক প্রয়োজনে মুহূর্তের জন্য আমরা মিলিত হয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, এ চুক্তিতে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি। জলবায়ু সমস্যা নিরসনের প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হলো মাত্র। চীনের প্রেসিডেন্ট শি. জিনহুয়া বলেন, দৃঢ়চিত্তে সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া এ চুক্তির মূল্য নেই। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এটা চমৎকার প্রচেষ্টা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, চুক্তিতে কেউ লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত নয়। ‘সবুজ পৃথিবী’ বানানোর সামান্য প্রচেষ্টা এটি। পোপ ফ্রান্সিস বলেন, সামনের পথগুলোও ঐকমত্যের সঙ্গে চলার আহ্বান জানাই। জন কেরি বলেন, কোন দেশ বা অঞ্চলের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্ববাসীর জন্য এটা বিস্ময়কর জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার এদনা মলিওয়া বলেন, দীর্ঘদিন কাজের একটি সুদূরপ্রসারী ফল। টুভ্যালুর ইনেলে সোসিনি সপোয়াগা বলেন, যদি আমরা টুভ্যালুকে রক্ষা করি, পৃথিবীকেও রক্ষা করব। মালদ্বীপের তরিক ইবরাহীম বলেন, আগামীর ভবিষ্যত রক্ষায় আমরা একমত হতে পেরেছি। আর বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি প্রবঞ্চনা অথবা বলা যায় জোচ্চুরি।

নাসার সাবেক বিজ্ঞানী জেমস হ্যানসেন চুক্তিকে ‘জোচ্চুরি’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এটা নিশ্চিতভাবেই একটা প্রবঞ্চনা। এটা বলা একটা ফাজলামি ছাড়া আর কিছুই নয় যে, দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমরা সীমাবদ্ধ রাখব আর প্রতি পাঁচ বছর পর পর পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করব। এসব কথা একেবারে অর্থহীন। পরিস্থিতির উন্নয়নে কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা নেই। আছে শুধু প্রতিশ্রুতি।’ কোপেনহেগেন সেন্টারের পরিচালক এবং জলবায়ুবিজ্ঞানী বিজর্ন লুমবুর্গ স্বীকার করেছেন, ‘প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ১০ হাজার কোটি ডলারের যে তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে, তা খুবই কম। কেননা, এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রীর নিচে রাখতে হলে প্রতিবছর রাষ্ট্রগুলোকে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। এই বিপুল অর্থ আসবে কোত্থেকে?...তবে এই চুক্তি বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্র ১ শতাংশ সমাধান করতে পেরেছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে।’ এর পরও অবশ্য বিশ্বের বেশির ভাগ পরিবেশবাদী সংগঠন ও সংস্থা প্যারিস চুক্তিকে অভিহিত করেছে ‘মন্দের ভাল’ হিসেবে।

চুক্তিতে এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রীর খানিকটা নিচে রাখার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্পোন্নত ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে গত পাঁচ বছর ধরে এই দাবিটি তোলা হচ্ছিল। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম এই দাবিটি তোলেন। প্যারিস সম্মেলনে বিশ্বের ১২৬টি দেশ এই দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়। প্যারিসে উপর্যুপরি আইএসের বোমা হামলা, গুলি ও সহিংসতায় ১৩০ জন নিহত হওয়ায় নিরাপত্তা আশঙ্কা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় শেখ হাসিনা এবার সেখানে যেতে পারেননি। তারপরও বলতেই হয় প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হওয়ায় এটি বাংলাদেশের একটি সাফল্য। যদিও কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সে সম্পর্কে আদৌ কোন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। যে যাই বলুন না কেন, এটা বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন এবং প্রায় অসম্ভবও বটে। সম্প্রতি প্রকাশিত অক্সফামের এক প্রতিবেদনে দেখতে পাচ্ছি যে, বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে মোট যে পরিমাণ ক্ষতিকর কার্বন গ্যাস বায়ুম-লে ছড়ানো হয়, তার অর্ধেকই নিঃসরণ করে মাত্র ১০ শতাংশ ধনী মানুষ। এই তালিকায় অন্তত ৭৭ হাজার ডলারের মালিকরা এর অন্তর্ভুক্ত। আর দরিদ্রতম জনসংখ্যার অর্ধেক মিলে উৎপাদন করে মাত্র ১০ শতাংশ কার্বন। অন্যভাবে বলা যায়, গড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে প্রতিজন গড়ে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, তার বিপরীতে সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ লোকের প্রতিজন গড়ে ১৭৫ গুণ বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। এই ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি, কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য ধনী দেশগুলোর বাধ্যবাধকতার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অধিকাংশ ধনী দেশ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। উপরন্তু তারা ক্ষতিপূরণ এবং বৈশ্বিক তহবিল গঠনের বিষয়েও গড়িমসি করছে।

চুক্তির আওতায় বিশ্বের ১৯৫টি দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য যে অঙ্গীকার করেছে তা জ্বালানি খাতে রাষ্ট্রগুলোর ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে। আগেই বলেছি, এর পরিমাণ হতে পারে এক ট্রিলিয়ন ডলার। বিদ্যুত ও জ্বালানি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে উন্নয়নশীল অনেক দেশেরই জাতীয় প্রবৃদ্ধি যাবে কমে। ফলে উন্নয়ন হবে বাধাগ্রস্ত। অন্যদিকে জলবায়ু তহবিল হিসেবে ২০২০ সাল থেকে ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের প্রস্তাবটিও অপ্রতুল ও অনিশ্চিত।

চুক্তিতে জবাবদিহি এবং আইনী বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও অনিশ্চিত। এটি আইনে পরিণত করাও সময়সাপেক্ষ। আগামী ২২ এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে একটি সভা থেকে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধানকে আহ্বান জানাবেন। এর পর সংশ্লিষ্ট দেশের নিজ নিজ সংসদে অনুমোদন করা হলেই কেবল প্রকৃত অর্থে চুক্তিটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেনের মতে, বিশ্বের প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী ৫৫টি দেশ কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কতটুকু কমাবে তার ওপর নির্ভর করছে চুক্তির ভবিষ্যত। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ১৯৯৭ সালে জাপানে স্বাক্ষরিত কিয়োটো প্রটোকলে ৩৭টি শিল্পোন্নত দেশ কার্বন নিঃসরণের আইনী বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তি করলেও কেউই তা মানেনি। উপরন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের মোট বার্ষিক আয়ের মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। ওই অঙ্গীকার পূরণ না হলে জরিমানার বিধানও ছিল। কিন্তু হায়! কোন দেশই তা বাস্তবায়ন করেনি। সুতরাং প্যারিস চুক্তিটিও যে শেষ পর্যন্ত বাগাড়ম্বরপূর্ণ এবং অন্তঃসারশূন্য বলে বিবেচিত হবে না, কে জানে! তবে আইএসের এত বড় একটি সন্ত্রাসী হামলার পরও প্যারিসে যে শেষ পর্যন্ত সম্মেলনটি হতে পেরেছে এবং ৩১ পৃষ্ঠার একটি চুক্তিও হয়েছে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের সম্মতিতে এটি নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের একটি বিশাল কূটনৈতিক বিজয়।

আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) হিসাবে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মাত্র ৬ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। আর ৪১ শতাংশ আসে কয়লা, ২২ শতাংশ গ্যাস, ১৭ শতাংশ জলবিদ্যুত, ১১ শতাংশ পরমাণু জ্বালানি এবং ৪ শতাংশ তেলনির্ভর বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে। এর বাইরেও রয়েছে লক্ষ কোটি শিল্পকারখানা, কোটি কোটি যানবাহন ও যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধবিগ্রহ, সর্বোপরি বিশেষ করে ধনী দেশ ও গোষ্ঠীর অপরিমেয় বিলাসব্যসন। শিল্প বিপ্লবের ফলে পৃথিবী ইতোমধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ও অন্য গ্রীন হাউস গ্যাসে পূর্ণ হয়ে গেছে। প্রায় পরিণত হয়েছে তপ্ত কটাহে। অতঃপর এর তাপমাত্রা কোন এক পর্যায়ে স্থিতিশীল রাখতে হলে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ আর বাড়ানো চলবে না। কিন্তু মানুষ কি আদৌ তা শুনবে? উন্নয়নকে কি সে আদপেই বাধাগ্রস্ত অথবা শ্লথগতি করবে? মনে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি পয়ঃশোধনাগারে ৩৭ কোটি গ্যালন মনুষ্যবর্জ্য পরিশোধন করে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা হচ্ছে। ডিসি ওয়াটারস ব্লু প্লেইনস নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি করছে।

কার্বন নিঃসরণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির দহন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত। অনেকটা এর ফলেই ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তন। তাই এভাবে মলমূত্র থেকে জ্বালানি উৎপাদনের বিষয়টি কার্যত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই।

পয়ঃশোধনাগারটির প্রকৌশলী ক্রিস পিওট বলেন, মলমূত্র দিয়ে এখানে পরিবেশ অনুকূল জ্বালানি তৈরি হচ্ছে। এর ফলে হচ্ছে অর্থের সাশ্রয়। জীবাশ্ম জ্বালনিনির্ভর বিদ্যুতের জন্য জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।

শোধনাগারটিতে প্রায় ২০ লাখ পরিবারের বর্জ্য শোধন করা হয়। শোধনের পর পরিচ্ছন্ন পানি নিকটবর্তী নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। তার আগে বর্জ্য থেকে তৈরি হয় বিদ্যুত। এখানে উৎপাদিত বিদ্যুত দিয়ে সহজেই আট হাজার পরিবারের প্রয়োজন মেটে। বাংলাদেশে কি আদৌ কোনদিন এ রকম করা সম্ভব হবে?

সার্বিক পর্যালোচনায় এসে এটা বলা যায় যে, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনকে ঘিরে মোটামুটি বাস্তবানুগ মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা এবং নরেন্দ্র মোদি। সারকথা হলো, পৃথিবীতে যতদিন পর্যন্ত জীবাশ্ম জ্বালানি তেল, কয়লা, গ্যাস ইত্যাদি সহজলভ্য, সহজপ্রাপ্য, সাশ্রয়ী থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ঝুঁকি কমবে না একটুও। কোন ফলপ্রসূ চুক্তিও হবে না। নিছক আলাপ-আলোচনা এবং বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতাই সার হবে। বায়ুম-লে আমরা যত কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ি তার অর্ধেকটা শুধু সেখানে থাকে, বাকিটা সমুদ্র ও জীবম-লে পুনঃসঞ্চালিত হয়। কিন্তু সমুদ্র যত দ্রুত অভিসিঞ্চিত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে ততই পুনঃসঞ্চালনের হার কমছে। ফলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড ক্রমাগত জমা হচ্ছে বায়ুম-লে। এ কারণেই বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, যা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে মানবসভ্যতা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশকে, সর্বোপরি জীববৈচিত্র্যকে। কার্বন ক্যাপচার এ্যান্ড স্টোরেজ (সিসিএস) প্রযুক্তি কয়লা ও গ্যাসচালিত বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নিঃসরিত গ্যাসের মধ্যে কার্বন-ডাই অক্সাইড সরিয়ে নেয় এবং সেটিকে মাটিতে সংরক্ষণ করে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের ওই প্রযুক্তি খুবই ব্যয়বহুল ব্যাপার এবং উন্নত দেশগুলোও এর ব্যবহারে তেমন উৎসাহী নয়। সুতরাং ধ্বংসের মহোৎসব চলছেই, চলবে। আর যতদিন পর্যন্ত এটা বন্ধ না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের নাকের বদলে নরুন পেয়েই আপাতত সন্তুষ্ট থাকতে হবে।