১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

একুশ শতক ॥ ডিজিটাল রূপান্তর ও ডিজিটাল অপরাধ


এর আগের দুই কিস্তিতে আমরা দুনিয়াজোড়া ইন্টারনেটের বিস্তুতি ও প্রভাবের পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি মনে করি আমাদের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ ডিজিটাল অপরাধের প্রতি আমাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। আসুন আরও বিস্তারিতভাবে পুরো বিষয়টা ব্যাখ্যা করি।

॥ তিন ॥

মিডিয়ার রূপান্তর : ডিজিটাল অপরাধের একটি বড় ক্ষেত্র হচ্ছে প্রকাশ মাধ্যম বা মিডিয়া। মিডিয়া এখন আর আগের পরিধিতে নেই। বরং ইন্টারনেট প্রচলিত মিডিয়াকে কেমন করে বদলে দিয়েছে এবং মিডিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর কতটা করতে পেরেছে সেটি উপলব্ধি করার বিষয়। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, আমলা, ওলেমা মাশায়েখ বা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেশের ডিজিটাল মিডিয়ার জগতটা সম্পর্কে ধারণা করা সহজ ছিল না। তাদের কেউ সম্ভবত বিষয়টিকে কখনও গুরুত্ব দিয়েও দেখেননি। আমি নিজে একটি হিসাব করে দেখেছি, মিডিয়ার রূপান্তরটি কত ভিন্ন মাত্রার হয়েছে। বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকার সর্বোচ্চ সার্কুলেশন হতে পারে ২/৩ লাখ, যদিও বেশির ভাগেরই প্রচারসংখ্যা শ’ বা হাজারের কোঠায়। কাগজে ছাপা সকল পত্রিকার পাঠক সংখ্যা হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ। অন্যদিকে অনলাইনে এসব পত্রিকার পাঠকসংখ্যা প্রায় ৫/১০ গুণ বেশি এবং দেশের ৩ কোটি লোক এখন অনলাইনে যুক্ত থাকে, যারা কোন না কোনভাবে অনলাইনে খবর সংগ্রহ করে থাকে। দেশের প্রায় ৫ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সকলেই কোন না কোনভাবে এই কাজটি করে থাকে। এর পাশাপাশি বিশেষায়িত অংশগুলোর কথাও বলা যায়।

অনলাইনে একজন ব্যক্তির যোগাযোগ ক্ষমতা কতটা বেড়েছে তার হিসাবটা আমি নিজের হিসাব থেকে দিতে পারি। ২১ আগস্ট ২০১৫ রাত ১১-৪৫ সময়কালে আমার ফেসবুক হিসাবে বন্ধু ছিল ৪৮৬৪। আমার অনুসারী ১২৪৮২। আমার বিজয় বাংলা পেজে লাইক আছে ৮১৭৪, আনন্দ কম্পিউটার্সে ২৫১১ জান, বিজয় শিশু শিক্ষায় ১৩৯৬ জন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গ্রুপে ৪৮৯৭ জন। এদের যদি ৫০০ করে বন্ধু থাকে তবে আমি একাই কত জনের কাছে পৌঁছাতে পারি। আমি আরও শতাধিক গ্রুপের সদস্য। ভাবুন তো আমার মিডিয়াক্ষমতা একারই কতটা।

এর মানে হচ্ছে আমি দেশের সকল পত্রিকার পাঠক সংখ্যার সমান মানুষের কাছে তো একাই যেতে পারি। ভাবুন তো এই মানুষ বিশ্বের সকল প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। আরও একটি বিষয় সকলের উপলব্ধি করার আছে। প্রসঙ্গত এই বিষয়টিও উল্লেখ করা দরকার যে, মিডিয়ার বাহক হিসেবে এখন কাগজ, টিভি, রেডিওর বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট। কেবল যে কাগজের বই-পত্রিকা ইন্টারনেটে প্রকাশিত হচ্ছে তাই নয়, এখন ইন্টারনেট রেডিও বা ইন্টারনেট টিভি একটি সহজ সরল বাস্তবতা। এই জগতটা প্রচলিত মিডিয়ার জগতের চাইতে হাজার হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ও বিস্তৃত। এই বাস্তবতা থেকেই অপরাধের জগতে ডিজিটাল মিডিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ রাখতে হবে। ২০১৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছোড়াছুড়ি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন ঘটেছে তার সঙ্গে প্রচলিত ও ডিজিটাল মিডিয়া উভয়েরই বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অপরাধের আতঙ্ক : আমরা তো কোন্ ছার, ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনে দিনে তারা এই ধারণা করছে যে, দুনিয়াতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও মানুষের জীবনধারা ক্রমশ ডিজিটাল অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধশক্তি, এমনকি পরমাণু শক্তি পর্যন্ত ডিজিটাল অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে পারে বা তারা ডিজিটাল হামলার শিকার হতে পারে বলে মনে করা হয়। বিষয়টি অর্থগত বা শারীরিক শক্তির চাইতে অনেক বেশি মেধার শক্তি বলে এই আশঙ্কা এতটাই প্রবল যে তারা মনে করে আফগানিস্তানের পাহাড়ে বসবাসকারী কোন জঙ্গী বা মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের কোন বালক পেন্টাগনে আঘাত হানতে পারে। এই অস্ত্রটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তারাও যে পিছিয়ে নেই তার প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা এখন কেবল অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করার কথাই ভাবছে না। তারা ডিজিটাল আক্রমণ করছে। ইরানের পরমাণু শক্তির কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে দেবার চেষ্টার সঙ্গে পেন্টাগন জড়িত বলে মনে করা হয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন চীনের সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে কথা বলতে চান।

এক সময়ে ডিজিটাল অপরাধকে সাইবার ক্রাইম হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তাকে মনে করা হতো যে, সেটি কেবল কম্পিউটারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয়। কেউ একটি ওয়েবসাইট হ্যাক করল বা কেউ কারও মেইল এ্যাকাউন্ট হ্যাক করল, কারও ফেসবুক এ্যাকাউন্টে কেউ একটি বকা দিল বা ব্লগে একটি বাজে মন্তব্য প্রকাশিত হলো-তার নামই বুঝি সাইবার ক্রাইম ছিল। আমাদের মতো দেশে এখনও হয়ত সাইবার অপরাধ বলতে তেমনটিই বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু তেমন অবস্থাটি দিনে দিনে আমূল বদলে যাচ্ছে। যতই কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে, যতই আমরা ইন্টারনেটে যুক্ত হচ্ছি, যতই মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেটের দিকে আমরা ঝুঁকছি ততই ডিজিটাল অপরাধের জগত আমাদের কাছে অনেক বেশি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এক সময়ে দেশের সাধারণ অবকাঠামো ও স্থাপনা, যেমন বিদ্যুত-গ্যাস, কল কারখানা বা যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের প্রযুক্তির সঙ্গে সাইবার অপরাধকে যুক্ত বলে বিবেচনা করা হতো না। কিন্তু এখন সম্ভবত সেই সময়টি পাল্টে যাচ্ছে। গত ৩০ জুলাই ১২ ভোর রাত ২-৩০ মিনিটে ভারতের অর্ধেক অংশজুড়ে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একে ন্যাশনাল পাওয়ার গ্রিড ফেইলর বলে মনে করা হয়। কিন্তু কোন কোন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি আসলে ডিজিটাল ক্রাইম। এমনি করে এটি প্রায় প্রমাণিত যে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের কম্পিউারগুলো এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেয়া। এজন্য ইরানকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কথা ভাবতে হচ্ছে। এস্তোনিয়া নামক একটি দেশের সকল প্রশাসন সাইবার হামলায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুনিয়াতে পরের যুদ্ধগুলো সাইবার যুদ্ধই হবে- আমি যুদ্ধটাকে ডিজিটাল যুদ্ধ বলি।

তবে দেশে দেশে যুদ্ধ হবার পাশাপাশি আমরা ব্যক্তিজীবনে কি নিরাপদ? দুনিয়াতে মানুষের ব্যক্তিজীবনেও এসব অপরাধ অহরহ ঘটছে।

ব্যক্তিগত উদ্বেগ ও আতঙ্ক : বিষয়টি আমার জন্য খুবই ব্যতিক্রমী ছিল। দেশের বাঙলা সংসদ নামক একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা গত ৩ মে ১৩ ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাইবার ক্রাইম ও তার প্রতিকার নামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। সরকারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্ট খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের আয়োজন এর আগে হলেও একটি অতি সাধারণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা সাইবার ক্রাইম নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করবে এটি সহজে ভাবার বিষয় ছিল না। এতে যারা বক্তা ছিলেন তাদের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এখন সাধারণ মানুষের কাছে সাইবার ক্রাইম বা ডিজিটাল অপরাধ একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতে পারে শাহবাগের গণজাগরণ ও হেফাজতের ব্লগারবিরোধী আন্দোলন মানুষকে এসব বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছে। সেজন্যই হয়ত কোন কোন বক্তা আমার প্রেজেন্টেশন দেখে মন্তব্য করেছেন, এখন তো দেখছি আমি আরও অসহায়। দৃশ্যমানভাবে যত অপরাধ হতো আমি তো তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এজন্য আইন আছে, পুলিশ আছে, বিচার আছে। কিন্তু সাইবার অপরাধের জগতে আমি তো দেখি কোনভাবেই নিরাপদ নই। সেই অনুষ্ঠানে আমি এনবিসির একটি ভিডিও দেখিয়েছিলাম যাতে দেখানো হয়েছিল যে, ২০১০ সালে আমেরিকা থেকে ৫ হাজার মাইল দূরের ইউক্রেনের একটি অপরাধী দল আমেরিকার ৪০০ প্রতিষ্ঠানের ৭ কোটি ডলার বা ৫৬০ কোটি টাকা চুরি করেছিল। তারা ইন্টারনেটে জিউস নামের একটি ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ভাইরাস ব্যবহারকারীর ব্যাংক হিসাবের আইডি ও পাসওয়ার্ড চুরি করত এবং অপরাধীরা সেইসব তথ্য ব্যবহার করে ওয়্যার ট্রান্সফার করে সেই হিসাব থেকে টাকা সরিয়ে নিত। অপরাধীরা তরুণ-তরুণীদের এজন্য ব্যবহার করত এবং তাদের আমেরিকান ব্যাংকে হিসাব খোলার জন্য শতকা ১০ ভাগ কমিশন দিত। এই ভয়ঙ্কর চুরিটি অবশ্য আমেরিকার পুলিশ বা এফবিআই ধরতে পারেনি। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তার প্রোগ্রাম ও কম্পিউটার ফরেনসিক ব্যবহার করে এই অপরাধ চক্রকে ধরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করে আর্থিক অপরাধ সংগঠনের বিষয়টিও সমাজে অনেক আগে থেকেই বিরাজ করছে। উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সত্তর দশকে পুরো তিন বছরজুড়ে সংঘটিত একটি চুরির ঘটনাই আমেরিকার ইতিহাসে ব্যাংক খাতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ডিজিটাল অপরাধ। ইউনিয়ন ডাইম ব্যাংকের নিউইয়র্কের এ্যাভেনিউ শাখা প্রধান নগদায়ন কর্মকর্তা শত শত হিসাব থেকে ডিজিটাল উপায়ে ১৫ লাখ ডলার আত্মসাত করেন।

A hacking group called the MOD (Masters of Deception, allegedly stole passwords and technical data from Pacific Bell, Nynex, and other telephone companies as well as several big credit agencies and two major universities. The damage caused was extensive, one company, Southwestern Bell suffered losses of $370,000 alone.

In 1983, a nineteen year old UCLA student used his PC to break into a Defense Department international communications system.

Between 1995 and 1998 the satellite pay to view encrypted service was hacked several times during an on-going technological between a pan-European hacking group and Newscorp. The original motivation of the hackers was to watch Star Trek re-runs in Germany; which was something which Newscorp did not have the copyright to allow.

On 26 March 1999, the infected a document on a victim’s computer, then automatically sent that document and copy of the virus via e-mail to other people.

In February 2000 a individual going by the alias of began a series against high profile websites, including , , , , , and . About fifty computers at , and also computers at the University of California at Santa Barbara, were amongst the sending pings in attacks. On 3 August 2000, Canadian federal prosecutors charged with 54 counts of illegal access to computers, plus a total of ten counts of mischief to data for his attacks.

The (RBN) was registered as an internet site in 2006. Initially, much of its activity was legitimate. But apparently the founders soon discovered that it was more profitable to host illegitimate activities and started hiring its services to criminals. The RBN has been described by as “the baddest of the bad”. It offers web hosting services and internet access to all kinds of criminal and objectionable activities, with an individual activities earning up to $150 million in one year. It specialized in and in some cases monopolized for resale. It is the originator of and an alleged operator of the .

On 2 March 2010, Spanish investigators busted 3 in infection of over 13 million computers around the world. The “botnet” of infected computers included PCs inside more than half of the companies and more than 40 major banks, according to investigators.

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক ॥

mustafajabbar@gmail.com

www.bijoyekushe.net, www.bijoydigital.com