২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরব বসন্ত এবং মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট


বর্তমান ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রভূমি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য; পশ্চিমে আটলান্টিকের বেলাভূমি হতে পুবে ইরান এবং উত্তরে তুরস্ক হতে দক্ষিণে ইয়েমেনÑ এই বিশাল এলাকা মধ্যপ্রাচ্য হিসেবে বিবেচিত। রফতানিযোগ্য জ্বালানি তেলের সিংহভাগ মজুদ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রভাববিস্তার নিয়ে পরাশক্তিগুলোর প্রচেষ্টার অন্ত নেই। মজার ব্যাপার হলো একমাত্র ইসরাইল ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশই মুসলিম রাষ্ট্র এবং শাসন ব্যবস্থা প্রায় সব দেশেই হয় রাজতন্ত্র, নয় স্বৈরতন্ত্র। রাজার ছেলে রাজা হবে, প্রেসিডেন্টের ছেলে প্রেসিডেন্ট। গণতন্ত্র কী জিনিস তা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ বোঝে না। রাজা বা মালিক ছাড়া আর যে জিনিসটি এই অঞ্চলের লোকেরা বোঝে সেটি হচ্ছে ধর্ম। রাজতন্ত্র এবং মোল্লাতন্ত্র মিলে নির্বিবাদে দেশগুলো শাসন করে যাচ্ছে শত শত বছর। রাজতন্ত্রের সঙ্গে মোল্লাদের কোন কারণে বিরোধ বাধলেই মুশকিল, বিদ্রোহ-রক্তপাত। ইরানের পরাক্রমশালী বাদশাহ রেজা শাহ মোল্লাদের সঙ্গে এরূপ বিরোধে জড়িয়ে সিংহাসন হারান। ইরানে মোল্লাতন্ত্রের শাসন প্রবর্তিত হয়, তবে সেখানকার শিয়াপন্থী মোল্লারা আকারে প্রকারে সুন্নী মোল্লাদের চেয়ে ডিফারেন্ট হওয়ায় দেশটির প্রগতি তেমন বাধাগ্রস্ত হয়নি।

পরাক্রমশালী সৌদি আরবের রাজাদের সঙ্গে মোল্লাদের যে বিরোধ বাধে না তা নয়। বাদশাহ ফাহদের আমলে এরূপ একটি বিদ্রোহ ঘটেছিল। তবে সৌদি রাজপরিবার অত্যন্ত শক্তিশালী, পরিবারটিতে প্রিন্সের সংখ্যা পঁচিশ হাজারের ওপরে। সমুদয় সরকারী-বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো প্রিন্সদের দখলে থাকায় সেখানে মোল্লারা তেমন একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। রাজার নির্দেশ মতোই ফতোয়া দিয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখেন। স্মরণ করুন- অত্যাচারী এজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে ইমাম হোসেনকে ‘ওয়াজেবুল ক্কতল’ বা অবশ্য হত্যাযোগ্য বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন এজিদের বেতনভোগী সব মোল্লা বা শেখ। সেই ফতোয়ায় সই করেছিলেন রাজ্যের প্রায় ১৮ হাজার মোল্লা যাদের হেড ছিলেন রাজ্যের কাজীউল কোজ্জাত কাজী সুরেহ। রাজারাও মোল্লাদের উপযুক্ত সম্মানী দিতে কসুর করেন না। ফলে সৌদিতে আজ পর্যন্ত স্ট্যাবল অবস্থা বিরাজমান। মিসরে তথাকথিত আরব বসন্তের তোড়ে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসে ইখওয়ানুন মুসলেমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড, জামায়াতে ইসলামীর মিসরীয় সংস্করণ। এবার আমেরিকার টনক নড়ে, বছর না ঘুরতেই সেখানে গ-গোল শুরু হয়ে যায় এবং ইখওয়ান নেতা মুরসিকে বন্দী করে আবার সামরিক স্বৈরতন্ত্র ক্ষমতা দখল করে নেয়। লিবিয়ায় আরব বসন্ত রফতানি করতে যেয়ে পশ্চিমারা বিপাকে পড়ে যায়, লৌহমানব গাদ্দাফিকে কিছুতেই কব্জা করা যাচ্ছিল না। সুতরাং মানবতা রক্ষার দোহাই দিয়ে আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা সরাসরি গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিমান ও নৌ-আক্রমণ চালায়। গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়েছে ২০১১ সালে, কিন্তু দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরেছে কি? বরং একদা সমৃদ্ধশালী ও শান্তিপূর্ণ লিবিয়া এখন আক্ষরিক অর্থেই নরকে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার পর আসে বাহরাইন, ইয়েমেন ও সিরিয়ার পালা। তবে এই দেশগুলোর ইভেন্টসমূহ বুঝতে হলে এই অঞ্চলের ডেমগ্রাফি তথা ধর্মীয় বিভাজন সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।

ধর্মীয় বিভাজন

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো মূলত সুন্নীপ্রধান। ব্যতিক্রম শুধু ইয়েমেন, সৌদি আরব, বাহরাইন, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও লেবানন। এই সাতটি দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিয়া বসবাস করে।

ইয়েমেনের জনসংখ্যা ২৪ মিলিয়ন। জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ সুন্নী এবং ৪৫ শতাংশ শিয়া (টঘঐঈজ-এর ২০১০ সালের হিসেব অনুযায়ী)। শিয়ারা দেশটির উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (সৌদি সীমান্ত অঞ্চলে) এবং সুন্নীরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে।

২০১০ সালের হিসেব অনুযায়ী সৌদি আরবের লোকসংখ্যা ছিল ২৭ মিলিয়নের ওপরে, সৌদি ন্যাশনাল ১ কোটি ৮৭ লাখ- বাদবাকিরা বিদেশী। সৌদি জনগণের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ কট্টর হাম্বলি সুন্নী এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিয়া। শিয়া জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ সৌদির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে। বাহরাইনে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ- প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ শিয়া। বাকিরা সুন্নী ও বিদেশী ওয়ার্কার।

এবার ইরাক, সাদ্দামের দেশ। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ২৬ লাখ। জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ মুসলিম, শিয়া ৭০-৭৫ শতাংশ, সুন্নী ২২-২৭ শতাংশ। মজার ব্যাপার হলো শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সুন্নীরাই অধিকাংশ সময় ক্ষমতায় ছিল। সাদ্দাম ব্যক্তিগতভাবে সেকুলার ও বামপন্থী বাথ পার্টির নেতা হলেও সুন্নী পরিবারে তার জন্ম।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শক্তি, দেশটি আরব বলয়ভুক্ত নয়, ভাষা ফার্সী। ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি যা বর্তমানে কমপক্ষে আট কোটিতে যেয়ে দাঁড়ানোর কথা। জনগোষ্ঠীর ৯৯.৮ ভাগ মুসলিম, সামান্য কিছু খ্রীস্টান ও প্রাচীন জরথ্রুস্ট ধর্মাবলম্বী আছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশ শিয়া ও ৯ শতাংশ সুন্নী।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার জনসংখ্যার খতিয়ান করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, প্রতিদিন লাখ লাখ লোক দেশত্যাগ করে বিদেশে শরণার্থীর জীবন বেছে নিচ্ছে। ২০১৪ সালের এক এস্টিমেট অনুযায়ী দেশটির লোকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ যার ৭৫ শতাংশ সুন্নী, শিয়া ১২ শতাংশ। বাদবাকিরা মূলত খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী, সামান্য সংখ্যক ইহুদী ধর্মাবলম্বীও রয়েছে।

সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ লেবানন, ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত। এখানকার ডেমগ্রাফি বেশ মজার। আরব দেশ হলেও এই দেশটিতে রাজতন্ত্র কিংবা পরিবারতন্ত্র নেই। লোকসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগ মুসলিম, ৪০ ভাগ অমুসলিম। মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিয়া-সুন্নী প্রায় সমান সমান। সমান সমান হলেও সাংবিধানিকভাবে শিয়ারা পার্লামেন্টের স্পীকারের ওপরে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এখতিয়ার কেবলমাত্র সুন্নীদের।

শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব বলতে গেলে ইসলামের সেই আদিকাল থেকেই চলে এসেছে। রাসূলের মৃত্যুর পর মুসলমানদের একটি দল নেক্সট খলিফা হিসেবে রাসূলের জামাতা ও জ্ঞানের দরজা হিসেবে খ্যাত হযরত আলীকে সমর্থন করে এবং ‘শিয়াট আলী’ (সংক্ষেপে শিয়া) বা আলীর দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার রাজনীতির কারণে সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আলী খলিফা হতে পারেননি। প্রথম তিন খলিফার মৃত্যুর পর চতুর্থ খলিফা নিয়োগের সময় এই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে, যার প্রকাশ্য মহড়া ঘটে সিফফিনের প্রান্তরে- ‘সিফফিনের যুদ্ধ’ নামে যা ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। খিলাফত নিয়ে আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধে সামরিকভাবে আলী জয়লাভ করে, কিন্তু মুসলমানে মুসলমানে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের মাধ্যমে নয়- বরং সালিশীর মাধ্যমে ফয়সলা হওয়া উচিত- এই ধুয়া তুলে আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী মুয়াবিয়া সালিশীর দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আলীর পক্ষের সালিশকার কৌশলী মুয়াবিয়ার কাছে হেরে যায়। ফলে ইসলাম জগৎ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, ইরাক, হেজাজ ও নেজদ আলীর দখলে, সিরিয়া ও মিসর মুয়াবিয়ার দখলে। গুপ্তঘাতকের হাতে আলী নিহত হলে মুয়াবিয়া মুসলিম জগতের একমে বা দ্বিতীয়ম শাসনকর্তা বা খলিফা হয়ে বসেন। মৃত্যুর পূর্বে মুয়াবিয়া চুক্তি ভঙ্গ করে ছেলে ইয়াজিদকে উত্তরাধিকার হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে যান, এর সঙ্গে ইসলাম জগতে গণতন্ত্রের (!) প্রথা বিলুপ্ত হয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় যা প্রায় তেরো শ’ বছর ধরে ইসলাম জগতে চালু ছিল (গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তুরস্কের মুস্তফা কামাল পাশা আইন করে খিলাফত প্রথা উচ্ছেদ করেন)। মুয়াবিয়ার উত্তরাধিকারীগণ আলী বংশীয় ইমামদের পথের কাঁটা হিসেবে গণ্য করতেন এবং ছলে-বলে-কৌশলে তাদের হত্যা করার পলিসি গ্রহণ করেন। ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগ করে এবং ইমাম হোসেনকে কারবালার অন্যায় সমরে হত্যা করা হয়। আলী বংশীয় আরও যারা নির্যাতন ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়ে নিহত হন, তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন- ইমাম জয়নুল আবেদীন, বাকির আল উলুম, জাফর আল-সাদিক, মুসা আল-কাজিম, আলী আল-রেজা, মোহম্মদ আল-ত্বাকি আল-জাওয়াদ, আলী আল-হাদী ও হাসান আল-আসকারী। প্রাণের ভয়ে দ্বাদশ ইমাম মোহাম্মদ আল-মাহদী আত্মগোপনে চলে যান, তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। টুয়েলভার শিয়ারা বিশ্বাস করে যে তিনিই প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী যিনি কেয়ামতের আগে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। আলী বংশীয়দের প্রতি উমাইয়া খলিফাগণ এতটাই বিদ্বিষ্ট ছিল যে মুসলিম জগতের আনাচে কানাচে প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় আলী ও তাঁর বংশধরদের অভিসম্পাত দেয়ার প্রথা চালু করা হয়।

ধর্মপরায়ণ খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ ৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় এসে এই ঘৃণ্য প্রথা বাতিল করেন, এর পূর্বে প্রায় ষাট বছর ধরে এই প্রথা চালু ছিল। শিয়াদের প্রতি সুন্নীদের এই বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ইতিহাসের ধারা বেয়ে আজতক্ চলে এসেছে যার প্রতিফলন আমরা প্রায় প্রতিদিন দেখতে পাই। এমন কোন দিন নেই যেদিন কোন না কোন জায়গায় শিয়া মসজিদ কিংবা শিয়াদের জামাতে বোমা হামলা করে হত্যা করা না হচ্ছে। যারা বোমা মারে তাদেরই বা দোষ দেয়া যায় কী ভাবে? এই তো কিছুদিন মাত্র আগে মক্কার চীফ শেখ ফতোয়া দিলেন- ইরান ইসরাইলের চাইতেও ইসলামের বড় শত্রু। শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্বের উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে এবার মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির বর্তমান ধারাটা একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

পরাশক্তিদের ভূমিকা

বর্তমানে পরাশক্তি বলতে একমেবাদ্বিতীয়ম আমেরিকা ও তার লেজুড় ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি। আমেরিকান এজেন্ট ইয়েলেৎসিন ও গর্বাচেভের পেরেস্ত্রয়কার কল্যাণে পরাক্রমশালী সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণ ঐতিহাসিকভাবে কেন যেন রাশিয়াবিরোধী, আমেরিকা বলতে অজ্ঞান। বাজারে আমেরিকান কোন প্রডাক্ট দেখলে তাদের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে- ‘হাজা আমরিকি’- এটি আমেরিকার তৈরি, সুতরাং নির্দ্বিধায় সর্বোত্তম- এই হলো সৌদি আরব তথা অধিকাংশ আরব জনগণের গড়ে সবার মনোভাব। পক্ষান্তরে বাজারে রাশিয়ান প্রডাক্ট নাই বললেই চলে। এর একটা কারণ এই হতে পারে যে, রাশিয়া কিছুদিন আগেও কমিউনিস্ট কান্ট্রি ছিল এবং সাধারণ মুসলমানদের মনে কমিউনিস্ট মানেই নাস্তিক। এই সুযোগে আমেরিকা ও তার দোসররা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। ব্যতিক্রম শুধু ইরান, ইরাক ও সিরিয়া। ইরানে মার্কিন স্টুজ রেজা শাহর পতনের পর বহু চেষ্টা করেও আমেরিকা সেখানে সুবিধা করতে পারেনি শুধু এই একটি কারণে ইরানের মোল্লারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। ইরাকের সাদ্দাম ও সিরিয়ার বাশার আল আসাদও অন্ধভাবে আমেরিকার ধামা ধরতে রাজি ছিলেন না। সামরিক সাজ-সরঞ্জাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটায় তারা রাশিয়ার ওপর নির্ভশীল ছিলেন, আমেরিকা ও তার বিশ্বস্ততম দোসর সৌদি আরবের জন্যে যা ছিল চক্ষুশূল। সাদ্দামের অমার্জনীয় ভুল ইরান আক্রমণ আমেরিকা-সৌদি-ইসরাইল এই ত্রিদেশীয় অক্ষের সামনে সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। সাদ্দামের পতন হয় ও শক্তিশালী ইরাক আমেরিকার কব্জায় আসে। এখন বাকি থাকল শুধু সিরিয়া। কীভাবে বাশারকে সরানো যায়- সেই কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত হয়ে গোঁফে তা দিতে থাকে ত্রিজাতীয় জোট।

চলবে...