মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দ্রব্যমূল্য কারসাজি রোধে প্রতিযোগিতা আইন কার্যকর করার উদ্যোগ

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • শীঘ্রই প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ

এম শাহজাহান ॥ দ্রব্যমূল্য কারসাজি প্রতিরোধে প্রতিযোগিতা আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শীঘ্রই প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে সরকার। নতুন বছরের শুরুতেই যাতে আইনটি কার্যকর হতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের অপকৌশলের কারণে দীর্ঘ তিন বছরেও আইনটি কার্যকর হতে পারেনি। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেও সরকারের এ উদ্যোগটি ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

আইনটি কার্যকর হলে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা বৃদ্ধি, পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের প্রসার, নতুন শিল্পোদ্যোক্তা গড়ে ওঠা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং মুক্ত বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন। তাই এ আইনটি দ্রুত কার্যকর হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট চক্র পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণে সবর্দা কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নিত্যপণ্যের বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির জন্যও তারা দায়ী। কিন্তু এত কিছুর পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনী কোনও হাতিয়ার সরকারের কাছে ছিল না। সে কারণেই গত ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন করা হয়।

এ আইনের ওপর ভিত্তি করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে একটা স্বাধীন প্রতিযোগিতা কমিশনও গঠন করা হবে। এ কমিশনের কাজ হবে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা এবং একচেটিয়া ব্যবসা রুখে দিয়ে ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করা। কমিশন বাজার সিন্ডিকেট ভাঙ্গা, মূল্যের ওঠা-নামার ওপর নজর রাখা, অতিরিক্ত মুনাফার শিকার থেকে ভোক্তাকে রক্ষা করা, বাজার নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করা এবং সর্বোপরি ভোগ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করার কাজগুলোও করবে।

জানা গেছে, বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট রুখতে প্রতিযোগিতা বিল-২০১২ সংসদে পাস করা হয়েছে। বিলে পণ্য বাজারে সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করলে এক বছরের কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু সংসদে পাস হওয়ার পর দীর্ঘ তিন বছরেও প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ ও কমিশন গঠন করা যায়নি। ফলে আইনটি কার্যকর হতে পারছে না। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা থাকায় নতুন বছরের শুরুতেই প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে কয়েকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হয়েছে। চলতি মাসে এ সংক্রান্ত আরেকটি বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপরই চেয়ারম্যান নিয়োগ ও কমিশন গঠন করা হবে। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন সম্প্রতি জনকণ্ঠকে বলেন, এটি একটি ভাল আইন। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় সরকার এ আইনটি করেছে। এটি কার্যকর হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি বন্ধ হবে। তাই আইনটি দ্রুত কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নে দ্রুত কম্পিটিশন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদার বাণিজ্য ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাজারের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম নিয়ে দেশে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়েছে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও ভারতের দোহাই দিয়ে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম নেয়া হয়েছে। বিশ্বের কোন দেশে এ ধরনের নজির নেই বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে একদিকে ভোক্তাদের স্বার্থ বিঘিœত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করেন। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিযোগিতা আইন কার্যকর না হওয়ার কারণে কিছু অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লিখিত বা অলিখিত চুক্তি মাধ্যমে জোট বেঁধে দাম নিয়ন্ত্রণ করে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। গত কয়েক বছর বাজারে পণ্যের অযৌক্তিক দাম বাড়ানো ও অস্থিরতার জন্য এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়িক কর্মকা-ই দায়ী বলে মনে করছে সরকার। রাজধানীর মৌলভীবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জকে কেন্দ্র দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৭টি পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ১৭টি পণ্যের একটি হলো মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ। সম্প্রতি একদিনে তিনবার বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম। সর্বোচ্চ ৬৫Ñ৭৫ টাকা বাড়ানোর পর দু’দিনের ব্যবধানে আবার তা ২০ টাকা কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটাই বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি থাকার কারণে নিত্যপণ্যের দরদাম নিয়ে এ ধরনের কারসাজি হচ্ছে। এজন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: