২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রার্থী নিয়ে চায়ের কাপে ঝড়


সমুদ্র হক ॥ যমুনা তীরের সারিয়াকান্দির পৌর নির্বাচন মধ্যবেলায় এসে স্রোত আর উল্টো স্রোতের মতোই বহমান। শেষে নদী ভাঙনের মতোই কোন দিকের তীর যে ভেঙ্গে যায় এ নিয়ে মেয়র সমর্থকরা শঙ্কিত, ভোটাররা বুঝে উঠতে পারছে না। এ নিয়ে ভোটার নামের আম পাবলিক পড়েছে মহাফাঁপরে। পৌর এলাকার একজন বললেন, ‘বাপুরে কি যে কারবার হচ্চে কুন দিকের ঢেউ কুন মুরা (দিকে) যাচ্চে বুঝব্যরই পারিচ্চি না।’ পানি প্রকৌশলীদের কাছে যমুনা নদী যেমন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ ইলেকশনের মেয়র পদের হারজিতের হিসাব-নিকাশটিও তারচেয়ে বেশি। তারপরও মেয়রের গদিতে তো একজন বসবেন কে সেই ভাগ্যবান!

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর ভোটারদের ধারণা ছিল সিটিং মেয়র বিএনপির টিপু সুলতানের সঙ্গে এবার আওয়ামী লীগের ফাইটটি হবে কাইট কাইট ফাইট ফাইটের মতো। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিনে ভুল-ত্রুটির কারণে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থী আব্দুল হামিদ সরদার ও আব্দুর রশীদ ফারাজীর (স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল) মনোনয়ন বাতিল হয় একই কারণে। হারাধনের ছেলেদের কবিতার মতো দলীয় মনোনয়নে মাঠে থাকেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যে দুইজন ছিলেন তাদের একজন খোরশেদ আলম তিন বার নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং বর্তমানে প্যানেল মেয়র। আরেকজন জালাল উদ্দিন খুচরা প্রার্থী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমন বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন। এরই মধ্যে উচ্চ আদালতের রায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ সরদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ ফারাজী প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। বিএনপির টিপু সুলতানও উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন তবে বৈধতা পাননি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমনের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগেরই দু’জন। দলীয় প্রতীক নৌকার সঙ্গে জগ (হামিদ সরদার) ও চামচ (ফারাজী)। এর সঙ্গে আছে মোবাইল ফোন (খোরশেদ) ও নারিকেল গাছ (জালাল)। নৌকার বাইরে স্বতন্ত্রদের প্রতীকগুলো নিয়ে বেশ মজা করে কথা বলে ভোটাররা। চায়ের কাপের ঝড়ের সঙ্গে নদীর স্রোতের উথাল-পাথাল ঢেউ এক হয়ে মিশে যাচ্ছে।

বগুড়ার আঞ্চলিক কথায় এক মুরুব্বি বললেন ‘কও তো বাপু এঙ্কা হয়া গেল ক্য! এখন কুন মুক থুয়্যে কুন মুকে যাই (কোন দিক রেখে কোন দিকে যাই)।’ সারিয়াকান্দি বাজারের চায়ের স্টলের এক তরুণ ইংরেজি শব্দের কিছু না বুঝেই বললেন ‘ক্যানডিডেটরা বড়ই ফ্যাসিলিটির মধ্যে আছে।’ যখন জানতে চাওয়া হয় কি রকম ফ্যাসিলিটি? উত্তর মেলে ‘ও আপনেরা বুঝব্যন না। যারা দাঁড়াইছে (প্রার্থী) তারাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্চে।’ কোন প্রার্থীর অবস্থান কি তার জানার কৌতূহল আছে ভোটারদের মধ্যে। এ কৌতূহলে আওয়ামী লীগ সমর্থক একজন বললেনÑ সারিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগের খুব ভাল। বিশেষ করে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান যত উন্নয়ন করেছেন এর আগে কোন জনপ্রতিনিধি তা করেননি। সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের দলীয় ইমেজ কাজ করছে। আরেকজন বললেন, একই দলের তিন প্রার্থী। দলীয় প্রতীকে একজন বাকি দু’জনের প্রতীক আলাদা। এ অবস্থায় কি হতে হতে পারে? এমন একটি প্রশ্ন আসছে দলীয় ইমেজের সঙ্গে।

সারিয়াকান্দী পৌরসভা এলাকা একেবারে যমুনার তীরে। যদিও নদী অনেকটা দূরে তারপরও নদী তীরের গ্রামীণ জীবনযাত্রার একটা প্রভাব শহুরে জীবনের মতো পৌরসভাতেও পড়ে। পৌরবাসীর কথাÑ পৌর সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে উন্নয়নের ধারা বিশ্লেষণ করে এবার ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে। যমুনা তীরের মানুষ ভাঙ্গনের থাবার মধ্যে থেকেই অস্তিত্বের জন্য লড়াই করে টিকে আছে। পৌর নির্বাচনকেও তারা উন্নয়নের মধ্যে আনতে চায়। এজন্য যে মেয়র প্রার্থী যোগ্যতার পরিচয় দেবেন ভোটারদের কাছে তারই গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। পৌরসভার মেয়র আসনটি তার জন্যই অপেক্ষা করছে।