মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • রাজশাহীতে তিন মেয়র ও ১৬ কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে রাজশাহীর বিভিন্ন পৌরসভায়। এসব বিষয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তানোর পৌরসভার সব মেয়র প্রার্থী ও ১৬ কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজ করেছে উপজেলা নির্বাচন কমিশন। বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনার দেয়ালে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়েছে।

তানোর উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান ভূঞা বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। অভিযুক্ত মেয়র প্রার্থীরা হলেন: আওয়ামী লীগ ইমরুল হক (নৌকা), বিএনপি মিজানুর রহমান মিজান (ধানের শীষ) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজ সরকার (নারিকেল গাছ)।

এ ছাড়াও অভিযুক্ত ১৬ কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন: ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিমুদ্দিন, জাকির হোসেন, জিয়াউর রহমান, মোরছালিন, আব্দুল জলিল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ফারুক ইসলাম, জুয়েল উদ্দিন, পিয়ারুল হক, মামুনুর রশিদ, নুরুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শামসুল সোনার, মনসুর সোনার, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জুলেখা বিবি, পিয়ারজান বিবি, ফরিদা বিবি ও ফুলজান বিবি।

তানোর উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান ভূঞা বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৮ ধারায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। এর আগে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তানোর পৌর নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখতে পান বিভিন্ন এলাকায় দেয়ালে পোস্টার লাগানো আছে। যা নির্বাচন প্রচার আইনের লঙ্ঘন।

এদিকে পুঠিয়া পৌরসভায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচনী ভ্রামমাণ আদালত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রত্যেককে জরিমানা প্রদান করতে হয়েছে। এরমধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের দ-প্রাপ্ত কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন: মাজেদুর ইসলাম (ব্ল্যাক বোর্ড) ও মহিরউদ্দীন (পাঞ্জাবি)।

জেলার অন্যান্য পৌরসভায় সমানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক চলছে। এক পোস্টারের ওপর আরেক প্রার্থীর পোস্টার সাঁটানোসহ সরকারী স্থাপনার দেয়ালেও ভরে গেছে পোস্টারে। সড়ক বন্ধ করে পথসভা ও মোটরসাইকেল শোডাউন চলছে বিভিন্ন পৌরসভায়।

কুড়িগ্রামে ভয়ভীতি প্রদর্শন

স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম থেকে জানান, পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। প্রচারের সাথে আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখলসহ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। বৃহস্পতিবার পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানাসহ জেলার নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র প্রার্থী নুর ইসলাম নুরু নির্বাচনী প্রচারণা করছে। অপরদিকে বাজার এলাকায় নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র প্রার্থী আব্দুল জলিল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলী নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এ সময় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নুর ইসলাম নুরু অভিযোগ করেন সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থীর লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের জীবননাশের হুমকি প্রদান করছে। এ ছাড়াও একটি ভোট দিয়ে হলেও এবারের আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত করবে বলে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাই ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই মেয়র প্রার্থী। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, জেলার ৩টি পৌরসভা নির্বাচনে ভোট সুষ্ঠু হলেও তিনটিতেই বিএনপি জয়লাভ করবে বিপুল ভোটে। ভোট সুষ্ঠু করার জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র প্রার্থী আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমান মেয়র তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। তিনি মেয়র হওয়ার সুবাদে পৌরসভার স্টাফদের নানানভাবে প্রভাবিত ও হুমকি দিচ্ছেন বিএনপির হয়ে কাজ করার জন্য। এ ছাড়াও বর্তমান মেয়র তিনি পৌরসভায় টেন্ডারকৃত হতদরিদ্রদের জন্য দেয়া টিউবওয়েল নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ক্রয়কৃত বলে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে তা বিতরণ করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলী বলেন, নৌকা প্রতীকের জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। কারণ কুড়িগ্রামে যে উন্নয়ন হয়েছে তা এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই। এখানকার মানুষ তাই নৌকা প্রতীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করবে।

কচুয়ায় অর্থদ-

নিজস্ব সংবাদদাতা, কচুয়া, চাঁদপুর থেকে জানান, কচুয়া পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধানকে অর্থদ- করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলক কুমার ম-ল হুমায়ুন কবির প্রধানকে ২৫ হাজার টাকার দ-াদেশ প্রদান করেন এবং আচরণবিধি মেনে চলার জন্য শেষবারের মত সতর্ক করে দেয়া হয়। কচুয়া থানার ওসি (তদন্ত) শামসুল হক জানান, শুক্রবার সকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পৌর বাজারে তার কর্মী সমর্থক নিয়ে মিছিল সমাবেশ করে।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

পৌর নির্বাচন-২০১৫



শীর্ষ সংবাদ: