২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হ্যামিল্টন টেস্ট ॥ ম্যাথুসের ব্যাটে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাহেলা জয়াবর্ধনে-কুমার সাঙ্গাকারা অবসরে যাওয়ায় তিনিই দলের সেরা ব্যাটসম্যান। নেতৃত্বের সঙ্গে বাড়তি দায়িত্বটাও চওড়া কাঁধে তুলে নিয়েছেন এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। কঠিন পরিস্থিতিতে ঠিকই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। হ্যামিল্টনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ৭ উইকেটে লঙ্কানদের সংগ্রহ ২৬৪, যেখানে ৬৩ রান নিয়ে ব্যাটিং করে যাচ্ছেন অধিনায়ক ম্যাথুস। খাতা খোলার অপেক্ষায় তার সঙ্গী দশমুন্থ চামিরা। ডুনেডিনে সহজ জয়ে ১-০তে এগিয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি তাই দু’দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, সিরিজ বাঁচাতে যেখানে জয়ের বিকল্প নেই অতিথি শ্রীলঙ্কার সামনে।

ম্যাচ শুরুর আগেই হ্যামিল্টন টেস্ট ঘিরে বিতর্ক। বিতর্ক সেডন পার্কের পিচ নিয়ে। দীর্ঘকায় ঘাস রেখে যেটি জন্ম দিয়েছে কিউই বোর্ড। লক্ষ্য একটাই কনকনে ঠা-ায় পেস আক্রমণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। টস জিতে ব্যাটিং নিতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবেননি অন্যরকম অর্জনের (৯৯তম টেস্ট) ম্যাচে মাঠে নামা স্বাগতিক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। অভিষেক থেকে টানা ম্যাচ খেলার পথে এটিই এখন নতুন রেকর্ড। এক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সকে (৯৮ টেস্ট) পেছনে ফেলেন ব্ল্যাকক্যাপস অধিনায়ক। ৪৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার দিমুথ করুনরারতেœ (১২), কুশল মেন্ডিস (৩১) তুলে নিয়ে ঘাস-তত্বকে উসকে দিচ্ছিলেন টিম সাউদি। এরপরই লঙ্কান প্রতিরোধ।

সফরকারীদের স্কোরটা আরও বড় হতে পারত। আশা জাগিয়েও নিজ নিজ স্কোর বড় করতে পারেননি অতিথি ব্যাটসম্যানরা। ব্যক্তিগত ২৬ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউট হয়ে উদারা জয়সুন্দেরা যখন সাজঘরে ফেরন শ্রীলঙ্কার রান তখন ১১৫। ফর্মের তুঙ্গে থাকা দিনেশ চান্দিমালকে সঙ্গী করে সুপার ম্যাথুস দারুণ খেলছিলেন। যাতে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের প্রথম দিনেই বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত মিলছিল। কিন্তু ডগ ব্রেসওয়েলের বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রতিভাবান চান্দিমাল। ৩ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি হয়নি তার। দলের রান তখন ১২১। এরপরও কক্ষপথে ছিল লঙ্কানদের ইনিংস। এবার ম্যাথুসের সঙ্গী হন তরুণ অলরাউন্ডার মিলিন্দা শ্রীবর্ধনে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন নাগোদার শহরতলীতে জন্ম নেয়া এই বাঁহাতি।

৪ উইকেটে দলীয় স্কোর আড়াই শ’ ছাড়িয়ে যায়। পঞ্চম উইকেটে ৩০ ওভারে সর্বোচ্চ ১৩৮ রান যোগ করেন ম্যাথুস-মিলিন্দা। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ওয়ানডে স্টাইলে মাত্র ৮১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রান করেন ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা মিলিন্দা। ১১১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৩ রান নিয়ে অপরাজিত ম্যাথুস। অধিনায়ক ম্যাথুসকে ‘সুপার’ বললেও কম বলা হবে। শ্রীলঙ্কার নেতৃত্ব পাওয়ার পর ব্যাট হাতে তার রানের গড় ৬৪.৭৫, যা আগে ছিল ৩৯.৭১। কমপক্ষে ৪০ টেস্ট খেলেছেন এমন লঙ্কান অধিনায়কের মধ্যে ম্যাথুসের পেছনে মাহেলা (৫৯.১১)। ‘প্রথম সেশনের প্রেসারটা আমরা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখাতে পারিনি।’Ñ কিউই পেসার সাউদির বক্তব্যেই পরিষ্কার ঘাসে ভরা সবুজ উইকেট খুব একটা লাভ হয়নি স্বাগতিকদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ॥ শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস ২৬৪/৭ (৬৭ ওভার; ম্যাথুস ৬৩*, মিলিন্দা ৬২, চান্দিমাল ৪৭, মেন্ডিস ৩১, জয়াসুন্দর ২৬, করুনারতেœ ১২; বোল্ট ২/৪৩, সাউদি ২/৫১, ব্রেসওয়েল ১/৭৯)।