মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চট্টগ্রামের দুটি কলেজে অস্ত্র মহড়া নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবক

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে দুটি স্বনামধন্য কলেজে অস্ত্রের মহড়া ও যোগান নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত অভিভাবকরা। দীর্ঘ প্রায় বিশ বছরেরও বেশি সময় ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজে শিবিরের আধিপত্য রক্ষার ওপর অন্য কোন রাজনৈতিক দল প্রভাব ফেলতে পারেনি। কলেজ গেট থেকে শুরু করে ছাত্রাবাসের বিছানা পর্যন্ত সবকিছুই ছিল শিবিরের নিয়ন্ত্রণে। এমন কলেজে ছাত্রলীগের মিছিল ও স্লোগান জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত এ কলেজ দুটিতে প্রভাব ফেলেছে। শিবির বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে মিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্রলীগকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এমনকি পুলিশ সরকারী দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে আগামীতে সমুচিত জবাব দেয়ার ঘোষণার বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, ঠা-া মেজাজের শিবির ক্যাডাররা যে কোন মুহূর্তে এ দুটি কলেজে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে আবারও ছোবল হানতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম কলেজে মাত্র কয়েক বছর আগে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। এর আগে শহীদ বেদিতে কখনও পুষ্পস্তবক অর্পণের সুযোগ ছিল না। কলেজ গেট থেকেই অপরিচিত জনদের চোখে চোখে রাখত শিবির ক্যাডাররা। আগন্তুক মানেই তির্যক দৃষ্টির একটি বস্তুতে পরিণত করত শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি ভাসমান হকারদেরও। শিবির নিয়ন্ত্রিত এ দুটি কলেজে ছাত্রাবাসগুলো নিজেদের ছত্রছায়ায় থাকাদের জন্যই যেন গড়ে তোলা হয়েছে এমন আচরণ করা হতো নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। ভর্তি থেকে শুরু করে একাডেমিক সকল কাজেই দফতরগুলো চলত শিবিরের ইশারায়। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত কোন অনুষ্ঠানই পালন করা হতো না এ কলেজে। এমনকি নবীন বরণ অনুষ্ঠানেও শিবিরের জয়গানে মত্ত হতে হতো সবাইকে। এমন অনুষ্ঠানে উপস্থাপককে শিবিরের তৈরি করা অনুষ্ঠানমালা পরিচালনা করতে হতো। কোন কিছুই শিবিরের আইনের বা নিয়মের বাইরে নয়।

এমন গ-ি থেকে গত দুয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীরা অনেকটা বেরিয়ে এসেছে সরকার দলীয়দের কারণে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারী এ দুটি কলেজে ছাত্র রাজনীতির নামে শিবির কিভাবে গত ত্রিশ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করছে এমনকি কলেজ প্রধানের এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিবিরের হলগুলোতে কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সম্মিলিত শিক্ষক পরিষদ কখনও পরিদর্শনেও না যাওয়ার পেছনে কি কারণ রয়েছে। পুলিশের প্রশ্ন সরকারী এ দুটি কলেজের অর্থনৈতিক ভর্তুকি দিয়ে আসছে সরকার। অথচ, রাজনৈতিক দিক থেকে ফায়দা নিচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। এর পেছনে কলেজ শিক্ষকদের অনেকেই জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়াও এ দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আতঙ্কমুক্ত করা গেলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে।

চকবাজার থানা সূত্রে জানা গেছে, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে চলতি বছরে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে শিবির ক্যাডারদের গ্রেফতারে ও ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারে। ছাত্রাবাস থেকে শুরু করে কলেজ কেন্টিন এমনকি পরিত্যক্ত স্থানগুলোতেও অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র। সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বেশকিছু ধারালো অস্ত্র, গোলাবারুদের খোসা, ৬টি হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র। এ সময় শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টধাওয়ার ঘটনায় ৩৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করতে হয়েছে। দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ১৪ জনকে। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনে সকলে মিলে ১৪ জন ও অস্ত্র আইনে পৃথকভাবে ৪ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। পলাতক রয়েছে মহসিন কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি।

কলেজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ জানান, বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত। কিন্তু ছাত্রাবাসে যে কোন ধরনের অস্ত্র রাখা আইনত দ-নীয়। এমনকি যা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে। স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাঙ্গামার বিষয়টি কখনও অভিভাবকরা মেনে নেবেন না। পুলিশ প্রশাসনও এ বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে অভিযানের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উদ্ধার অভিযান যে কোন ক্ষেত্রে চালানো হতে পারে।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: