মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রমে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • গত এক বছরে ১৮ হাজার সমিতির নিবন্ধন বাতিল

নাজনীন আখতার ॥ আইনলঙ্ঘন, বিধিমালা মেনে না চলা ও অকার্যকারিতার কারণে গত অর্থবছর ১৮ হাজারেরও বেশি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করেছে সমবায় অধিদফতর। এর আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ। এছাড়া আগের বছরের তুলনায় সমিতিগুলো থেকে প্রায় তিনগুণ সদস্য সংখ্যাও কমে গেছে। গত অর্থবছরে সদস্য সংখ্যা কমেছে ১১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দেয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সমবায় অধিদফতর।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৪Ñ২০১৫ অর্থবছরে নতুন নিবন্ধন হয় ১২ হাজার ৮৫টির। ওই বছর নিবন্ধন বাতিল করা হয় ১৮ হাজার ১১৫টির। ওই সময়ে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৭ জনে এবং একই সময়ে ১১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৫ সদস্য সংখ্যা কমেও যায়। ২০১৩Ñ২০১৪ অর্থবছরে নতুন নিবন্ধন হয় ১৮ হাজার ১৫১টি সমিতির এবং নিবন্ধন বাতিল হয় ৯ হাজার ৬৮৮টির। ওই অর্থবছরে সদস্য সংখ্যা ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৮ জন বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৯৭ জন। এছাড়া ২০১২Ñ২০১৩ অর্থবছরে নতুন নিবন্ধন হয় ১২ হাজার ২০৭টি সমিতির এবং নিবন্ধন বাতিল হয় ১০ হাজার ৪৭১টির। ওই অর্থবছরে সদস্য সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৮ জন বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় ৪ লাখ ২ হাজার ৯৪৬ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানানÑ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন একটি দফতর হচ্ছে সমবায় অধিদফতর। জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণের লক্ষ্যে নেয়া সরকারী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সমবায় অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সমবায় অধিদফতরের দাফতরিক কার্যক্রম সদর দফতর, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা এ চার পর্যায়ে বিস্তৃত। সমবায় সমিতির নিবন্ধনসহ সমবায়ভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে সমবায় আন্দোলনকে গতিশীল করতে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সমবায় অধিদফতরের মূল লক্ষ্য। সমবায় সমিতি আইন/২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০০৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা/২০০৪ অনুযায়ী সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে অধিদফতর। দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমবায় অধিদফতরে মোট ৪ হাজার ৪৯৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে অকার্যকর প্রাথমিক সমবায় সমিতির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯০৪ সালে পল্লী এলাকার উন্নয়ন কৌশল হিসেবে বাংলাদেশে সমবায় কার্যক্রম শুরু হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমবায় আন্দোলন শত বছরের বেশি সময় ধরে টিকে আছে। এরপরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিদফতর বর্তমানে মৌলিক কিছু সমস্যার সম্মুখীন। যেমনÑ অনেক বেশি সংখ্যায় অকার্যকর প্রাথমিক সমবায় সমিতি বেড়ে যাচ্ছে। বেশকিছু বহুমুখী সমবায় সমিতির সাম্প্রতিক কর্মকা- অধিদফতরের কাজে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমবায় সমিতিগুলোতে রয়েছে অর্থায়ন সমস্যা। সমবায়ীদের পেশাগত দক্ষতা ও সঠিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সমস্যা আছে। সমবায় সমিতির প্রচুর পরিমাণে স্থাবর সম্পত্তি একটি সুবিধাভোগী শ্রেণীর দখলে চলে গেছে। এছাড়াও অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহন সমস্যা ও অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমবায় ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাফল্যের সঙ্গে ওইসব সমস্যা মোকাবেলা করতে পারলে সমবায় আন্দোলনে নতুন করে গতিশীলতা ফিরে আসবে।

এদিকে সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়া অধিদফতরের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, আনুপাতিক হারে অধিদফতরের বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৫Ñ২০১৬ অর্থবছরে চারটি কোডে অর্থাৎ সমবায় অধিদফতর, জেলা সমবায় কার্যালয়, উপজেলা সমবায় কার্যালয় এবং সমবায় প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাখাতে মোট বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ১২৩ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: