মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৪শ’ শহীদের স্মৃতি ভরা কলসকাঠি

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

স্বাধীনতা যুদ্ধে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নদী ঘেরা হিন্দু অধ্যুষিত ১৩ জমিদারের বিরাণভূমি কলসকাঠি গ্রামে পাক সেনা ও তাদের দোসরদের নির্মম বুলেটে নিহত চারশ’ শহীদের স্মরণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কলসকাঠিতে সরকারী উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। কিন্তু তাদের সে দাবি আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর ২০০৫ সালে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে বাজারসংলগ্ন প্রাচীনতম কলসকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়রা সরকারী উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে ওই এলাকায় সু-বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে।

দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৪ মে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে নদী ঘেরা হিন্দু অধ্যুষিত ১৩ জমিদারের বিরাণভূমি কলসকাঠি গ্রামবাসীর ওপর নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ওই গ্রামে আশ্রয় নিয়ে আছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের এমন সংবাদের ভিত্তিতে পাক সেনারা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে নিরীহ গ্রামবাসীকে পাকড়াও করে। কেউ কেউ পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সবদিক থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা ১০/১৫জনের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পুরো গ্রামটিকে ঘেরাও করে বাড়ি বাড়ি তা-ব চালায়। সেদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কলসকাঠির বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, বাজারের দোকানপাট লুটতরাজ, অগণিত নারীর সম্ভ্রমহানি ও চার শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। হায়েনারা ১০ নারীকে তুলে নিয়ে যায় তাদের ক্যাম্পে। সেখানে পাঁচ দিন আটক রেখে নির্যাতন শেষে ছেড়ে দেয় তাদের। ওইদিন ঘাতক পাক সেনাদের বুলেটে কলসকাঠির দু’টি খালের ঘোলা জল শহীদের রক্তে লাল হয়ে ওঠে।

-খোকন আমম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: