১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বাগবাটি স্মৃতিসৌধের কাঁধে ১০৪ শহীদ


সিরাজগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে বাগবাটি গ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৭ মে। ফজরের আজানের আগেই গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলে পাকি হায়েনার দল। পাকি মিলিটারীরা গ্রাম ঘিরে ফেলেছে খবর পেয়ে জীবন বাঁচাতে যে যেখানে পেরেছে, সে সেখানে পালিয়েছে। বাঁশঝাড়, ঝোঁপ-জঙ্গল নিরাপদ মনে করে যারা আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই ইতিহাসের নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যার শিকার হয়েছে। বাঁশঝাড়, ঝোঁপ-জঙ্গল থেকে ধরে এনে লাইনে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। তাদের কবর কিংবা সৎকারও হয়নি। হাত-পা ধরে টেনে হিঁচড়ে কূপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। যারা সেদিন এ দৃশ্য দেখেছে, আজও তারা শিউরে ওঠে সেসব কথা মনে পড়লে। কেউ বাবা হারিয়েছে, কেউ বা হারিয়েছে ভাই। আগুনে পুড়েছে অনেকের বাড়িঘর। রাজাকার আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় সেদিন পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর হায়েনার মতো হামলে পড়ে। গুলি করে হত্যা করে শিশু নারী পুরুষকে। শহীদ হয় হিন্দু মুসলমান মিলে ১০৪ জন। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় হয় বাড়িঘর, সম্ভ্রম লুটে নেয়া হয় মা-বোনের। আজও সেদিনের সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে বেঁচে আছে অনেকে। সেই শহীদ পরিবারের সন্তানদের দাবি একটাই- তারা যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি চায়। দ- কার্যকর দেখে যেতে চায়।

২৭ মে বাগবাটিতে মোট ১০৪ জন শহীদ হয়েছে তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার মধ্যে ৪৫ জনের তালিকা গ্রামের বিভিন্ন পাড়া থেকে সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। বাকি যারা শহীদ হয়েছে তারা শহর কিংবা অন্য গ্রাম থেকে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের পরিচয় এখন আর কেউ বলতে পারে না। বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর ২৭ মে স্মৃতি সৌধ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

-বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে