মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৮ আগস্ট ২০১৭, ৩ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ক্ষমতায় থাকুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম। আলাদা একটি দেশ পাব, নাম হবে- ‘বাংলাদেশ’। নিজস্ব জাতীয় পতাকা থাকবে- সবুজের ওপর গোলাকার লাল রং। জাতীয় সঙ্গীত হবে- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। বেতার টেলিভিশনের সূচনা সঙ্গীত হিসেবে বাজবে- ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানখানি।

১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে, তাই বাংলাদেশে জাতির জনক থাকবেন- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। জাতীয় সেøাগান হবে- ‘জয় বাংলা’ জয় বঙ্গবন্ধু’। জাতীয় পরিচয় হবে- ‘বাঙালী’ দেশে থাকবে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিটি বাঙালী থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। দুর্নীতি, ঘুষ, লুটপাট, হত্যা, গুম প্রভৃতি ঘৃণা করে প্রতিটি বাঙালী সৎ জীবনযাপন করবেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পুরো বাংলাদেশ পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত হলো। আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে- হঠাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর থেকে বাংলাদেশের চিত্রপট গেল পাল্টে। আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম তা আর থাকল কোথায়! খুনী মোশতাকের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে দিনের পর দিন কারফিউ জারি করে শাসনের নামে চালিয়েছিল শোষণ। ’৭১-এর ঘাতকদের মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি আরও কত কি বানালেন তিনি। বহুদলীয় গণতেন্ত্রর নামে দেশে একাত্তরের ইয়াহিয়ার প্রেতাত্মারা পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে রাজনীতি শুরু করে দিল। জেনারেল জিয়ার শাসনামল থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ভুলিয়ে দেয়ার নানা ছলচাতুরি-কৌশল শুরু হয়েছিল। ওরা বিশ্বাস করে না ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ- যেজন্য স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন জাতীয় প্রচার মাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি ৭ মার্চের ভাষণ। জাতীয়ভাবে পালনও হয়নি ১৫ আগস্ট শোক দিবস। আসলে ওরা ক্ষমতায় এলে স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস হয়ে যায় বিকৃত। শুধু কী তাই, ওদের শাসনামলে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হতো না- এমনকি জাতীয় সঙ্গীত গাইতেও দেয়া হতো না। শুনি, এখনও নাকি কোন কোন মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ পরিবেশিত হয় না। স্বাধীনতাবিরোধীরা বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকার জন্যই এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের অনেকেই জানে না বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কি! এই স্বাধীনতাবিরোধীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল বিএনপির শাসনামল থেকে, অর্থাৎ তখন তো ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি। কথাগুলো বলতে বাধ্য হলাম এজন্য যে, যারা আজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না; মুক্তিযুদ্ধের সেøাগান- ‘জয় বাংলা’ বলে না; মানে না ‘বঙ্গবন্ধুকে’ তাদের কেন এতো গুরুত্ব দেয়া। ওই বৃদ্ধ আরও জানালেন, মনে রাখবেন-স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে তারা আবার কোনভাবে ক্ষমতায় বসতে পারলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ এই জাতীয় সঙ্গীত জামায়াতের প্ররোচনায় পড়ে তারা পাল্টে দেবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম চিহ্ন কিছুই রাখবে না। জাতীয় পতাকা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকবে কি-না তাতে সন্দেহ রয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে তাও চিরতরে মুছে দেবে ওরা। মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ ইতিহাস বিকৃত করে দেবে। রাজাকারদের মুক্ত করে সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন, নিযাঁতন চালাবে ইত্যাদি আরও কত কি।

সুতরাং সাবধান, এখনই বাঙালী জাতিকে সতর্ক হতে হবে, হতে হবে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের প্রত্যাশা চিরদিন এই বাংলাদেশে যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় থাকুক। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হোক ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’।

লিয়াকত হোসেন খোকা

ঢাকা।

যেন শ্বশুরালয়

মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার সর্বত্র মাদক ব্যবসার জমজমাট বেচাকেনা চলছে। মেঘ বৃষ্টি আঁধার রাতে মাদক আছে সকল স্থানে, মাদক ব্যবসায়ীরা খুবই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব কারণে শ্রীনগর উপজেলাবাসী বিশেষ করে সকল অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছে। কখন কার সন্তান মাদক সেবনকারী বা মাদক বিক্রয়কারীর খপ্পরে পড়ে যায়।

এলাকাবাসী অবাক বিস্ময়ে দেখছে এসব মাদক ব্যবসায়ীর কিছুই হচ্ছে না। পুলিশের গ্রেফতার এবং অনতিবিলম্বে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীরা টাকার জোরে জেলহাজতকে শ্বশুরালয় বানিয়ে ফেলেছে।

শ্রীনগর সদর এলাকায় দেখা যায় একেক ব্যক্তি পাঁচ সাত বারও মাদক (বাবা) নিয়ে ধরা পড়ে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে গেছেন, আবার বীরদর্পে ফিরে এসে ব্যবসা চালু করেন। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান মাদক নিয়ন্ত্রণে একটু কঠোর হবেন। এলাকার যুবক সম্প্রদায়কে সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিন।

কাজী নুরুল আমিন

কলেজ রোড, মুন্সীগঞ্জ।

গণপরিবহনে চাই সমতা

আমাদের দেশে আইন করে ২০০৭ সাল থেকে নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীদের ৫৬ সিটের বাসের ৯টি আসন ও মিনিবাসের জন্য ৬টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছে। তবে মিনিবাসের জন্য তা অবশ্যই চালকের পিছনের আসনের ৬টি আসন। গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর নয়। অথচ ঢাকাতে চলাচলকারী মিনিবাসগুলোকে নারী ও শিশুর জন্য যে ৬টি আসন বরাদ্দ রাখা হয় তা চালকের বামপাশে ইঞ্জিনের ওপর। ৫৬ আসনের বড় বাসগুলোতে অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। নারীরা বাসে উঠে যখন ঐ আসনে বসে থাকা কোন পুরুষ যাত্রীকে বলেন- সংরক্ষিত আসনগুলো থেকে উঠে যেতে তখন তারা প্রশ্ন করেন, তাহলে হেলপার আগে বলল না কেন, যে মহিলা এলে উঠে যেতে হবে? খুব অবাক করা ব্যাপার হলো যখন কোন নারী গাড়ি ফাঁকা পেয়ে ৯টি আসন বাদ দিয়ে অন্য কোন আসনে গিয়ে বসেন, এরপর যখন অন্য নারীরা বাসে উঠে সেই সংরক্ষিত আসন পুরুষদের ছেড়ে দিতে বলেন তখন পুরুষদের প্রশ্ন, তাহলে নারীরা আমাদের আসনে বসে আছে কেন সংরক্ষিত আসন বাদ দিয়ে। শিক্ষিত যাত্রীরা যারা বাসে থাকেন তারা কিছুতেই এটা বোঝাতে পারেন না তাদেরকে যে, ৯টি আসন সংরক্ষিত (নারী-শিশু-বয়স্ক-প্রতিবন্ধীদের) জন্য। এছাড়া বাকি আসনগুলোতে নারী-পুরুষ যে কেউ বসতে পারেন। কখনও কখনও তো এমন ঘটনাও ঘটে। ৯টি আসন পরিপূর্ণ হয়ে গেলে পুরুষ যাত্রীরা ঘোষণা করে দেন চালককে- আর নারী যাত্রী নিও না। মহিলা আসন ভরে গেছে। যাত্রীদের এটা বোঝাতে হবে যে সংরক্ষিত আসন শুধুই নারী-শিশু-প্রতিবন্ধী- বয়স্কদের জন্য, বাকিগুলোতে নারী-পুরুষ যে কেউ বসতে পারেন।

সুজানা আলী সুইটি

তিলপাপাড়া, ঢাকা

ংুঁধহধ ধষর ১৩৯ @ মসধরষ.পড়স

মেলেনি বন্ধ্যকরণ

অপারেশনভাতা

নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের মাতবর বাড়ির হাজেরা বেগম তিন বছরেও পাননি বন্ধ্যকরণের অপারেশন টাকা। নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন তিন বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জের রিজিয়া ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে তার একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। পরিবার পরিকল্পনাকর্মীর পরামর্শে তিন সন্তানের মা হওয়ায় তাকে সিজার করার সময় লাইগেশন করানো হয়। তার সন্তানের বয়স তিন বছর। সরকারী বিভাগ থেকে জানানো হয় সিজারের মাধ্যমে লাইগেশন করা হলে তাকে নগদ দুই হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এর জন্য সরকারী একটি ফরমে তার স্বাক্ষরও নেয়া হয়। বলা হয়েছিল সরকারী টাকা পেতে হলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সরকারীকর্মীকে বিশ্বাস করে হাজেরা কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। তিন বছর চলে গেলেও তিনি তার টাকা পাননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীর কাছে জানতে হলে তাকে জানান হয় সরকারী টাকা পাস হলেই পাবেন। কিন্তু হাজেরা বেগম আজও টাকা পাননি। জানা যায়, সরকারীকর্মীর দল ক্লিনিকের সিজার লাইগেশন গ্রহণকারী বন্ধ্যকরণ রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে বিগত কয়েক বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে।

হাজেরা বেগম তার বন্ধ্যকরণ বাবদ টাকা কবে পাবেন- এ বিষয়ে কেউ তাকে সান্ত¡ার বাণী দিতে পারেননি। তবে কী হাজেরা প্রতারিত? এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোঃ আলমগীর হোসেন বাদশা

ফকিরবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫

১৯/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: