১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুঃসাহস!


যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবিরের দুঃসাহস যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। মহান বিজয় দিবসে তারা ফের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে চট্টগ্রামের এক কলেজে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত দুঃসাহস তারা পায় কোথায়? স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বংশধররা বেড়ে উঠছে, এটা খুব খারাপ লক্ষণ। তাদের আর বাড়তে দেয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ করলেই চলবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জন্মলগ্ন থেকেই শিবির নামধারী সন্ত্রাসীরা শুধু শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেনি, তারা শিক্ষাঙ্গনের বাইরে এসেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে মাসের পর মাস দেশব্যাপী পেট্রোলবোমায় সহিংস সন্ত্রাস চালানোর অগ্রভাগে ছিল এই শিবির ক্যাডাররাই। শিবিরের রগ কাটা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এদেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জ্ঞাত। তাদের এই রগ কাটা বর্বরতার শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, কুষ্টিয়া ও সিলেট জেলার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের নৃশংস কর্মকাণ্ডের বহু প্রমাণ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয় তা কোন সভ্য সমাজে ঘটতে পারে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড যে পরিকল্পিত তা সুস্পষ্ট। তাদের সেই সহিংস আচরণ ও তাণ্ডব একাত্তরের নৃশংসতারই পুনরাবৃত্তি যেন। এর আগেও চট্টগ্রামে নাশকতা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী তাণ্ডব, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মিছিল সমাবেশ করেছে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবন ও গণজাগরণ মঞ্চে হামলার ঘটনায় প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা। প্রায় তিন বছর আগে চট্টগ্রামের প্রতিটি সভা সমাবেশ থেকে উগ্রবাদী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছিল। অভিন্ন দাবি তোলা হয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়ে বাংলার সবুজ প্রান্তর রঞ্জিত করেছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের মতো রাজনৈতিক শক্তির নেতাকর্মীরা কেবল গণহত্যা নয়, শহর-বন্দর-গ্রামের অগণিত জনপদ জ্বালিয়ে দেয়, লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হরণ করে। এমন ঘৃণ্য অপরাধ করেও পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনীর কারও শাস্তি হয়নি এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগীরাও নিজেদের মনে করেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে! তারা ভেবেছিল, বিচারের বাণী কেবল নীরবে-নিভৃতে কেঁদে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে দশকের পর দশক ধরে বুক ফুলিয়ে চলে তারা কেবল আমাদের শোক-ক্রোধের ক্ষতকেই আরও খুঁচিয়ে চলে। কাউকে কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকার অবমাননা করা হয় এক সময়। কিন্তু একাত্তরের অবিনাশী চেতনায় সঞ্জীবিত বাংলাদেশের জনগণ পরাভব মানতে চায়নি। তারা বরাবর সোচ্চার থেকেছেÑ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে। স্বাধীনতাকামী মানুষের জাগরণে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যে নতুন করে বেপরোয়া ও তৎপর হয়ে উঠেছে তারই উদাহরণ চট্টগ্রামে বিজয় দিবসে শিবিরের এই স্পর্ধা।

দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে না পারলে কখনোই স্বাধীনতার মূল চেতনা প্রতিষ্ঠিত হবে না। অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ থাকবে না। আর বিলম্ব নয়। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। এ দাবি পূরণ করতে হবে। জামায়াত-শিবিরের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার করতে হবে।