২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাই


যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ রোধ করার লক্ষ্যে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ দেবে। ওই সব সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে যারা ব্যবসা করে তাদের ওপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য দুটি দেশ একযোগে নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রস্তাব হালনাগাদ করতে একটি খসড়া তৈরি করেছে। এটি হবে আইনগত বাধ্যতামূলক। এ রুশ মার্কিন মতৈক্য সিরীয় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনার আভাস দেয়। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও ওরালস্ট্রিট জার্নালের।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যাকব লিউর সভাপতিত্বে নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ২৮ পৃষ্ঠার খসড়া প্রস্তাবটি পাস হতে পারে। বৈঠকটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় অর্থমন্ত্রী যোগ দেবেন। একযোগে ওয়াশিংটন ও মস্কো বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে আল কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নাম যুক্ত করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রস্তাব হালনাগাদ করতে চাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানান।

এখন প্রস্তাবটিতে ইসলামিক স্টেটের তেল চোরাচালানসহ এর অর্থ সংগ্রহ রোধ করার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার বাধ্যবাধকতা জাতিসংঘ সদস্যদের ওপর আরোপ করা হবে। এতে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও অন্যান্য দেশে আইএসের কাছে যোদ্ধা ও রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়ার কর্তব্যও সদস্যদের ওপর আরোপ করা হবে। সন্ত্রাসী দলগুলো যাতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করাও প্রস্তাবটির লক্ষ্য।

লিউ এক সাক্ষাতকারে বলেন, সন্ত্রাসীদের অর্থ সংগ্রহের পথ বিচ্ছিন্ন করে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ইসলামিক স্টেটের তহবিলের উৎসগুলো স্ফীতি হচ্ছে।

সাধারণাভাবে বলতে গেলে, প্রস্তাবটি সন্ত্রাসী হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার করা এবং সন্ত্রাসীদের অর্থ সংগ্রহের পথগুলো আরও ভালভাবে খুঁজে বের করার অভিন্ন মান উদ্ভাবন করার বাধ্যবাধ্যতা দেশগুলোর ওপর আরোপ করবে।

প্রস্তাবটি পশ্চাতে জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের সমর্থন থাকবে। এর অর্থ হলো সেটি পালন করছে না এমন দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদের শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। প্রস্তাবটি প্রথমে ১৯৯৯ সালে পাস হয়েছিল এবং পরে সময়ে সময়ে নবায়ন করা হয়।

প্রস্তাবটিতে আইএস সদস্যদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, তাদের সম্পদ আটক করা এবং অস্ত্র চালানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, তাদের মতপার্থক্য সত্ত্বেও তারা সন্ত্রাসবাদসহ অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ওই অঞ্চলের সন্ত্রাসী হুমকির অন্যতম উৎস সিরীয় সঙ্কট নিয়ে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে সফর মস্কো করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটির সীমিত প্রভাবই থাকতে পারে। কারণ আইএস এবং ভূখ-ে বসবাসরত জনগণের ওপর ‘কর’ ধার্য করেই এর রাজস্বের বড় অংশ আদায় করে থাকে।

তবুও কূটনীতিকরা বলেছেন, ওই প্রস্তাবটি সিরীয় সঙ্কটের এক রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে শীর্ষ আমেরিকার ও রুশ কর্মকর্তাদের নতুন সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠিই হবে। তারা উভয়ই তাদের মতৈক্যের বিষয়ে ইসলামিক স্টেটের হুমকি দূর করার বিষয়ে ক্রমশ দৃষ্টি দিয়েছেন। আর তারা যে বিষয়ে একমত হননি, যথা সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

শুক্রবার ওই সহযোগিতার আরেক পরীক্ষাই হবে। সেদিন এক ডজনেরও বেশি দেশের কূটনীতিকরা নিউইয়র্কে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। সিরীয় সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে এক অস্ত্র বিরতিতে ও জানুয়ারিতে এক অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সম্মত করানোই হবে ওই বৈঠকের লক্ষ্য।

সিরিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে কেবল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূলত তিনটি বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। আইএসের ওপর সামরিক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। সিরীয় বিরোধী দলগুলোর কোন কোনটিকে অস্ত্রবিরতিতে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে এবং কোন কোনটিকে সন্ত্রাসী বলে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একমত নয়। আসাদকে যে কোন ভবিষ্যত নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হবে কিনা, তা নিয়েও দুই বিশ্বশক্তির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।