মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ আগস্ট ২০১৭, ৫ ভাদ্র ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বাংলার খাদি উৎসব

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য খাদি। খাদি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় স্বদেশী আন্দোলনের কথা। ইতিহাসের বার্তা বাহক এই খাদি যেন বহুকাল ধরে আমাদের মাঝে স্বাধিকারের চেতনাকে জাগ্রত রেখেছে। সরাসরি হাতে তৈরি হয় এই খাদি বা খদ্দর কাপড়। কার্পাসতুলা থেকে সুতা বোনা হয় এবং সেই সুতা থেকে হাতে চালানো চর্কা বা তাঁতে বোনা হয় কাপড়। বিগত পনেরো বছরে এই ঐতিহ্যকে খুব চসৎকারভাবে ফ্যাশনের প্রতীকী হিসেবে তুলে ধরেছে এদেশের ফ্যাশন হাউসগুলো। আড়ং, ক্যাক্রাফট, প্রবর্তনা, নিপুণ, অন্যমেলাসহ আরও অনেক ফ্যাশন হাউস খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাক উপস্থাপন করছে, পোশাকে নিয়ে আসছে নানা বৈচিত্র্যের। খাদি এমন বাঙালীর ফ্যাশন প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে।

মহাত্মা গান্ধী খাদি কাপড়ের সত্যিকারের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯২০ সালে তিনি প্রথম স্বদেশী পণ্যের মাধ্যমে স্বরাজ প্রতিষ্ঠার জন্য খাদি কাপড়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তুলে ধরেন। স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতে স্বদেশী পণ্যকে আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং খাদি কাপড় হতে পারে এর শ্রেষ্ঠতম উদাহরণÑ এই চেতনাকেই জাগ্রত করেছে মহাত্মা গান্ধী। স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে অতোপ্রতোভাবে জড়িত এই ঐতিহ্য। স্বদেশী আন্দোলনের বিজিত প্রতীক এই খাদি কাপড়।

বাংলাদেশের মধ্যে কুমিল্লা খাদি কাপড়ের বিখ্যাত একটি জায়গা। মোঘল সময় থেকে এর ব্যবহার চলে আসছে। সতেরো শ’ শতাব্দীর দিকে ত্রিপুরা রাজ্যে খাদি কাপড় বুননের কাজ বেশ প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে ময়নামতি, চান্দিনা, নবীনগর, গৌড়িপুরসহ বেশ কিছু জায়গায় খাদি বুননের কাজ চলত। রঙিন খাদি কাপড়ের লুঙ্গি, শাড়ি, গামছা সে সময় ময়নামতিতে তৈরি করা হতো এবং দুই থেকে পাঁচ টাকার মধ্যে এগুলো পাওয়া যেত সে সময়ে। তবে ধুতি, বিছানার চাদরের জন্য বিখ্যাত ছিল সরাইল, নবীনগর, ময়নামতি, গৌড়িপুর, চান্দিনা এবং মুরাদনগর খাদি কাপড় বুননের উল্লেখযোগ্য চারটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল সে সময়ে। ১৯২১-এর দিকে মহাত্মা গান্ধী কুমিল্লার চান্দিনা অঞ্চলে আসেন এবং বিদেশী কাপড় ছেড়ে দেশী কাপড় ব্যবহারে এবং তা সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই সঙ্গে চর্কার ব্যবহার সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দেন তিনি। ১৯৪৭ বঙ্গভঙ্গের কারণে কিছুটা বাধা আসলেও পরবর্তীতে এই বাধা অতিক্রম করে স্বদেশী ঐতিহ্যকে পুনরায় উজ্জীবিত করে একদল মানুষ।

এ দেশে খাদি কাপড়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে একটি নাম যেন সারাজীবন বেঁচে থাকবে, তিনি হলেন শৈলেন্দ্রনাথ গুহ, যিনি ‘খাদিবাবু’ হিসেবেও পরিচিত সবার কাছে। কুমিল্লার চান্দিনার খাদির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দীর্ঘদিন তিনি এর উন্নয়নের পেছনে কাজ করে যান। আর এভাবেই আসতে আসতে প্রসার ঘটে এই আদি ঐতিহ্যের ১৯৯৫ সালে তার মৃত্যুর পর ছেলে বিজন গুহ ও অরুণ গুহ বাবার বাঁচিয়ে রাখা ঐতিহ্যকে পরিপূর্ণভাবে ধরে রাখে। আর এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমাদের ফ্যাশন হাউসগুলোও ব্যাপকভাবে এই ঐতিহ্যের প্রসার ঘটিয়েছে, এনেছে বৈচিত্র্য।

সম্প্রতি রেডিসন ব্লু তে ফ্যাশন ডিজাইনার সংস্থার ্আয়োজনে ট্রেসিমি খাদি উৎসব আয়োজিত হয়। একটু ভিন্ন আমেজেই আয়োজন করেছে ‘খাদি উৎসব-২০১৫’। নানান রঙের এবং নতুন ডিজাইনের খাদি-পোশাকের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছিল। দেশী এবং ভারতীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। শীত খাদি পোশাকের অন্যতম সময়।

ফ্যাশন ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫

১৮/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ:
চাহিদার চেয়ে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেশি ॥ কোন সঙ্কট হবে না || বঙ্গবন্ধুর খুনীরা যে গর্তেই লুকিয়ে থাকুক ধরে এনে রায় কার্যকর করা হবে ॥ আনিসুল হক || উত্তরের বন্যার পানি নামছে, মধ্যাঞ্চলে নতুন এলাকা প্লাবিত || রায় যদি বিরাগ প্রসূত হয়ে থাকে তাহলে শপথ ভঙ্গ হবে || কমলাপুরে মানুষের ঢল, প্রত্যাশিত টিকেট না পেয়ে অনেকেই হতাশ || সেই মৃত্যু- রক্তস্রোতের ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় || বিএনপির ক্ষমতার রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে গেছে ॥ কাদের || মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের ওপরই নির্ভর করছে চট্টগ্রামের উন্নয়ন || যমুনার বাঁধে আশ্রয় নিতেও এককালীন নজরানা, দিতে হয় মাসিক ভাড়া || আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ৪শ’ জামায়াতীর ওপর নজরদারি ||