১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজছে স্টক এক্সচেঞ্জ


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করা) অংশ হিসেবে ব্লকড হিসেবে থাকা সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম শুরু করছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

ইতোমধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজতে একটি কর্মকৌশল তৈরি করেছে, যা দ্রুতই পর্ষদসভায় উপস্থাপন করা হবে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর ব্লকড হিসেবে থাকা দুই স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার এক বছরের মধ্যে বিক্রির এক নির্দেশনা জারি করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর পরই ডিএসই ও সিএসই আনুষ্ঠানিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানির শেয়ার বিক্রির কাজ শুরু করে। এর আগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজতে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনাও করেছে তারা।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা সাংবাদিকদের বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেয়ার বিষয়ে বিন্যস্তকরণের পর থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে। এখন বিএসইসির চিঠি পাওয়ায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এ জন্য আমাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি কর্মকৌশল তৈরি করেছে, যা শীঘ্রই বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের শর্ত অনুযায়ী, ব্লকড হিসেবে থাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৬০ শতাংশ শেয়ার কৌশলগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মোট শেয়ারের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ (সংরক্ষিত শেয়ার থেকে) কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করা যাবে। ব্লক হিসেবে থাকা বাকি শেয়ার বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করতে পারবে। তবে একক বা যৌথভাবে কোন ব্যক্তি স্টক এক্সচেঞ্জের মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি ধারণ করতে পারবে না।

জানা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জের অংশীদার হিসেবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির সময় দর কষাকষিতে এগিয়ে থাকতে এক বছর ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে ডিএসই। বাজার পরিস্থিতির মন্দাবস্থায় লেনদেন ব্যবস্থা থেকে আয় কমে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় মুনাফা বাড়ানোরও চেষ্টা চালাচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। এরই মধ্যে নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন থেকে কিছু আয় আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া আগামী বছর থেকে লেনদেন ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন ডাটা বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে তারা। ডিএসই আশা করছে, ডাটা বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য আয় আসবে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ তাদের আইটি বিভাগকে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান করারও পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমেও আয় বাড়বে। আগামীতে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), ট্রেজারি বন্ড ছাড়াও স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য আলাদা বাজার ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে এবং তা থেকেও ডিএসইর আয় হবে। মূলত কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে ডিএসইর শেয়ার আকর্ষণীয় করে তুলতেই আয়ের উৎস বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি । আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের জন্যও কাজ করছে তারা।

ডিএসই সূত্র জানায়, কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজতে এক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় স্টক এক্সচেঞ্জের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে কয়েকটি স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছেন তারা। মূলত ডিএসইতে বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।

বিন্যস্তকরণের পর মুনাফামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। বিন্যস্তকরণের পর কোম্পানিটি মুনাফায় থাকলেও শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ না দিয়ে তা রিজার্ভে রেখেছে। এটি স্টক এক্সচেঞ্জের মৌল ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ আশা করছে ২০১৮ সাল থেকে তারা শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।

এদিকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নেয়ার কার্যক্রম আগে থেকেই শুরু করলেও বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঙ্কটের কারণে সিএসইর এ কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি চলছে। তবে বিএসইসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিএসইর পরিচালকরা। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালন আয় থেকে মুনাফা করতে না পারলেও সুদ বাবদ আয়ের কারণে এখনও মুনাফায় রয়েছে।

এ বিষয়ে সিএসই চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিমিউচুয়ালাইজেশনের শর্ত অনুযায়ী কাজ চলছে। এরই মধ্যে আমাদের ব্যবস্থাপনা বিভাগ সিঙ্গাপুর, লন্ডন ও তুরস্ক সফর করে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, বেশি দামে স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার বিক্রি করতে চান শেয়ারহোল্ডাররা। তবে এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের আর্থিক সামর্থ্য, লেনদেনের পরিমাণ, আয় ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা নিয়েই শেয়ারের দর নির্ধারণ করা হবে।