মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মেসির ক্যারিয়ারে ফের কালো মেঘ!

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫
  • কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের, খেলতে পারলেন না ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবারও বড়সড় ধাক্কা খেলেন লিওনেল মেসি। বার্সিলোনার এই আর্জেন্টাইন তারকা ফের মাঠের বাইরে চলে গেছেন। এবার ব্যথায় কাতর হয়ে প্রিয় ফুটবল মাঠে থাকতে পারছেন না সাবেক টানা চারবারের ফিফা সেরা ফুটবলার।

তবে কারণটা জানার পর মেসিভক্তদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ পড়তে বাধ্য। কেননা বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে মেসি ‘রেনাল কলিচ’ রোগে আক্রান্ত। যার প্রভাবে মূত্রাশয়ে মারাত্মক বেদনা হয়ে থাকে।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চীনা ক্লাব গুয়াংজু এভারগ্রান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দুঃসংবাদটি পায় বার্সিলোনা। যে কারণে ম্যাচটি খেলতে পারেননি কাতালানদের সেরা তারকা। বার্সিলোনার অফিসিয়াল টুইটারেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জাপানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপ। ১০ ডিসেম্বর থেকে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হলেও বার্সা সরাসরি সেমিফাইনালে খেলেছে। ব্রাজিলের তারকা কোচ লুইস ফিলিপ সোলারির দল এভারগ্রান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বছরের পঞ্চম শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে স্প্যানিশ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

কিন্তু ম্যাচটি খেলতে পারেননি মেসি। শুধু তাই নয়, কুঁচটির চোটের কারণে মাঠে নামা হয়নি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারেরও। বার্সিলোনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে পেটে ব্যথা শুরু হওয়ায় খেলতে পারছেন না মেসি। সাধারণত এই ধরনের ব্যথা অনুভূত হয় কিডনিতে পাথর থাকলে। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বোঝা যাবে মেসি কবে নাগাদ মাঠে নামতে পারবেন। এর আগে বার্সার সাবেক খেলোয়াড় ডেভিড ভিয়াও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর চিকিৎ?সা নিয়ে সেরে উঠতে কত দিন সময় লাগতে পারে তা এখনও জানানো হয়নি। তাই নিশ্চিত নয়, মেসিকে ছাড়া খেলে বার্সা ফাইনালে উ?ঠলেও সেখানে তাকে পাওয়া যাবে কিনা। এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য এখনও জানা যায়নি। তবে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছোটবেলায় মেসির বেড়ে ওঠা নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল তার প্রভাব ক্যারিয়ারের শেষ দিকে পড়তে পারে। তাই যদি হয়, তাহলে মেসির ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে! বছরের পর বছর বিস্ময় জাগানিয়া ধারাবাহিক পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে চলা মেসির শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না। এক সময় অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছিল বিস্ময়কর এ প্রতিভার! ১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিও’তে জন্ম নেয়া মেসির বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে আজকের অবস্থান মেলাতে গেলে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে সবাইকে। কেননা সে সময় মেসির বাবা-মা ছিলেন নিতান্তই গরিব। বাবা জর্জ মেসি কাজ করতেন ফ্যাক্টরিতে আর মা সিলিয়া ছিলেন পার্টটাইম ক্লিনার। এমন অসচ্ছল পরিবার থেকেই মেসির আকাশছোঁয়া স্বপ্নের বীজ বপণ করেন তার বাবা জর্জ। মূলত বাবার প্রচ- উৎসাহ আর আগ্রহেই মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দলিতে ফুটবলে হাতেখড়ি হয় মেসির।

কিন্তু ১৯৯৫ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সেই জীবন নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় তার! সে সময় শারীরিক বৃদ্ধিজনিত হরমোনশূন্যতায় ভুগছিলেন মেসি। তখন মেসির ঠিকানা ছিল নিউওয়েলস বয়েজ। ওই অবস্থায় তাকে দলে নিতে যাচ্ছিল রিভারপ্লেট। দলটির পক্ষে মেসির চিকিৎসার খরচ যোগানো অসম্ভব ছিল। সঙ্গত কারণে মেসির বাবা-মায়েরও মাসে ১৫০০ ডলার খরচ করার মতো অবস্থা ছিল না। অবস্থা এমন সৃষ্টি হয় যে মেসির বেঁচে থাকাটাই দায়! সেখানে আবার ফুটবল খেলা।

কিন্তু না, মেসিকে অকালে ঝরে পড়তে হয়নি। অসামান্য এক ফুটবল প্রতিভাকে রক্ষা করতে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসে বার্সিলোনা। তারা মেসির প্রতিভা চিনতে পেরে বিশেষ করে বার্সার সে সময়কার স্পোটিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাস মেসিতে মুগ্ধ হয়ে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন।

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫

১৮/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



শীর্ষ সংবাদ: