২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সাফের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিলো বাংলাদেশ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জয় সবসময়ই মধুর। সেটা যে প্রতিপক্ষই হোক না কেন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নেপালের চেয়ে দশ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অতিথি দল নেপালের খেলা দেখে কিন্তু তেমনটা মনে হয়নি। তাদের হারাতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। শাখাওয়াত হোসেন রনির দেয়া একমাত্র গোলেই (১-০) নেপাল জাতীয় ফুটবল দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

নেপাল দলের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৯২। আর বাংলাদেশর ১৮২। ফিফার তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত দুই দল পরস্পর মোকাবেলা করেছে ২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে। তাতে জয়ের পাল্লা ভারি বাংলাদেশেরই। তারা জিতেছে ১২ ম্যাচে। আর নেপাল জিতেছে ৬ ম্যাচে। বাকি ২ ম্যাচ ড্র হয়। গোল করেছে বাংলাদেশ ২৬, নেপাল ১৪। প্রীতি ম্যাচ খেলে নেপাল আরও দু’দিন ঢাকায় অবস্থান করে থেকে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ঢাকা ত্যাগ করবে আগামী ২০ ডিসেম্বর।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে কোচ মারুফুলের প্রস্তাব ছিলÑ সাফের আগে বাংলাদেশ দল যেন কমপক্ষে একটি অনুশীলন বা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। কোচের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে করে বাফুফে। সাফের প্রস্তুতি সারতে নেপাল জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করে তারা। ভারতের কেরলে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে আগামী ২১ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের। কিন্তু কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে একদিন আগেই ভারত যাবে বাংলাদেশ দল। তবে সেখানে গিয়ে আপাতত আর কোন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার আপাতত পরিকল্পনা নেই মারুফুলের। এ বছরের শুরুতে বাফুফের পরিকল্পনা ছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে তিন-চার দিনের জন্য অনুশীলন করা। এ বিষয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্নও করা হয়েছিল। কিন্তু আসা-যাওয়ায় সময় নষ্ট হবে বলে প্রধান কোচ মারুফুল সেখানে না যাওয়াটাই সমীচীন হবে বলে যুক্তি পেশ করেন। বাফুফেও সেটা মেনে নেয়।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটাই ছিল মারুফুলের অভিষেক ম্যাচ। আর তাতেই দুর্দান্ত সূচনা করলেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স’ ধারী কোচ।

বাংলাদেশ জিতলেও ম্যাচের শুরুর প্রথম কয়েক মিনিট প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে নেপালই। ১৬ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠে হেমন্তকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নেপালের মিডফিল্ডার হেমান গুরুং। ১৮ মিনিটে লক্ষ্য পূরণ হয় বাংলাদেশের। প্রতিপেক্ষের ডি বক্সের ঠিক বাইরে বাঁপ্রান্ত থেকে ডিফেন্ডার ইয়ামিন মুন্না বাঁ পায়ের যে উড়ন্ত ক্রসটি করেন, তা থেকে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে গোল করে নেপালের জালে বল পাঠান ফরোয়ার্ড শাখাওয়াত হোসেন রনি (১-০)। উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। তবে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েও হতোদ্যম হয়নি গুর্খালিস বাহিনী। ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে গোল হওয়ার মতো ৪টি জোরালো আক্রমণ করে তারা নেপাল শিবির। ২৫ মিনিটে হেমানের দূরপাল্লার শট বার ছুঁয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ২৬ মিনিটে বক্সের কাছে থেকে বিশাল রাইয়ের ফ্রি কিক বক্সের ভেতর পড়েও মাঠের বাইরে চলে যায়। ২৭ মিনিটে নেপালের অধিনায়ক অনীল গুরুংয়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩০ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে নেপালের মিডফিল্ডার হিমেনের দুর্দান্ত শট আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। ৫০ মিনিটে রঞ্জিত ধিমাল রণজিৎ দিমাল বক্সের মধ্যে বল নিয়ে ঢুকে পড়লেও কর্নারের বিনিময়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা। ৫৫ মিনিটে ডানপ্রান্তে জুয়েলকে ফাউল করেন বিক্রম লামা। মামুনুলের ফ্রি কিক জটলায় পড়ে। ইয়াসিন খান জটলা থেকে বল পাঠিয়েছিলেন নেপালের জালে। তবে বল পাঠাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে বসেন এই ডিফেন্ডার। তাই বল জালে পৌঁছার আগেই ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি ভুবন মোহন তরফদার। ৬০ মিনিটে নেপালের বদলি মিডফিল্ডার রোহিত চাঁদ বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট বার ছুঁয়ে বাইরে চলে যায়। ৮৫ মিনিটে রোহিতের হেড বারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। নেপালের বিপক্ষে এই জয় আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ (সাফ সুজুকি কাপ) শুরুর আগে আত্মবিশ্বাস আরও খানিকটা বাড়িয়ে নিল বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: