১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ফের সংশোধন হচ্ছে পিএসসি- বিদেশী কোম্পানি আকর্ষণে


রশিদ মামুন ॥ সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে উৎপাদন অংশিদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) ফের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির জন্য পিএসসি সংশোধন করে উৎপাদিত গ্যাসের দর বৃদ্ধি করা হবে। বহুজাতিক কোম্পানিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আকৃষ্ট করতে এ উদ্যোগ বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়। আগামী মাসের মধ্যে পিএসসির সংশোধনী চূড়ান্ত হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১২ সালে পিএসসি সংশোধন করার পরও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মার্কিন কোম্পানি চুক্তির পর দাম বৃদ্ধির দাবি করে। সরকারের তরফ থেকে সাড়া না দেয়ায় তারা সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ছেড়ে চলে যায়।

গত সপ্তাহে জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানুয়ারির মধ্যে পিএসসি সংশোধন চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন।

সাগরে গ্যাসের দর কম থাকায় বিদেশী কোম্পানি ব্লক ছেড়ে দেয়ার পর জ্বালানি বিভাগ পিএসসি সংশোধনের জন্য গত বছর একটি কমিটি করে। ওই কমিটি পর্যালোচনা শেষে সাগরে আর গ্যাসের দর বৃদ্ধি না করার পক্ষে মতামত দেয়। তখন বলা হয়েছিল দেশের সাগরে বহুজাতিক কোম্পানির জন্য যে দর রয়েছে তা প্রতিযোগিতামূলক। সঙ্গত কারণে আর দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আনুপাতিক হারে গ্যাসের দামও কমেছে। জ্বালানির আকস্মিক দর পতনে এ খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে। সঙ্গতকারণে ভাল সুবিধা না পেলে দেশের সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী হবে না কোন কোম্পানি। পিএসসি সংশোধনের সিদ্ধান্ত হলেও দাম কত ডলার নির্ধারণ হবে তা নির্দিষ্ট হয়নি। এক্ষেত্রে পার্শ¦বর্তী দেশ মিয়ানমারের গ্যাসের দর বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মিয়ানমারে গ্যাসের দাম বেশি থাকলেও ভারতের সমুদ্রে তেল-গ্যাসের দাম বেশ কম। মিয়ানমার থেকে চীনা কোম্পানি প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস তুলছে ৭ দশমিক ৭২ ডলারে। অন্যদিকে, ভারতে এ দাম ৫ দশমিক ৬১ ডলার। তবে ভারত এবং মিয়ানমারে গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানিকে কর্পোরেট ট্যাক্স প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশে কোম্পানিগুলোর পক্ষে পেট্রোবাংলা কর্পোরেট ট্যাক্স দিয়ে থাকে।

পিএসসি ২০১২ সালে সংশোধনের আগে দেশের গভীর সমুদ্রে প্রতিহাজার ঘনফুট গ্যাসের দর ছিল সাড়ে চার ডলার। কিন্তু সংশোধনের পর ওই দর দুই ডলার বৃদ্ধি করে সাড়ে ছয় ডলার নির্ধারণ করা হয়। এখন পিএসসি সংশোধন করে এই দাম আরও বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে তাদের সাত দশমিক ৭২ ডলার থেকে বেশি নির্ধারণ হবে এ দর।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, কস্ট রিকভারির ক্ষেত্রে (উৎপাদন খরচ তুলে নেয়া) আইওসিগুলো যে দাবি করে তাই দেয়া হয়। এছাড়া আইওসিগুলো যেসব যন্ত্রাংশ আনে তার দাম যাচাই-বাছাইয়ের তেমন কোন ব্যবস্থাও নেই। ফলে আইওসির দাবি অনুযায়ী কস্ট রিকভারির জন্য গ্যাস দিতে বাধ্য থাকে পেট্রোবাংলা। সর্বশেষ মডেল পিএসসিতে দেখা গেছে, উত্তোলনকারী কোম্পানি বছরে মোট উত্তোলিত গ্যাসের ৫৫ ভাগ পর্যন্ত কস্ট রিকভারি হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। বাকি ৪৫ ভাগ গ্যাস প্রফিট গ্যাস হিসেবে পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানিগুলোর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন করা হয়।

কস্ট রিকভারির ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বা অপারেটিং কস্ট, ক্যাপিটল এক্সপেনডিচার বা খনি উন্নয়নের জন্য কোম্পানিকে যে সময়, শ্রম এবং পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় তার খরচ এবং অনুসন্ধান বা এক্সপ্লোরেশনের জন্য যাবতীয় খরচকে বিবেচনা করা হয়। দেশীয় কোম্পানির বেলায় খনি উন্নয়নে যাবতীয় খরচের হিসাব নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বিদেশী কোম্পানির বেলায় বিষয়টি যথাযথভাবে মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত সোমবার বঙ্গোপসাগরের তিনটি ব্লকের তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। এ তিনটি ব্লক হোল ১২, ১৬ ও ২১ নম্বর। সাগরের ৮১ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে এ দ্বি-মাত্রিক জরিপ অনুসন্ধান করা হবে। সর্বোচ্চ দু হাজার ৫০০ মিটার গভীরতায় এ অনুসন্ধান চালানো হবে।

এ তিনটি ব্লকের দ্বি-মাত্রিক জরিপের কাজ যারা পাবেন তারাই জরিপের তথ্যের মালিক থাকবেন। এই জরিপে যে অর্থ ব্যয় হবে সেখানে বাংলাদেশের কোন বিনিয়োগ থাকবে না। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া কোম্পানি দ্বি-মাত্রিক জরিপের মাধ্যমে সমুদ্রবক্ষে গ্যাসের কাঠামো আছে কিনা কিংবা গ্যাস বা তেলের মজুদ থাকার সম্ভাবনা যাচাই করবে। এরপর গ্যাস বা তেলের মজুদ ত্রিমাত্রিক জরিপ এবং কূপ খনন করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এসব তথ্য পরবর্তীতে পিএসসিতে অংশ নেয়া কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: