১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই ॥ ফখরুল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশকে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত রাখতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সন্ত্রাসীরা তখনই সুযোগ পায় যখন দেশে গণতন্ত্র থাকে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন দেশে কোন আইএস নেই। তাহলে আইএস নামে আদালতে যে ৪ জনের বিচার চলছে তারা কারা? বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরানা পল্টনে ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, এবারের পৌর নির্বাচন নতুন ধরনের। কারণ, এবার দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য একটাই তা হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীক যেহেতু দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তাই এটাকে পরাজিত দেখাতে পারলে সরকারী দল অনেক সুবিধা পাবে। তার পরও আমরা নির্বাচনে নেমেছি। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই। সুষ্ঠু সঠিক নির্বাচন চাই, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে রক্ষা করতে চাই। সৌদি আরবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী জোটে বাংলাদেশের যোগদান প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটা গ্লোবাল ইস্যু। সৌদি আবর নিজেই আক্রান্ত হচ্ছে। বিরোধী জোটে অংশগ্রহণে বাকি আছে যে মুসলিমপ্রধান দেশগুলো, সেগুলোতে সন্ত্রাস চলে যায় কি না সেটা দেখতে হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। দেশকে যে কোন সন্ত্রাসী অবস্থা থেকে আগলে রাখতে তারা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য সত্যিকার অর্থে একটি অর্থবহ নির্বাচন প্রয়োজন। যেখানে জনগণ অবাধে ভোট দিতে পারবে। এ ধরনের একটি নির্বাচন করে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ফখরুল বলেন, দেশের সকল পেশাজীবী সংগঠনগুলা দখল করে নেয়া হচ্ছে। আর সরকার মুখে বললেও বাস্তবে তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে রেখেছে। এটার নাম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নয়।

ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজী, এম আবদুল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

শাসক দলের লোকেরা নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছেÑ রিজভী ॥ শাসক দলের লোকেরা নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনিয়ম ও সহিংস তা-ব ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিষ্ক্রিয় পদক্ষেপ ছাড়া আর কোন ভূমিকাই নেয়নি। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা অবলীলায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে যাচ্ছেন। নির্বিচারে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে গণগ্রেফতার করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী শাসক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বেশি বলে আবার তারাই মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বেশি অপমান করে।

রিজভী বলেন, মুক্তিপণ আদায়ের মতো ধানের শীষের প্রার্থীদের ‘কিডন্যাপ’ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর গ্রহণ করছে। আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হলফনামায় তথ্য গোপন করলেও নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যৌথবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পৌর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাধারণ ভোটারদের মোকাবেলা করছে বল প্রয়োগ করে। সরকারের বীভৎস দলবাজি ও দুর্বৃত্তপনার নানা কর্মকা- সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অভিহিত করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশন বিএনপির অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন বলে জানালেও আমরা আশঙ্কামুক্ত হতে পারছি না।

রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন পৌর এলাকার বিজয় র‌্যালিতে মন্ত্রী-হুইপ-এমপিরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হাজী মোমতাজের সমর্থক ও ভোটারদের যৌথবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও রাজশাহী বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শামসুর রহমান মিন্টুর নির্বাচনী প্রচারে মারাত্মকভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নাসিরউদ্দিনের পক্ষে কোন প্রচার চালাতে দেয়া হচ্ছে না। মুন্সীগঞ্জের সদর পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে প্রচারকারীদের ওপর হামলা, মাইক বাজাতে না দেয়াসহ নির্বাচনী প্রচারের ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে শাসক দলের কর্মীরা। বরগুনার বেতাগী পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের ওপর প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ব্যাপকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভার ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী প্রাণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: