মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাংলাদেশই দৃষ্টান্ত হবে ॥ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বহির্বিশ্বে নানা অপপ্রচার ঠেকাতে সরকারের তৎপরতায় ঘাটতি দেখলেও যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিকভাবে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের তুলনায় বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়াকে ভাল মনে করছেন একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ভবিষ্যতে বাংলাদেশই দৃষ্টান্ত হবে বলেও মন্তব্য এসেছে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে।

বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব সংস্থা ও দেশ প্রশ্ন তুলেছে তাদের ‘দ্বিচারিতা’ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে তার মনে হয়েছে, এর পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালে বিশ্বজুড়ে জামায়াতে ইসলামীর ‘অর্থ ঢালার’ বিপরীতে এই বিচারের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়তে সরকারের তেমন উদ্যোগ নেই বলে মনে করেন কয়েক দশক ধরে বিদেশে থাকা এই বাংলাদেশী।

ম্যাককুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ হায়ার ডিগ্রী প্রোগ্রামের (এমফিল ও পিএইচডি) পরিচালক রফিকুলের মতে, দেশীয়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। এর ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শুধু আফ্রিকানদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং তহবিল ফুরিয়ে গেলে সেখান থেকে সঁটকে পড়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।

আইসিসি কেনিয়া ও লিবিয়াÑ দুই দেশেই বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়াই অনুসরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাপরাধের বিচার ও এর নানা দিক এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন শুরু থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার ওপর নজর রেখে আসা বিডিনিউজের প্রতিবেদক সুলাইমান নিলয়।

বিডিনিউজ ॥ ট্রাইব্যুনালের বিচারের নানা প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এটা সাধারণ ফৌজাদারি বিচারে আমাদের অভ্যস্ততার কারণে কি? এটা সরকার সঠিকভাবে স্পষ্ট করতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’ ও ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’ কিন্তু আকাশ পাতাল পার্থক্য- এটা অনেকেই বোঝে না। যেটা ধরেন, সাক্ষীর ব্যাপারে। উদাহরণ দিচ্ছি, যেমন পত্রিকার খবর। দেশীয় ফৌজদারি আইনে এটা জাস্ট করোবরেটিভ এ্যাভিডেন্স। এটা সাবস্টানটিভ এ্যাভিডেন্স নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনে এটা সাবস্টানটিভ এ্যাভিডেন্স। কারণ অতীতের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে কেসগুলো হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অপরাধ ঘটেছে, কত বছর আগে, চল্লিশের দশকের শুরুতে। আজকে ৯২ বছর বয়সী একজন নাৎসি গার্ডের বিচার হচ্ছে। এগুলো সাক্ষী সাবুদ কোথায় পাবে? আপনাকে আর্কাইভে যেতে হবে, হিস্ট্রিকাল সোর্সে যেতে হবে, সংবাদপত্রে যেতে হবে। সুতরাং সমস্ত প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে সব কথা আমরা ফলাও করে বলি, সেটা হয়তো ন্যাশনাল ল’তে এ্যাপ্লিকেবল হতে পারে। আন্তর্জাতিক আইনে নয়।

বিডিনিউজ ॥ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর বিচারের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। একটা দলের বিষয়ে তদন্তও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আইন না থাকায় বিচার করা যাচ্ছে না। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ সরকার কী করবে বা করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে চাই না। এটা সরকারের বিষয়। তবে আইনগতভাবে দেখি, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের উৎপত্তি সেদিনে। এটি এখনও ক্রমবর্ধমান। বিকাশ চলছে। পরিণতিতে এখনও আসেনি। এখন পর্যন্ত এরা শুধু ব্যক্তির বিচার করছে। কোন রাষ্ট্রকে দায়ী করা যায় না। তবে বাংলাদেশ সংসদ যদি আইন তৈরি করে, স্থানীয় আইনে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন ব্যক্তিকে শাস্তি দিচ্ছে। বাংলাদেশ জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের একটা প্রভিশন আমাদের ১৯৭৩-এর আইনে আছে। সেখানেও একটা দলকে কীভাবে ক্রিমিনালি রেসপনসিবল করবে, সেটা আমাদের সংসদ চিন্তা করতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন সদস্য ব্যক্তিগতভাবেও দায়ী হতে পারে, সমষ্টিগতভাবেও দায়ী হতে পারে। এসব জিনিস বিবেচনা হতে পারে।

বিডিনিউজ ॥ সার্বিক বিচারে ধীরগতি হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। আপনার মত কী?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ এটা একটা রিলেটিভ বিষয়। যদি আমাদের দিক থেকে দেখি, বিচার হয়ত বা ধীরগতিতে চলছে। বিচারকদের এটা মাথায় রাখা দরকার, একটা বিশেষ বিচার করছি। ’৭৩-এর আইন বিশেষভাবে বলে দিয়েছে, বিচারগুলো দ্রুত হবে। কোন টেকনিক্যালিটিতে এটাকে থামানো যাবে না- এগুলো সব কিছু বলা আছে। আন্তর্জাতিকভাবে তুলনা করলে আমাদেরটা অনেক ফাস্টার। কিন্তু আমি মনে করি, আরেকটু দ্রুত হলে ভাল হতো।

বিডিনিউজ ॥ বিভিন্ন সময়ে আসামিপক্ষ যথাযথ সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। অন্য দেশের ট্রায়ালগুলোতে আসামিরা কী পরিমাণ সুযোগ পেয়েছিল বা পাচ্ছে?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ আমাদের বিচারে বিচারকরা উদার, যেটা অন্যরা নয়। ডিফেন্স সব সময় এই প্রক্রিয়াকে সেøা করতে চেয়েছে। তারা কারণে অকারণে আদালতে অনুপস্থিত থেকেছে। সাক্ষীর যেসব সংখ্যা তারা আদালতে দিয়েছে, এগুলো সাক্ষী যদি ডিল করেন, কত যুগ যে লাগবে, কেউ জানে না। যুগোসøাভ ট্রাইব্যুনালের রুল ৭৩ এ দুপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে ট্রাইব্যুনালকে ক্ষমতা দেয়া আছে। সেখানকার টাডিক কেসে যখন সময় বেশি লাগল, তখন তারা প্রি-ট্রায়ালে সময় বেঁধে দিল, পরেও যখন দেখা গেল, এটা কাজ করছে না। সেই ধারাকে তারা চারবার চেঞ্জ করেছে। প্রত্যেকটা মামলায় কোর্ট বলে দেয়, এতটার বেশি সাক্ষী আমরা গ্রহণ করব না।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভিক্টিমদের ন্যায়বিচার প্রদান করা। সেটা করতে গিয়ে আসামিপক্ষকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। অন্যদের সঙ্গে যদি তুলনা করি, তাহলে বাংলাদেশে আসামিপক্ষ অনেক বেশি সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সুযোগ দেয়া হয়েছে। দুনিয়ার কোথাও শর্তহীন আপীল নাই।

বিডিনিউজ ॥ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিদেশ থেকে সাক্ষী আনতে চেয়েছিলেন? আইনজীবীও আনতে চেয়েছেন অনেকে। বিদেশী আইনজীবী সাক্ষী আনার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল কি?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ রিভিউতে বা আপীলে তো নতুন করে সাক্ষী নেয়ার কিছু নাই। রিভিউতে তো নতুন করে সাক্ষী আনার কিছু নেই। তাদের সেটা করার দরকার ছিল বিচারের সময়। সাক্ষী বিচারের সময় নেয়া হয়। দুনিয়ার কোথাও এই বিধান নেই যে, রিভিউর সময় সাক্ষী গ্রহণ শুরু হয়, মামলা নতুন করে শুরু হয়। আইনজীবীর ক্ষেত্রে এখানে কোর্টে প্রাকটিস করতে হয়, নিবন্ধন দরকার হয়। এখানে বার কাউন্সিলও যুক্ত হতে পারে।

বিডিনিউজ ॥ তদন্ত সংস্থার দুর্বলতার জন্য সাঈদীর ফাঁসি হয়নি বলে এ্যাটর্নি জেনারেল একদিন মন্তব্য করেছিলেন। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ তদন্তে দুর্বলতা থাকতে পারে। দুনিয়ার কোন ট্রায়াল পারফেক্ট নয়। বাংলাদেশেরটাও পারফেক্ট বলছি না। মানুষ হিসেবে সেটা সম্ভবও নয়। অন্যান্য ট্রায়ালের ল্যাকিংগুলো যদি বলি, সেটা লোমহর্ষক। তার তুলনায় বাংলাদেশেরটা জাস্ট পিনাট (যৎসামান্য)। বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল প্রেসারের মধ্যে যে পারফর্ম করেছে, সেটা অন্য সবার চেয়ে ভালো। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধের। বাংলাদেশ কোনো স্ট্যান্ডার্ড ফলো করার জন্য না। বাংলাদেশ নতুন স্ট্যান্ডার্ড সৃষ্টি করছে।

যারা বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে, তাদের আমি নিষেধ করছি না, এখানে যেন আর্টিফিসিয়াল ইন ইগজাজারেটেড ইম্পারফেকশনগুলো হাইলাইট না করে এই বিচারের অর্জনগুলো, এই দুঃসাহসিক কাজ করছে, এটাকে অভিনন্দন জানানো উচিত। সারা বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে, এই বিচার করতে জাতিসংঘও ব্যর্থ হয়েছে। এর যদি কোন ভুল হয়েও থাকে, এটাকে সাপোর্টের মাধ্যমে রেক্টিফাই করে আরও উন্নতি করা উচিত। যাতে শুধু বাংলাদেশই নয়, এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্যান্য দেশেরও হেল্প হবে। সমালোচনা করার চেয়ে বিশ্ববাসীকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দেয়া উচিত। অনেকেই জামায়াতের টাকা খায়, সেটাও হতে পারে। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ফয়েজ আব্বাস যেসব কথা বলে, তার সঙ্গে আমি তো জামাতি পলিসির কোন পার্থক্য পাই না।

বিডিনিউজ ॥ শাহবাগের উত্থান এই বিচারকে প্রভাবিত করেছে?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ আমি মনে করি না তা। শাহবাগ একটা অনুভূতি। এর সঙ্গে বিচারের কোন সম্পর্ক নাই। আপনারা রায়গুলো পড়েন, তাহলে দেখবেন, আমি মনে করি না তাতে শাহবাগের প্রভাব আছে। ১৯৭১ সালে যা ঘটেছে ও পরবর্তীতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যখন ক্ষমতায় ছিল, শাহবাগ হচ্ছে তারই একটা প্রতিক্রিয়া। রিএ্যাকশনের সঙ্গে আইন-আদালতের কোন সম্পর্ক আমি দেখিনি।

বিডিনিউজ ॥ বিচারে সরকারের হস্তক্ষেপ ছিল বলে আপনার মনে হয়েছে?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ রায়ে আমি তা দেখিনি। প্রত্যেকটা রায় কনসিস্ট্যান্ট। প্রফেশনালিজম অনেক ইমপ্রুভ করেছে। আমি রায়ে এমন কিছু পাইনি যাতে, আমরা... আমার জানা মতে না, আমি রায়গুলো পড়েছি, আমার কাছে মনে হয়নি।

বিডিনিউজ ॥ সরকার এই বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করছে বলেও একটা অভিযোগ বিরোধী রাজনৈতিক জোটের রয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ একজন আইনজীবী হিসেবে আমি এটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখি, আপনি আর আমি যদি বাদী আর বিবাদী হই, আপনি যদি হেরে যান, আপনি কোন দিনই বলবেন না- কেসটা সঠিক হয়েছে। আপনি যদি জিতে যান, আমি বলবÑ ন্যায়বিচার পাইনি। অপোজিশন পার্ট অব দ্য প্রবলেম, তারা পুনর্বাসিত করেছে এই সব যুদ্ধাপরাধীদের। তারা এই কথা বলবে না, কারা বলবে? এটাই প্রত্যাশিত। নাথিং নিউ। বিএনপি বলেছে, সাকা চৌধুরী ন্যায়বিচার পায়নি। তারা কিন্তু কখনই বলেনি, সাকা চৌধুরী জাল ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে। ওই পার্ট কখনই বলবে না।

বিডিনিউজ ॥ বিচারকে কেন্দ্র করে যে সব প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছে সেগুলো সরকার ভালভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ আমি বলব- সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন ছিল। জামায়াত বিদেশে যেভাবে সক্রিয়, হাই কমিশন-দূতাবাসগুলো, আমার জানা মতে, দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কিছুই করেনি। অস্ট্রেলিয়াতে তো কিছুই করা হয়নি। একবার অস্ট্রেলিয়াতে তারা (জামায়াত) সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইনডিভিজুয়াল অর্গানাইজেশন, পিপল এটাকে প্রতিহত করেছে। সরকারের থেকে কোন পদক্ষেপ ছিল না।

বিডিনিউজ ॥ বিচার শেষ হওয়ার পর স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের যে বিতর্ক আছে, সেটা শেষ হয়ে যাবে বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ এটা তো বলা কঠিন, যতদিন পর্যন্ত স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বাংলাদেশকে পূর্ণরূপে মেনে নিয়েছে, ততদিন এই বিভক্তি, বিবাদ, বিতর্ক চলতেই থাকবে।

বিডিনিউজ ॥ সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ॥ আমি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে সার্বিকভাবে হ্যাপি। কারণ আমি বিশ্বের সব ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আমি পড়েছি। আমি যেটা বলতে চাই, সারা দুনিয়ায় এমন কোন ট্রাইব্যুনাল আজো হয়নি, যেটা পারফেক্ট। মানুষ হিসেবে এটা সম্ভবও নয়। বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল আজকে যা করছে, এটা ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

[অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৫১ সালে বগুড়ায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর এলএলবি ডিগ্রী নেন। পরে ১৯৭৯ সালে আন্তর্জাতিক আইনে অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম এবং পরে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিয়ে বর্তমানে গবেষণারত রফিকুলের পিএইচডি থিসিসের ওপর ‘দ্য বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার মুভমেন্ট : ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল ইমপ্লিকেশনস’ নামে একটি বই রয়েছে।

প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫

১৮/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: