২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মসজিদে বয়ান প্রচার করুন ইসলামের অপব্যাখ্যা রোধে


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি করা হচ্ছে। সঠিক ব্যাখ্যা সংবলিত একটি বিশেষ পুস্তিকা প্রকাশ করে তা গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞ এক লাখ আলেম সেই পুস্তকের অনুমোদন দেবেন। এই পুস্তকের বক্তব্য মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করা হলে দেশ থেকে জঙ্গীবাদের বীজ উৎপাটন করা সম্ভব। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ পুলিশ মহাপরির্দশকের সঙ্গে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। আলেম ওলামা ও পুলিশের তরফ থেকে এ সংক্রান্ত দুটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে ‘ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গীবাদ : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ৩ লাখ আলেমের মধ্যে বাছাই করা এক লাখ আলেম দিয়ে এ ধরনের একটি পুস্তক লেখা যেতে পারে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটানো হচ্ছে। এর সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত। কোন ধরনের সন্ত্রাস ইসলাম সর্মথন করে না। যুবক ছেলেরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার কারণে জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আইএস নেই। যেখানে জামায়াতে ইসলামীর মতো দল আছে, সেখানে আইএস থাকার প্রয়োজন নেই। জামায়াতে ইসলামী মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে যে ‘নিষ্ঠুরতা’ দেখিয়েছে তা বর্তমান আইএসের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জেএমবিসহ সব জঙ্গী সংগঠনের প্রজনন কেন্দ্র হচ্ছে জামায়াত-শিবির। জামায়াত-শিবিরকে নির্র্মূল করা সম্ভব হলে, সব জঙ্গী সংগঠন স্বাভাবিকভাবেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা সংবলিত পুস্তকটি মসজিদ, মাদ্রাসায়, ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করা হলে জঙ্গীবাদ অনেক কমে যাবে। জামায়াত বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পরিচালনা পরিষদের সদস্য হয়। এরপর আস্তে আস্তে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। এর ফলে আর জঙ্গীবাদবিরোধী প্রচার হয় না।

অন্যান্য আলেম ওলামা বলেন, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যেহেতু বক্তব্য দিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও জঙ্গীবাদবিরোধী বক্তব্য দিতে পারেন। এতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর ঢালাওভাবে কওমী মাদ্রাসা জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগটিও সত্য নয় বলে তারা দাবি করেন।

পুলিশপ্রধান বলেন, আলেম-ওলামা ও জনগণ সঙ্গে দেশ থেকে জঙ্গীবাদকে নির্মূল করতে সক্ষম। জঙ্গীবাদের দায়ে এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের লোক। কিছু কওমী মাদ্রাসা আছে যারা জঙ্গী কার্যক্রমে জড়িত। তার সংখ্যা কম। এজন্য কওমী মাদ্রাসাকে জঙ্গী প্রজনন কেন্দ্র বলা সঠিক নয়। পবিত্র জুমার নামাজের আগে জঙ্গীবাদবিরোধী বয়ান দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে মানুষ জঙ্গীবাদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন। দেশের বেশ কিছু মসজিদ কমিটি জঙ্গীবাদের মদদ দেয়। সে সব কমিটির লোকজনদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাাংলাদেশে জঙ্গীবাদ বিস্তার লাভ করার চেষ্টা করছে। এখন সময় এর মূলোৎপাটন করা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ যাতে বিস্তার লাভ করতে না পারে এ জন্য গোয়েন্দারা কাজ করছেন।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জঙ্গীবাদ দমনে ইসলামিক চিন্তাবিদদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তারাই মূলত জঙ্গীবাদ দমনের ক্ষেত্রে বিশেষ ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান বলেন, যারা ইসলামের অনুসারী তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে থাকতে পারে না। পুলিশ ও ওলামা-মাশায়েখদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। নিজেদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে।

ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গীরা ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। জঙ্গীবাদে জড়িতদের অধিকাংশই ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী। নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আল কায়েদা, তালেবান, হালের আইএস এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে। মূলত পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে উঠতি যুবক ও তরুণদের জঙ্গীবাদের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আলেম-ওলামারা যদি পবিত্র ইসলাম ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন, তাহলে যুবকরা বিপথগামী হবে না। জঙ্গীবাদও দেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গীবাদকে ঘৃণা করে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মোঃ মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) মোঃ মঈনুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মোঃ আবুল কাশেম, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শাইখুল হাদিস ও প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল জামে আতুস সাহাবাহ হযরত মাওলানা রুহুল আমীন খান উজানী, মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন সাইফী, হযরত মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, হযরত মাওলানা আইয়ুব আনসারী, হযরত মওলানা যাইনুল আবেদীন, হযরত মওলানা হাবীবুর রহমান খান, হযরত মাওলানা শোআইব আহমদ, হযরত মাওলানা নাসীরুদ্দীন কাসেমী, হযরত মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন ও হযরত মাওলানা আব্দুল হকসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।