২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিষদাঁত


পাকিস্তান নামক অকার্যকর রাষ্ট্রটির বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের সময়। সেদিন বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত মিত্র বাহিনীর কাছে মাথা নত করেছিল তারা। ভাবা হয়েছিল, একাত্তরের নয় মাস বাংলাদেশে দখলদার বাহিনী হিসেবে যে গণহত্যা চালিয়েছে, পাকিস্তানীরা সেজন্য প্রথমেই ক্ষমা চাইবে এবং সেইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের বিচার করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং তাদের বিষদাঁত যেন নতুন করে গজাতে থাকে। তারা আজও ক্ষমা চায়নি। এমনকি ত্রিদেশীয় সিমলা চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেনি। বরং বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে তারা স্বাধীনতার পর থেকেই অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। স্বাধীন বাংলাদেশকে আবারও পদানত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের এজেন্টরা সেই ১৯৭২ সাল থেকেই তৎপর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ সময় পাকিস্তানপন্থীরা এদেশের শাসন ক্ষমতায় থেকে এদেশে পাকিস্তানের সেবাদাসে পরিণত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এদেশে আইএসআইয়ের তৎপরতা হ্রাস পায়। তবে তাদের এদেশীয় এজেন্টরা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয়। এমনকি জঙ্গীবাদী তৎপরতায় পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাটি নেপথ্যে অর্থ, অস্ত্র সহায়তাসহ প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অপপ্রচারও চালাচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশী-বিদেশী নানা চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর ও এজেন্ট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তারা আর ষড়যন্ত্র করে দেশের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

পাকিস্তান সরকার এখনও রাজাকার, আলবদরদের রক্ষায় নানা ফন্দিফিকির চালাচ্ছে। জঙ্গীবাদে মদদদানে পাকিস্তানের দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জড়িত বলে গোয়েন্দারা চিহ্নিত করেছে। এর আগে এ বছরের গোড়ায় একই ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত থাকায় দূতাবাসের কর্র্মকর্তা মাযহার খানকে বাংলাদেশ বহিষ্কার করে। এবার নারী কূটনীতিকের বিরুদ্ধে জঙ্গীদের অর্থায়নে জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। ঢাকায় চার জেএমবি জঙ্গীকে গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এরা ভারতীয় জাল মুদ্রা চালান ও মাদক পাচারের সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে এবং এদেশকে জঙ্গী দেশে পরিণত করতে আইএসআই এখনও যে তৎপর তা স্পষ্ট। আর কূটনীতিকরা সেই কাজে জড়িত। পাকিস্তানের জন্য এটাই স্বাভাবিক। কারণ দেশটি জঙ্গী তৈরির উৎস। জেএমবির সদস্যদের সঙ্গে এই কূটনীতিকদের যোগাযোগের তথ্য বিস্ময় জাগায়। একটি স্বাধীন শান্তিপ্রিয় দেশকে জঙ্গীবাদীদের বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। যা তারা অতীতেও বহুবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের বিরোধিতা করে বিবৃতি শুধু নয়, জাতিসংঘের কাছে আবেদনও করেছে যুদ্ধাপরাধী বিচারের আদালতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে। এই আদালত বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও কামনা করেছে। সর্বশেষ দাবি করছে বাংলাদেশে কোন গণহত্যাই হয়নি। নৃশংসভাবে ত্রিশ লাখ মানুষ হত্যার ঘটনা বিশ্ববাসী জানে। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রদেরও হত্যা করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানীদের এই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য অসহনীয়। সেইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি অভিনন্দনযোগ্য। পাকিস্তান যদি বাংলাদেশ প্রশ্নে এখনও সতর্ক না হয়, তাহলে তার নতুন গজানো বিষদাঁত আবারও ভেঙ্গে দিতে হবে। বাংলাদেশ কারও কাছে মাথা নত করে না, করবেও না।