মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস আগামীকাল

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:৫৮ এ. এম.
নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস আগামীকাল

নিজম্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ ॥ নওগাঁ হানাদার মুক্ত দিবস আগামীকাল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকি-হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও উত্তরের নওগাঁ জেলা হানাদারমুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর। সারাদেশের বিজয় অর্জনের দু’দিন পর নওগাঁর মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করে। পাকি-হানাদাররা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানালে আজকের এই দিন ১৮ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনা বাহিনীর মেজর চন্দ্র শেখর মিত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রতাপশালী হানাদার বাহিনী। পরে তারা সারিবদ্ধ হয়ে পায়ে হেঁটে মাথা নীচু করে নওগাঁ ত্যাগ করে।

১৯৭১’ এর ১৬ ডিসেম্বর বেতার তরঙ্গ মারফত খবর আসে, ঢাকায় পাকি-হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। ১৭ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৭ টায় কমান্ডার জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী ফতেপুর থেকে সড়ক পথে নওগাঁ শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। পথিমধ্যে কাদোয়া- খলিসাকুড়ি গ্রামের মাঝপথে পৌঁছতেই হানাদাররা সন্ধি ভঙ্গ করে মুক্তিবাহিনীর ওপর গুলি বর্ষন শুরু করে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের পানির ট্যাঙ্কির ওপর থেকে পাকি-হানাদাররা গুলি চালাতে থাকে। জালাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের রাস্তার দু’পাশে অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হবার নির্দেশ দেন। মুক্তিযোদ্ধারা যতই অগ্রসর হতে থাকেন, হানাদারদের গুলিবর্ষনের মাত্রা ততই বাড়তে থাকে। এক পর্যায় মুক্তিবাহিনী জগৎসিংহপুর ও খলিসাকুড়ি গ্রামে অবস্থান নিলে দুই বাহিনীর মধ্যকার দূরত্ব একেবারেই কমে যায়। এ অবস্থায় হানাদার বাহিনী শেলের গোলা নিক্ষেপ করলে জালাল হোসেন চৌধুরী তার দলকে তখন পাল্টা গুলি চালাবার নির্দেশ দেন। বেঁধে যায় উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ। ১৮ ডিসেম্বর শনিবার সকাল বেলা ভারতীয় সেনা বাহিনীর মেজর চন্দ্র শেখর মিত্র তার মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীদের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ শহরে প্রবেশ করেন। পাকি-বাহিনীর তখন আর কিছুই করার ছিলনা।

সেসময় প্রায় ২ হাজার পাকি-সেনা শহরের সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পিএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাবেক থানা চত্বর (বর্তমান এসপির বাংলো) থেকে কেডি স্কুল হয়ে সাবেক এসডিও অফিস চত্বর ( বর্তমান ডিসির বাংলো) পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে আত্মসমর্পন করে। আত্মসমর্পনের পর বিকেলে হানাদার বাহিনী ভারতীয় সেনা বাহিনীর (মিত্র বাহিনী) দ্বারা বেষ্টিত হয়ে পায়ে হেঁটে নওগাঁ ত্যাগ করে। ওইদিন ১৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় নওগাঁ।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:৫৮ এ. এম.

১৭/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: