১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নতুন বছরের শুরুতেই ফোরজি স্পেকট্রাম বরাদ্দ হচ্ছে


ফিরোজ মান্না ॥ বিটিআরসি চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) মোবাইল সেবার নিলামের জন্য গাইডলাইন তৈরি করেছে। এই গাইডলাইন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুমতিও পেয়েছে। ফোরজি এবং এলটিইর (লং টার্ম এভিলিউশন) কাজ শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭শ’ মেগাহার্জ তরঙ্গ ও এক হাজার ৮শ’ মেগাহার্জ তরঙ্গের ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষ নীতিমালা হচ্ছে, যাতে একটা তরঙ্গ দিয়ে থ্রিজি ও ফোরজি চালানো যায়। তাতে ব্যয়ও কম হবে। এতে গ্রাহক সুবিধা বাড়বে। টেলিকম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরি করার কাজও শুরু করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সাইবার সিকিউরিটি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি বলেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ফোরজি সুবিধার নিলাম অনুষ্ঠান করা হবে। এ সরকারের মেয়াদেই ফোরজি মোবাইল ফোন (চতুর্থ প্রজন্ম) সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আমরা থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্মের) ফোনসেবা বাস্তবায়ন করেছি। থ্রিজি সেবা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে অল্পদিনের মধ্যে। এক জায়গায় থেমে থাকতে চাই না। তথ্যপ্রযুক্তিতে শুধু একটা টার্গেটে খুশি হতে চাই না, তথ্যপ্রযুক্তির সব সেক্টরের উন্নয়ন নিয়েই খুশি হতে চাই। ২০১৬ সালে ফোরজির স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হবে। একই বছরে ফোরজি সেবা গ্রাহকরা ব্যবহার করতে পারবেন।

দেশের গ্রামাঞ্চলেও এ সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। উদ্দেশ্য গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য কমানো। শহরের মানুষ শুধু প্রযুক্তির সেবা পাবেন আর গ্রামের মানুষ পাবেন নাÑ এমন বৈষম্য রাখা হবে না। দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে নিতে হলে সারাদেশেই সমভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার এ উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেট হয়ে যাচ্ছে আমাদের সাধারণ একটি সেবা, ভবিষ্যতের জন্য করতে হবে ইন্টারনেট নিউট্রালিটি বা নেট নিউট্রালিটি পলিসি। একটি স্ট্রং পলিসি করা হবে, যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে; ইন্টারনেট যাতে সব মানুষের কাছে সমান থাকে ও কম খরচে সবার কাছে পৌঁছানো যায়। সূত্র জানিয়েছে, দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারা একের পর এক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই হবে মূল কাজ। স্বপ্নের অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হলেও চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে আরও অনেক দূর পথ হাঁটতে হবে। এজন্য ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে আরও অনেক উন্নয়ন করতে হবে। এখনই মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মানুষের উন্নয়নই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। সব জায়গায় দুর্নীতি হলেও কম্পিউটার কখনও দুর্নীতি করে না। দেশের প্রতিটি মানুষকে যেন সরকারী সেবা পেতে কষ্ট না হয় সেজন্য গ্রামপর্যায়ে কম্পিউটার নিয়ে যাওয়া হবে। যখন দেশের সব অফিস তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আসবে দুর্নীতি বহুগুণে কমে যাবে। ধীরে ধীরে সেই কাজটিই করা হচ্ছে।

গত ছয় বছর আগে ডিজিটাল বলে তেমন কিছু ছিল না। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করছে। তৈরি করা হয়েছে ডাটা ব্যাংক। এখানে দুই লাখের বেশি সরকারী ডাটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবার আগে দরকার সাইবার সিকিউরিটি। এটাও করা হবে, যাতে সাইবার হামলায় কোন তথ্য বিলীন না হয়ে যায়। আর এটা করতে পারলে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তি আরও শক্ত হবে। যদি সাইবার সিকিউরিটি না তৈরি করা যায় তাহলে এগুলোকে রক্ষা করা মুশকিল হবে।

এদিকে বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালে তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দ দেয়া হবে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে থ্রিজি প্রযুক্তির সেবা চালু করে দেশের পাঁচটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান। থ্রিজি’র অতিরিক্ত কিছু তরঙ্গ নিলামের তারিখ দেয়া ছিল। তবে ট্যাক্সেশন ও অন্যান্য কারণে অপারেটররা অংশ নিতে চায়নি। এখন তারা বলছে আবার অংশ নেবে। আরও উন্নত সেবার জন্য তাদের বাড়তি তরঙ্গ প্রয়োজন। গাইডলাইন ঠিক হয়েছে, দ্রুত থ্রিজি’র বাকি তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী দিনগুলোতে টেলিযোগাযোগ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইন্টারনেট নিরাপত্তায় সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য কাজও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ একদল লোক এ খাতে নিয়োগ করা হবে। গ্রাহকদের সুবিধা অনুযায়ী ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ মূল্য কমানো হয়েছে, যাতে নিম্ন আয়ের মানুষও ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরি হলে গ্রামের মানুষও সহজেই ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।

টেলিকম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩০ হাজার দক্ষ জনবল গড়ে তুলছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট এ্যান্ড ইয়ং ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড গবর্নেন্স (এলআইসিটি) যৌথভাবে বিশ্বমানে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই ৩০ হাজার মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশে-বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবেন। এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদী এ প্রকল্প কয়েকটি ধাপে শেষ করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে শতকরা ৬০ শতাংশ তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষদের বিদেশে চাকরি হবে বলে জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রশিক্ষণে ৩০ হাজারের মধ্যে ১০ হাজার আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) ও সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটকে দেয়া হবে ‘টপ আপ আইটি প্রশিক্ষণ’। বাকি ২০ হাজার জনকে উচ্চমাধ্যমিক ও গ্র্যাজুয়েটকে দেয়া হবে ফাউন্ডেশন স্কিল প্রশিক্ষণ। টপ আপ আইটি প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ তরুণ-তরুণীকে দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবে আর্নস্ট এ্যান্ড ইয়ং। গত ১৩ জানুয়ারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট এ্যান্ড গবর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্প এবং আর্নস্ট এ্যান্ড ইয়ংয়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগেই ৩০ হাজার তরুণ-তরুণীকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আর্নস্ট এ্যান্ড ইয়ং। তারা এ সময়ের মধ্যে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন।