মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অনৈতিক আচরণ ॥ মহিলা বাস সার্ভিস

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫
  • আবুল বাশার শেখ

আধুনিক যুগে জীবিকার তাড়নায় বা আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার জন্য কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে ছুটে যাচ্ছেন নারীরা। সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা দিয়েই নিজের জায়গা করে নিতে হচ্ছে তাদের। ঘনবসতিপূর্ণ শহর কিংবা গ্রামগুলোতে প্রতিদিনের কাজে এমনিতেই মানুষকে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। তারপরও বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগেই চলছে মানুষ। রাস্তা ঘাটে তাই অহরহ ঘটছে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা। যাতায়াতের জন্য কর্মজীবী মানুষকে অধিকাংশ সময় গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কর্মজীবী নারীরাও বাদ যায় না।

রাজধানী কিংবা জেলা শহরগুলোতে চলাচলকারী প্রত্যেক বাসেই নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ থেকে নয়টি আসন সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই ওই আসনগুলো চলে যায় পুরুষদের দখলে। এই সময়ে কোন নারীযাত্রীকে বাসে তুলতে এক ধরনের অনীহা দেখা যায় চালক ও হেলপারদের মধ্যে।

ধরুন রাত ৯টা বাজে, এক জন মহিলা যাত্রী কোন বাসেই তিনি উঠতে পারছেন না ভিড়ের কারণে। কোনো বাসে উঠতে গেলে হেলপার বলে উঠছে, ‘আপা মহিলা সিট নেই, উঠা যাইবো না।’ কোন বাসের চালক বলছেন, ওই ‘মহিলা’ উঠাইস না, প্যাসেঞ্জার ক্যাঁচাল করবো। পিছিয়ে থাকছেন না বাসে জায়গা করে নেয়া পুরুষ যাত্রীরাও। তারাও বলছেন, ওই হেলপার ‘মহিলা’ উঠাইস না...সিট ছাড়তে পারুম না। এটা রাতের বেলা চলাচলকারী অধিকাংশ বাসগুলোর চিত্র। যেসব মহিলারা বেসসরকারী কোম্পানিতে কাজ করেন, তাদের অফিস শেষ করে বের হতে রাত ৯টা বেজে যায়। কোন যাত্রীর করুণা, কারও তাচ্ছিল্য, কারও বিরক্তিকর দৃষ্টি, কারও কৌতূহল, কারও লোলুপ দৃষ্টির ভেতর দিয়ে প্রতিদিন যুদ্ধ করেই তাদের বাসে যাতায়াত করতে হয়। এই গল্প শুধু একা এক জনের নয়। শহরের বাসে যাতায়াত করতে হয় যেসব নারীদের, তাদের প্রত্যেকেরই গল্প এটা। মহিলা চাকরিজীবী ছাড়াও কোন প্রয়োজনে যাদের বাসে উঠতে হয় তাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। রাতে যে সকল পুরুষ ‘মহিলা সিটে’ বসে থাকে তারা সিট ছাড়ার ভয়ে হেলপারকে নারীযাত্রী তুলতে নিষেধ করেন। জোর করে কোন নারী যদি বাসে উঠেও যান তখন পুরুষ যাত্রীরা হেরপারকে গালিগালাজ শুরু করে।

এ প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, ‘বাসে নারী দাঁড়িয়ে থাকলে সব যাত্রীর সমস্যা হয়। নারী-পুরুষ চাপাচাপি করে দাঁড়িয়ে থাকলে উভয়েরই অস্বস্তি লাগে। তাছাড়া একজন নারীর স্থানে তিন জন পুরুষ বাসে দাঁড়াতে পারেন। এ কারণে আমার মনে হয় বাসে মহিলা সিটের সংখ্যা বাড়ানো উচিত।’

রাজধানীতে নারীদের সহজ যাতায়াতের লক্ষ্যে বিআরটিসি চালু করা ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ কাগজে থাকলেও বাস্তবে এর তেমন দেখা মেলে না। ২০১২ সালে ৮টি বাস নিয়ে চালু হওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মের কারণে এখন অনেকটাই বন্ধ হওয়ার পথে এ সেবা। ফলে প্রতিদিনই নারী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে মারাত্মক ভোগান্তিতে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি-ভর্তুকি দিয়ে এখনও চালু রাখা হয়েছে সেবাটি। মহিলা যাত্রীরা বরং ঠিকমতো বাসে ওঠেন না।

মহিলা বাস সার্ভিস চালু হওয়ার দুই বছর পর ২০১৪ সালে বাড়ানো হয় বাস ও রুটের সংখ্যা। সে বছর সাতটি রুটে চালু করা হয় মোট ১৬টি বাস। মূলত অফিসগামী নারীদের নিরাপদ আসা-যাওয়ার জন্যই এ সেবাটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরুতেই প্রায় সব ক’টি রুট থেকে সেবাটি তুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে মাঝে মধ্যে এক দু’একটি বাসের দেখা মিললেও সেগুলো দখল করে রাখে পুরুষরাই। এ ক্ষেত্রে রাস্তাগুলোতে সঠিক ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সর্বোপরি নারীদের প্রতি আমাদের দায়িত্বশীলতায় পারে গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ যাতায়াত।

ভালুকা, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫

১৭/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: