১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এবারের বিষয় ॥ গণপরিবহনে নারীযাত্রী


আমাদের দেশটা এখনও কিছুটা গরিব বলেই রাস্তাঘাটের উন্নতি সেভাবে হয়নি। তার উপর গণপরিবহনের অপ্রতুলতা তো আছেই। তাছাড়া দেশের সম্পদের বৈষম্যের ফলে সামান্য কিছু লোকের হাতে রয়েছে অঢেল ঐশ্বর্য এবং এই সামান্য লোকের জন্যই রয়েছে অসংখ্য ব্যক্তিগত যানবাহন, যার ফলে সাধারণ লোকের চলাচলের জন্য যানবাহনের সংখ্যা কম। কিন্তু বিভিন্ন অফিস আদালত, কল-কারখানা স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটিতে যাওয়া-আসা সাধারণ লোকেরই বেশি। সবারই থাকে কর্মক্ষেত্রে সময়মতো পৌঁছাবার প্রচ- তাগিদ। তার উপর আছে নিত্যদিনের চিরচেনা অসহ্য যানজট। কাজেই এই যাতায়াতের অভিজ্ঞতা কারোরই তেমন সুখের হওয়া সম্ভব নয়। তবে এর ভিতরে মেয়েদের ঝক্কিঝামেলা যে ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাস্তাঘাটে কিছু কিছু বাস ছাড়া বেশির ভাগ বাসেরই দাঁড়াবার কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি ছেলেরা যত সামাল দিতে পারে মেয়েদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাই যেখানে সেখানে হুড়োহুড়ি করে নামতে অথবা উঠতে গিয়ে মেয়েরা অনেক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। খেতে হয় কন্ডাক্টর হেলপারের ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা আর গুঁতো।

গণপরিবহনে সব ধরনের লোকই যাওয়া-আসা করে। এদের সবাই যে সুরুচিপূর্ণ হবে এতটা আশা করা হয়ত ঠিক নয়। পৃথিবীর সব দেশেই সর্বস্তরেই অজস্র কুরুচিপূর্ণ লোকজনের বসবাস। এরা হয়ত অনেকেই তথাকথিত শিক্ষিত। ভদ্রতার মুখোশ পরে এরা সমাজে চলাফেরা করে। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল পেলেই এরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। আর বাসে ট্রামে যেহেতু বেশির ভাগ সময়ই গাদাগাদি করে চলতে হয় তখনই খুলে পড়ে এদের ভদ্রতার মুখোশ। কোন কোন সময় বেপরোয়া হয়ে ওঠে এদের আচরণ। তাছাড়া যে কোন অশালীন আচরণ করে সটকে পড়া সহজ বলে এরা এ ধরনের আচরণ করে। এছাড়া সুযোগ পেলেই এরা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বসে। অথবা বিভিন্ন রকম অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। এতে হয়ত তারা এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পায় ঠিকই কিন্তু মেয়েদের পোহাতে হয় এক অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক আঘাতের চেয়ে মানসিক আঘাত অনেক সময় অনেক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে। এতে মেয়েরা নিজেদের উপর অনেক সময় আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।

আমাদের দেশের অসংখ্য মেয়ের এখন বাইরে চলাফেরা করতে হয়। তাই যাতায়াতের এই সমস্যার আশু একটা সমাধান প্রয়োজন। আর এ জন্য সরকারী প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। মনে রাখতে হবে যে দেশে মেয়েদের চলাফেরা নিরাপদ নয় সে দেশের সর্বাঙ্গীন উন্নতি কখনই সম্ভব নয়। মহাখালী, ঢাকা থেকে