মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

যুদ্ধাপরাধীর স্বজনদের আস্ফালন পীড়া দেয় ॥ নূরুল আবছার

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫
  • মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাতকার

বিডিনিউজ ॥ একাত্তরে চট্টগ্রামে গেরিলা হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানী বাহিনীর এ দেশীয় দোসরদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও স্বাধীন দেশে তাদেরই বংশধরদের আস্ফালন পীড়া দেয় মুক্তিযোদ্ধা কাজী নূরুল আবছারকে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং কয়েকজনের দণ্ড কার্যকরের পরও এ আস্ফালন ও উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী বলেও মনে করেন তিনি।

এক সাক্ষাতকারে গেরিলাযোদ্ধা নূরুল আবছার যুদ্ধকালীন স্মৃতি, ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে দেয়া সাক্ষ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিসহ নানাবিষয়ে কথা বলেন।

১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এ মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকে চট্টগ্রাম শহর ও রাঙ্গুনিয়ায় সক্রিয় ছিলেন। গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায় হলেও একাত্তরে ছিলেন নগরীর চন্দনপুরা এলাকার বাসায়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মে মাসের শেষদিকে ফটিকছড়ি হয়ে সাব্রুম সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান তিনি। সেখানকার ১ নম্বর সেক্টরে নয়দিনের গেরিল ট্রেনিং নিয়ে ফিরে আসেন চট্টগ্রাম শহরে।

গেরিলা হিসেবে তার কাজ ছিল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রেনেড ফাটিয়ে রাজাকার ও পাকবাহিনীকে তটস্থ রাখা। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে চন্দনপুরায় ডাঃ ছমিউদ্দিনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় সালাউদ্দিন কাদেরের গাড়ি বহরে গ্রেনেড হামলা করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল। ওই দলেও তিনি ছিলেন।

“স্থানীয় হওয়ায় আমার দায়িত্ব ছিল তার (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) গতিবিধির ওপর নজর রাখা। ছমিউদ্দিনের ছেলে আজিজ উদ্দিনের কাছ থেকে কৌশলে ওগুলো জেনে নিই।

“আমাদের কাছে খবর ছিল সাকা নিজেই গাড়ি চালাবে। সে অনুযায়ী গ্রেনেড হামলা ও গুলি করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওইদিন তার গাড়িচালক গাড়ি চালাচ্ছিল।”

হামলায় সাকার গাড়িচালক স্পিøন্টারবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল।

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে চালানো ওই হামলাকারী দলে আরও ছিলেন মাহবুবুল আলম, ফজলুল হক ভূঁইয়া ও সৌরিন্দ্র সেন।

হামলার পর নূরুল আবছার রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতে চলে যান। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত সেখানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের সংগঠিত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করে গেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাকা চৌধুরীর বিচার শুরু হলে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি। তাদের দেয়া সাক্ষ্যেই প্রমাণিত হয়, একাত্তরে সাকা চৌধুরী পাকিস্তানে নয়, দেশেই ছিলেন।

গত ২২ নবেম্বর যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

চট্টগ্রামের বাম রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ নূরুল আবছার যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ ‘ক্রোক’ এবং তা নিলামে বিক্রির করে অর্থ একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে দেয়ার দাবি জানান।

“পাশাপাশি আগামী দুই-তিন প্রজন্ম যাতে যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের কেউ সরকারী আনুকূল্য বা চাকরি না পায় সেটাও নিশ্চিত করা হোক।”

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫

১৭/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: