১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চাঁপাইয়ে বিএনপি সমর্থকরা এখন নৌকার যাত্রী


ডি. এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ প্রতীক বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থী-সমর্থকরা দলবেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের একক সামিউল হক লিটন নৌকা নিয়ে আছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী জামায়াত হতে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র আতাউর রহমান দারুণ বেকায়দার মধ্যে পড়ে ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্ন সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। এছাড়াও জামায়াতের নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নজরুল ইসলামের ভোট না চেয়ে বিএনপি প্রার্থীকে হারাতে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বহু বিএনপিকর্মী এবার রাগে-ক্ষোভে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতিনের পক্ষ নিয়ে মাঠে রয়েছে। অনেকেই উঠেছে নৌকায়। তাদের লক্ষ্য বিএনপি প্রার্থীর ভরাডুবি। এই সুযোগকে পুরোপুরি ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বয়সে তরুণ অর্থে ভরপুর সাবেক সিএ্যান্ডএফ (সোনামসজিদ) নেতা সামিউল হক লিটন। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পর্দার আড়াল থেকে বহু বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে তাদের বড়মাপের সমর্থকদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। আর তাই খোদ শহরের ১৫নং ওয়ার্ডের টাউন হাই স্কুলের মতো বিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে বিএনপির এক নেতাকে। একই ভাবে প্রেসক্লাব সেন্টু মার্কেট রোড়ে একাধিক বিএনপিকর্মীকে দেখা গেছে নৌকার পক্ষে কাজ করতে ও প্রচার চালাতে। যেসব কর্মী এবার আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছে তাদের অনেকেই অতীতে কাজ করেছে বিএনপি কিংবা জামায়াতের পক্ষে। এদিকে প্রতীক পাওয়ামাত্র ভোটের মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছে কাউন্সিলর প্রার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ৭৪ কাউন্সিলর ও ২৫ মহিলা কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। সকল প্রার্থী ছুটছে উর্ধশ্বাসে। প্রতিটি মহল্রার কিশোর শ্রেণীর কম বয়সের ছেলেরাও বিভিন্ন প্রার্থীর জন্য মহল্লায় মিছিল করছে সারাদিন। বিনিময়ে লজেন্স, চানাচুর, বিস্কিট, পাউরুটিসহ টাকা পাচ্ছে। তাই এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচের পরিমাণ খুবই বেড়ে গেছে। অনেক প্রার্থী নগদ টাকা হাতে রাখার জন্য ধারকর্য ও জমিজমা বিক্রি করা শুরু করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার স্বতন্ত্র নামের জামায়াতের মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম নাশকতার মামলায় পলাতক থাকলেও তার পক্ষে মহিলা কর্মীরা যাচ্ছে ঘরে ঘরে। তবে আগের মতো বলছে না জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেস্ত পাওয়া যাবে। কৌশল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে। তবে তারা কাউন্সিলর পদে ১৫ প্রার্থী একক হওয়ার কারণে খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতের পুরুষ সমর্থকরা একই সঙ্গে কাউন্সিলর ও মেয়রের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। অপর মেয়রপ্রার্থী বিএনপি সমর্থক জামায়াত হতে বহিষ্কৃত আতাউর রহমানকে প্রথমেই জবাব দিতে হচ্ছে কেন জামায়াত তাকে বহিষ্কার করেছে। অপর মেয়রপ্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) বর্তমান মেয়র মাওলানা মতিনকেও পড়তে হচ্ছে প্রশ্নবাণে পাঁচ বছরে কোন দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ার কারণে। সব মিলিয়ে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামিউল হক লিটন খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নৌকা মার্কার প্রার্থী।