১১ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দুই বছর পর মাঠে গড়াচ্ছে ঘরোয়া হকি


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অনেক জল ঘোলা করে অবশেষে হকিতে সৃষ্ট সঙ্কটের অবসান হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর আবারও মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ঘরোয়া কোন হকির টুর্নামেন্ট। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ৭ দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ফুয়াং পরিলমার বিজয় দিবস হকি।’ তবে দল বদল না হওয়াতে এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না প্রিমিয়ার লীগের ক্লাবগুলো। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিজয় দিবস হকিতে অংশ নিচ্ছে ক্লাবগুলো। ‘ক’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ। ‘খ’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বিকেএসপি, রক্তিম সংঘ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা। দুটি গ্রুপে দলগুলো প্রথম রাউন্ডে লীগ ভিত্তিতে খেলবে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল খেলবে সেমিফাইনালে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

টুর্নামেন্টের মোট বাজেট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা দিয়েছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ফুয়াং পলিমার। চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ৫০ হাজার টাকা, রানার্সআপ দল পাবে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া সেরা খেলোয়াড় এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার জন্য রয়েছে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার। সোমবার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টুর্র্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মাইনুজ্জামান পিলা। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে এসএ গেমসের হকি ক্যাম্পের সব খেলোয়াড়ই। তাই টুর্নামেন্টটা এই খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণের একটা সুযোগও বটে। এই টুর্নামেন্টে তাদের পারফর্মেন্স দেখেই চূড়ান্ত দল বাছাই হবে। তাই খেলোয়াড়রা নিজেদের জানপ্রাণ দিয়েই খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লীগের প্রায় দু’বছর পর কোন ঘরোয়া আসর হতে যাচ্ছে হকিতে। দীর্ঘ সময় পর ঘরোয়া কোন আসরে খেলতে পেরে স্বভাবতই আনন্দিত দেশের হকি খেলোয়াড়রা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় দলের কোচ মাহবুব হারুন বলেন, ‘ঘরোয়া লীগ বা টুর্নামেন্ট ছাড়া কোন খেলাই উন্নতি করতে পারবে না। সব খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে যখন একটা টুর্নামেন্ট হয় সেটি অবশ্যই হকির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।’ সামনেই এসএ গেমস। এই টুর্নামেন্ট এসএ গেমসের জাতীয় দলের জন্য কতটা কাজে আসবে? হারুন জানান, ‘প্রায় দেড় মাস হলো অনুশীলন হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে দিয়ে বুঝতে পারব ম্যাচে তারা কেমন খেলবে। যদিও তারা কম্বাইন্ড খেলবে না। তারপরও যার যার পজিশনে কতটুকু উন্নতি করতে পেরেছে। কতটুকু ফিটনেস আছে বুঝতে পারব।’ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই এসএ গেমসের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে বলে জানান কোচ। মূল দলে ১৮ জন এবং স্ট্যান্ডবাই ৪ জনকে নিয়ে হবে ২২ জনের চূড়ান্ত দল। ইনজুরি কাটিয়ে ইতোমধ্যেই দলে ফিরেছেন খোরশেদ। সেনাবাহিনীর ফরোয়ার্ড পুস্কর ক্ষিসা মিমো বলেন, ‘এসএ গেমসের আগে বিজয় দিবস হকি ছাড়া কোন টুর্নামেন্ট নেই। আশা করি এ টুর্নামেন্টে অনেক উন্নতি হবে আমাদের। পুরো দলে ফিজিক্যালি এবং প্র্যাকটিক্যালি সবাই ভাল। যারা নৌ বাহিনীতে গিয়েছেন ট্রেনিংয়ে, তারা আসবেন কাল-পরশুর মধ্যেই।’

ডিফেন্ডার মামুনুর রহমান চয়ন বলেন, ‘নীল টার্ফটা বসার পর তেমন একটা টুর্নামেন্ট খেলতে পারিনি। খুব আফসোস লাগছিল। নতুন একটা টুর্নামেন্ট খেলতে পারছি। শুধু আমি নই, সব হকি খেলোয়াড়রাই খুশি।’ এসএ গেমসে গতবার তাম্রপদক জিতেছিল, বাংলাদেশ স্বভাবতই এবার আগের চেয়ে ভাল রেজাল্ট করতে চাইবে। হকির দীর্ঘদিনের সঙ্কটের কারণে দীর্ঘ ২২ মাসে বদলে গেছে হকির চিত্র। দল বদল না হওয়াতে বাধ্য হয়েই খেলোয়াড়রা ক্লাবের বাদ দিয়ে দলে দলে যোগ দিয়েছেন সার্ভিসেস দলে। এবার নৌ বাহীনিতে চূড়ান্তভাবে চাকরি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ৭ হকি খেলোয়াড়। এরা হলেনÑ জিমি, সারোয়ার, কৌশিক, অসীম, রুম্মান, ইমন এবং শিটুল।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: