মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

বিজয়ের মাসে অঁদ্রে মালরোকে স্মরণ

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫
  • নীলুফার বেগম

আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু বিশ্ববরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ফরাসী সংস্কৃতিমন্ত্রী অঁদ্রে মালরোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বব্যাপী একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

অঁদ্রে মালরো আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া হয়নি তার। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশে আসেন। সেবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রদের উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ,

আজ আমি প্রথমবারের মতো কথা বলছি পৃথিবীর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের সামনে, যাদের শহীদের সংখ্যা অনেক বেশিÑ জীবিতের চেয়ে।

২১ এপ্রিল ১৯৭৩

তার ঐ উদ্ধৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালরো বাগানের উদ্বোধনী ফলকে লেখা আছে তার ছবির পাশে ফরাসী ও বাংলা ভাষায়।

তার ঐ উদ্ধৃতি থেকে বোঝা যায়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার দরদী মনের শক্তিশালী সমর্থন কতটা ছিল। তিনি ইহজগতে নেই, ১৯৭৬ সালে মারা যান। কিন্তু বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের পাশ ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অঁদ্রে মালরো গার্ডেন। ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল ঐ গার্ডেন উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল ট্রিনকুইয়ার, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক মি. অলিভার লিটভিন, ফ্রান্সের উল্লেখীয় ব্যক্তিত্ব মি. বার্নাড হেনরি লেভিও প্রমুখ। এদের নাম ঐ ফলকে লেখা আছে অঁদ্রে মালরোর প্রতিকৃতি আঁকিয়ে চিত্রশিল্পীর নামসহ। এখানে উল্লেখ্য, ঢাকাস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্র সমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থানরত ছোট বোনের ছেলে উপরে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী জলিলুর রাব্বি তামিমকে দিয়ে অঁদ্রে মালরোর প্রতিকৃতি আঁকিয়ে গার্ডেনের স্মৃতিফলকে সন্নিবেশিত করা হয়। এই বিজয়ের মাসে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ও বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু অঁদ্রে মালরোকে কৃতজ্ঞতাসহ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

লেখক : সাবেক যুগ্ম সচিব

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

১৬/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: