মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অভিযোগ গুরুতর

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

গত বছরের গোড়ার দিকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৬ সদস্য সাভারে গ্রেফতার হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের ভেতর পুলিশের সোর্স, পুলিশ সদস্য এবং সাবেক সেনা সদস্য থাকায় অস্বস্তিও তৈরি হয়েছিল বটে। ওই অভিযানে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে র‌্যাব-৪-এর একজন ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় র‌্যাবের তথা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তির উন্নতি ঘটে। কিন্তু দুঃখজনক হলো সম্প্রতি র‌্যাব-পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন নাগরিককে ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় র‌্যাব-পুলিশের ভূমিকা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়ার মতো পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারীরা আসলেই পুলিশ। অপরদিকে রাজশাহীতে ছাত্রলীগের নেতাকে তুলে নেয়ার ঘটনায় র‌্যাব জড়িত নয় বলে দাবি করেছে র‌্যাব। কথা হচ্ছে, র‌্যাব-পুলিশ পরিচয়ে হোক বা অপহরণকারী গোষ্ঠীর প্রকৃত পরিচয়েই হোক, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে যাবতীয় অপহরণের বিরুদ্ধে র‌্যাব-পুলিশকেই তৎপর হতে হবে। যখন খোদ র‌্যাবের বিরুদ্ধেই অপহরণের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, তখন র‌্যাবের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থেই এই বাহিনীর কাছ থেকে জনগণ অতিরিক্ত সক্রিয়তা আশা করে।

অপরাধ যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা তাদের কেউ যদি অপরাধ করে সে ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়া উচিত কঠোর এবং দৃষ্টান্তমূলক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্য অপরাধকর্মে যুক্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব পুরো সমাজে পড়তে থাকে। তাছাড়া এ ধরনের অপরাধে যুক্তরা স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকারও হারিয়ে ফেলে। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গী সংগঠনের অপতৎপরতা দমনে এলিট ফোর্স র‌্যাব দেশের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন, অপহরণ, ভেজালবিরোধী অভিযান, অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে র‌্যাবের সাফল্য সর্বজনস্বীকৃত।’ দেশের মানুষ অপরাধ দমনে র‌্যাবের সাফল্য প্রত্যাশা করে। ভয়ঙ্কর অপরাধ দমনের লক্ষ্যে যে বাহিনী গঠন করা হয়েছে, অল্প ক’জন সদস্যের জন্য সেই বাহিনীর সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাকÑ এমনটা কারও কাম্য হতে পারে না।

আমরা মনে করি ওই সেলের লোকবল ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্কতা ও সচেতনতারও কোন বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫

১৬/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: