১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা চিরস্মরণীয়


স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা বাঙালী জাতি চির কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রেখেছে। যুদ্ধের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের অবদান ঈর্ষণীয়। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বিনির্মাণেও তারা বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো পাশে ছিল। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণে রুশ সেনাদের অবদান কোনভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। তবে ’৭৫-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের মাধ্যমে সে সম্পর্ক আবারও পুরনো রূপ পায়। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধ উৎসব ২০১৫ : থিমকান্ট্রি রুশ ফেডারেশন (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন)’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিজয়ের ৪৪ বর্ষপূর্তি লগ্নে রুশ মিত্রদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকাস্থ রুশ ফেডারেশন দূতাবাস, রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং সাউথ এশিয়ান মিউজিক ইনস্টিটিউট। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে ৯ মুক্তিযোদ্ধাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং রুশ নৌবাহিনীর আহত ও শহীদ সৈনিকদের প্রতি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া ওই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ডিমাইনিং অপারেশনে অংশগ্রহণকারী রুশ নৌসেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতা প্রাপ্তির সময় যেমন অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল ঠিক তেমনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বিনির্মাণে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আমাদের কোন খাবার ছিল না, তারা খাবার দিয়ে সাহায্য করেছে। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা ত্বরিত গতিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের অবদান কৃতজ্ঞার সঙ্গে স্মরণ করছি।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বন্ধ করতে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভোটে দিয়েছিল। তারা যদি ভোটে না দিত, তাহলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতো। ফলে আমরা আর স্বাধীনতার স্বাদ পেতাম না। এমনকি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ৭ম নৌবহর যদি পাঠানো না হতো; তবে যুদ্ধের শেষ পর্যায়টা ভিন্ন রকম হতো পারত। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের সদস্য পদ প্রাপ্তিতেও তাদের অবদান অতুলনীয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে যেখানে হাজার হাজার মাইন পুঁতে রেখেছিল হানাদার বাহিনী, তা অপসারণে রুশ বাহিনীর তিনজন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের চিরকৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি।

‘মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা’ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. আনু মাহমুদ বলেন, ’৭৫-এর পর দু’দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বন্ধুত্ব বিকাশে আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সজেন্ডার পি. ডেমিন তাঁর বক্তব্যে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রামে মাইন অপসারণে অংশ নেয়া রুশ সেনাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন।

ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান আজিজ, সাউথ এশিয়ান মিউজিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: